২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

আকাঙ্ক্ষার বস্তু নাকি পরম যত্ন, সম্পর্কে নিজেকে কীভাবে দেখতে চান?

সম্পর্কে যেমন দৈহিক আকর্ষণের প্রয়োজন আছে, তেমনি স্নেহ যত্ন ছাড়া কোনও সম্পর্ক বেশিদিন টেকসই হয় না।

আকাঙ্ক্ষার বস্তু নাকি পরম যত্ন, সম্পর্কে নিজেকে কীভাবে দেখতে চান?

সম্পর্কের শুরুতে তীব্র আকর্ষণ বা আকাঙ্ক্ষা মানুষকে কাছে টানে। ছবি: কে ক্রাফট।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 20 Sep 2026, 04:48 PM

Updated : 20 Sep 2026, 04:48 PM

গভীর রোমান্টিক সম্পর্কের নেপথ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া, যত্ন এবং শারীরিক আকর্ষণসহ নানান মনস্তাত্ত্বিক উপাদান একযোগে কাজ করে।

তবে সঙ্গীর কাছ থেকে কেবল ‘যত্ন ও সমবেদনা’ আশা করেন, নাকি ‘তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও আকর্ষণ’ চান; সেটিও সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে।

মনস্তাত্ত্বিক আচরণ গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, সম্পর্কের শুরুতে তীব্র আকর্ষণ বা আকাঙ্ক্ষা মানুষকে কাছে টানলেও, সম্পর্ককে আজীবন টিকিয়ে রাখতে যত্নের ভূমিকা অপরিসীম। এই দুই উপাদানের মনস্তাত্ত্বিক ভারসাম্য না বুঝে সম্পর্কে অবান্তর প্রত্যাশা তৈরি করলে স্নায়ুতন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদী অবসাদ ডেকে আনে।

মনস্তত্ত্ব-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘সাইকোলজি টুডে’-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও দার্শনিক ডা. অ্যারন বেন-জেভ দাম্পত্য সম্পর্কের এই জটিল মনস্তাত্ত্বিক সমীকরণ এবং ৩টি রূপরেখা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

ভালোবাসার ‘কেয়ার মডেল’ বা নিঃস্বার্থ যত্ন

ডা. অ্যারন বেন-জেভ বলেন, “মনস্তত্ত্বের ইতিহাসে ভালোবাসাকে অনেক সময় সঙ্গীর কল্যণার্থে সম্পূর্ণ আত্মত্যাগের এক অনন্য রূপ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।”

জার্মান বংশোদ্ভূত মার্কিন চিন্তাবিদ এরিখ ফ্রোম-এর ১৯৫৬ সালের ‘থিওরি’ এবং ‘ইমানুয়েল লেভিনাস’-এর মতবাদ অনুযায়ী, কোনো প্রকার পারস্পরিক প্রতিদানের আশা ছাড়াই সঙ্গীর সুস্থতা ও বিকাশের জন্য যে গভীর উদ্বেগ কাজ করে, সেটাই হল যত্নের মডেল।

এই মডেল বিশেষ করে অসম সম্পর্ক, যেমন- মা-বাবার ভালোবাসা বা গুরুতর অসুস্থ জীবনসঙ্গীর সেবা করার ক্ষেত্রে চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজনীয়।

তবে সাধারণ সমঅধিকারের দাম্পত্যে কেবল নিঃস্বার্থ যত্ন থাকলে, সেটা এক সময় প্রেমকে স্রেফ বন্ধুত্বের ছকে বন্দি করে ফেলে।

আকাঙ্ক্ষা ও আকর্ষণের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন

মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়নে ভালোবাসার দুটি প্রধান স্তম্ভ থাকে— একটি হল আকর্ষণযোগ্যতা বা ‘অ্যাট্রাকটিভনেস’ এবং অন্যটি প্রশংসনীয়তা বা প্রেইজ্‌ওয়ার্দিনেস্‌।

আকর্ষণের চৌম্বকীয় টান: আকর্ষণ বিষয়টা মস্তিস্কে একটি শক্তিশালী চুম্বকের মতো কাজ করে, যা দুজনকে প্রথমবার প্রেমের বন্ধনে জড়াতে অবচেতনে বাধ্য করে। সঙ্গী নিজেকে আকাঙ্ক্ষিত মনে করলে নিজের আত্মসম্মান ও প্রাণবন্ততা বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে এখানে একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ লুকিয়ে আছে।

আকাঙ্ক্ষা বা শারীরিক টান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এবং অতি-পরিচিতির কারণে প্রাকৃতিকভাবেই ধীর হয়ে আসে, যেখানে যত্ন দিন দিন আরও গভীর ও স্থায়ী হয়।

তাই শুধু আকাঙ্ক্ষা থাকলে সম্পর্কটি অগভীর ও স্বার্থপরতায় রূপ নেয়।

‘স্যাপিওসেক্সুয়ালিটি’ ও পারস্পরিক জোড়াজোড়ি কৌশল

গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক গুণাবলী- যেমন তীব্র বুদ্ধিমত্তা, রসবোধ, সততা ও প্রজ্ঞা মানুষের বাহ্যিক আকর্ষণকে কোষে কোষে বহুগুণ ত্বরান্বিত করতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘স্যাপিওসেক্সুয়ালিটি’, যেখানে মানুষের মেধা বা প্রজ্ঞাই সরাসরি যৌন বা শারীরিক আকর্ষণের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে।

পরামর্শ

রোমান্টিকতা ও প্রেমের প্রকৃত সার্থকতা হল আকাঙ্ক্ষা এবং যত্নের সহাবস্থান নিশ্চিত করা। যদি দেখা যায় সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী একঘেয়েমি জীবনের স্বাভাবিক মানসিক শান্তি কেড়ে নিয়ে তীব্র অবসাদ তৈরি করছে, তবে লোকলজ্জা বর্জন করে অবিলম্বে একজন নিবন্ধিত সম্পর্ক-বিষয়ক মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

পুরানো খবর:

সবসময় দোষ চাপানো সঙ্গীর সঙ্গে মোকাবিলা করবেন যেভাবে

পুরানো খবর:

সম্পর্কে হারিয়ে যাওয়া উষ্ণতা ফেরাতে চাইলে

পুরানো খবর:

সম্পর্কে অহেতুক ভয়ের কারণ