২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সবসময় দোষ চাপানো সঙ্গীর সঙ্গে মোকাবিলা করবেন যেভাবে

মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। তবে সারাক্ষণ দোষী হতে থাকলে মানসিক চাপ বাড়ে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 14 Sep 2026, 06:33 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:28 PM

সংসার বা সম্পর্কের চেনা সমীকরণে কোনও একটি ভুল বা অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়া মাত্রই কি সঙ্গী বা চট করে সব দায় আপনার ওপর চাপিয়ে দেন?

মনোবিজ্ঞানের ভাষায় নিজের ভুল স্বীকার না করে অবচেতনে অনবরত অন্যের ওপর দোষারোপ করার এই ক্ষতিকর মানসিক বাতিককে বলা হয় ‘ব্লেইম-শিফটিং’ দোষারোপ করা, আর এই ধরনের মানুষকে বলা হয় ‘ব্লেইম-শিফটার’ দোষারোকারী।

সাধারণ মানুষ অনেক সময় ভাবেন, নিজের সততা প্রমাণ করতে পাল্টা কড়া যুক্তি দিয়ে তর্ক করলেই বুঝি সঙ্গীকে সোজা করা সম্ভব, যা মনস্তত্ত্বের দৃষ্টিতে ভুল ধারণা।

ব্লেইম-শিফটারদের সঙ্গে তর্ক করলে সম্পর্কের মানসিক দূরত্ব ও কোন্দল কেবল বহুগুণ বৃদ্ধিই পায়, তবে কোনো স্থায়ী সমাধান আসে না।

‘সাইকোলজি টুডে’-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তর্কের অবান্তর মেরুকরণ বর্জন করে বুদ্ধিদীপ্ত মনোযোগ ঘুরিয়ে দেওয়ার কৌশল ব্যবহার করাই ব্লেইম-শিফটারদের সঙ্গে শান্তিতে সংসার করার একটি উপায়।

ব্লেইম-শিফটারদের ভেতরের চরম মানসিক ভঙ্গুরতা

যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই স্কুল অফ মেডিসিনের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী ক্লিনিক্যাল অধ্যাপক ও মনোবিজ্ঞানী ডা. ড্যানিয়েল এস. লোবেল ব্যাখ্যা করেন, “মানসিকভাবে সুস্থ ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ খুব সহজেই নিজের দৈনন্দিন ভুল বা ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে তুলে নেন। তবে ‘ব্লেইম-শিফটার’ বা দোষারোপকারীদের অভ্যন্তরীণ মনস্তাত্ত্বিক কাঠামো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ভঙ্গুর। নিজের কোনো ভুলের জন্য তারা মনে প্রচণ্ড অপরাধী, ভঙ্গুর এবং অরক্ষিত বোধ করেন।

এই মানসিক দুর্বলতা ও অহং বা ইগো লুকাতে তারা আত্মরক্ষার বর্ম হিসেবে সব দোষ, কাছের মানুষের ওপর সপে দেন। এদেরকে পাল্টা সংশোধন বা ভুল প্রমাণ করতে গেলে, তারা ভাবেন তীব্র ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে, ফলে তারা অতিরিক্ত আত্মরক্ষার পদ্ধতি হিসেবে ঝগড়া আরও বাড়িয়ে দেন।”

দোষারোপকারী সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে নেওয়ার কৌশল

সম্পর্কের বন্ধন নষ্ট না করে দোষারোপকারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষজ্ঞরা ৪টি বাস্তবসম্মত মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ দিয়েছেন। 

তর্কের টেবিলে ভুল সংশোধনের চেষ্টা বর্জন: যখন সঙ্গী আপনার ওপর কোনো অবান্তর মিথ্যা অভিযোগ আনবেন, তখন তাৎক্ষণিকভাবে নিজেকে শতভাগ নির্দোষ প্রমাণ করার কড়া জেদ পুরোপুরি বর্জন করতে হবে। 

ডা. ড্যানিয়েল এস. লোবেল বলেন, “ব্লেইম-শিফটার’রা যুক্তির ভাষা বোঝেন না, তাই সত্য প্রতিষ্ঠার পাল্টা লড়াই সম্পর্কের ভেতরের ক্ষোভ ও তিক্ততা দীর্ঘমেয়াদে বাড়িয়ে দেয়।

রিডাইরেকশন বা মনোযোগ ঘোরানোর পন্থা: ফলপ্রসূ নিয়ম হল ‘ব্লেইম-শিফটিং’ বা দোষ দেওয়া হচ্ছে অনুভব হওয়া মাত্রই আলোচনাকে ‘কার ভুল’ থেকে সরিয়ে সরাসরি ‘এখন সমাধান কী’, সেই দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া।

যেমন— রান্না পুড়ে যাওয়ার পর সঙ্গী যদি দোষ দেন, তবে তর্ক না করে শান্তভাবে বলা যেতে পারে, ‘ঠিক আছে, কোনো সমস্যা নেই। চল আজ আমরা বাইরে কোনো রেস্তোরাঁ থেকে খেয়ে আসি’। এই আচরণ প্রতিপক্ষকে আত্মরক্ষামূলক হওয়ার সুযোগ দেয় না।

জয়ী হওয়ার কৌশল ভেস্তে দেওয়া: দোষারোপকারীরা অবচেতনে একটি প্রতিযোগিতার লড়াই তৈরি করতে চান, যেখানে তারা নিজেদের ‘জয়ী’ বা ‘নিখুঁত’ এবং সঙ্গীকে ‘পরাজিত’ বা ‘ত্রুটিযুক্ত’ প্রমাণ করতে পারেন।

এই তর্ক রুখতে প্রতিযোগিতার মানসিকতা ভেঙে যৌথ সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা উপকারী।

যেমন বলা যায়, ‘ভুলটি আমাদের যৌথ সমস্যা এবং আমরা একসঙ্গে এর সমাধান করব’— এই চেষ্টা সম্পর্কে গভীর আন্তরিকতা ফিরিয়ে আনার পরিবেশ তৈরি করে।

দীর্ঘমেয়াদে মানসিক শক্তি ধরে রাখতে

ডা. ড্যানিয়েল লোবেল স্পষ্ট করে বলেন, ‘একজন ‘ক্রনিক বলেইমিং’ বা দোষারোপকারী সঙ্গীর ভেতরের এই মানসিক ভঙ্গুরতা সাইকোথেরাপি ছাড়া রাতারাতি দূর হওয়া অসম্ভব। তাই সম্পর্কে শান্তি রাখতে ‘রিডাইরেকশন মেথড’-এর সমস্ত মানসিক চাপ আপনাকেই বহন করতে হবে।”

আর ‘ব্লেইম-শিফটিংয়ের এই কুঅভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ মানুষের আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান গুঁড়িয়ে দিতে থাকে।

তাই, যদি দেখা যায় ‘রিডাইরেকশন’ করার পরেও সঙ্গীর মৌখিক বা মানসিক নির্যাতন সীমা পার করে চরম মানসিক অবসাদ তৈরি করছে, তবে লোকলজ্জা বর্জন করে অবিলম্বে একজন নিবন্ধিত ‘রিলেশনশিপ থেরাপিস্ট’ বা মনোবিজ্ঞানীর পেশাদার উপদেশ নেওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুন

অবহেলা নাকি গোপন ফাঁদ: সম্পর্কের সূক্ষ্ম প্রতারণা ‘মাইক্রো-চিটিং’-এর লক্ষণ

সম্পর্কে হারিয়ে যাওয়া উষ্ণতা ফেরাতে চাইলে

পরিচিত হোন ‘পটকা মাছ’ চরিত্রের মানুষের সঙ্গে