০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পর্কে অহেতুক ভয়ের কারণ

সম্পর্ক ভালো থাকলেও মানসিক অস্থিরতার তিনটি কারণ থাকতে পারে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Aug 2026, 02:49 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:24 PM

প্রেম বা বৈবাহিক সম্পর্কে কোনো ঝগড়া-বিবাদ নেই, সবকিছু বেশ চমৎকার ও স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে চলেছে। তবুও মনের ভেতরে সারাক্ষণ এক অদৃশ্য আতঙ্ক কাজ করে— সঙ্গী বুঝি অবহেলা করছেন, কোনো লাল সংকেত বা রেড ফ্ল্যাগ কি দেখা যাচ্ছে, বা যেকোনো মুহূর্তে বিচ্ছেদ বা ব্রেইকআপ আসন্ন।

মনোবিজ্ঞানের ভাষায় সম্পর্কের এই অনর্থক ভয়কে ‘রিলেশনশিপ অ্যাংজাইটি’ বা ‘সম্পর্কজনিত দুশ্চিন্তা’ বলা হয়।

সাধারণ মানুষ একে অতি-সংবেদনশীলতা বা অহেতুক খামখেয়ালিপনা মনে করলেও, মনস্তত্ত্ববিদদের মতে এটি মূলত এক ধরনের জটিল অবচেতন মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ।

স্বাস্থ্য ও লাইফস্টাইল পোর্টাল ‘সেলফ’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, জোর করে সম্পর্ককে ‘সুরক্ষা’ দেওয়ার এই অতিরিক্ত বাতিক বা ‘হাইপারভিজিলেন্স’ অবচেতনে সঙ্গীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে ভুল বোঝাবুঝি এবং দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিবাহ ও পারিবারিক থেরাপিস্ট মেলিনা অলডেন এবং লাইফস্টাইল গবেষক জেনা রিউ এই বিষয়ে ৩টি প্রধান কারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

অতীতের সম্পর্কের ট্রমা বা আতঙ্ক

থেরাপিস্ট মেলিনা অলডেন বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে কখনও প্রতারণা, হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে উধাও হওয়া বা কোনো কারণ ছাড়াই আকস্মিক বিচ্ছেদের শিকার হয়ে থাকেন, তবে তার মস্তিস্কের স্নায়ু স্থায়ীভাবে এক ধরনের ‘ডিফেন্স মেকানিজম’ বা প্রতিরক্ষা কবচ তৈরি করে নেয়।

ফলে বর্তমান সম্পর্কে সঙ্গী সম্পূর্ণ বিশ্বস্ত হওয়ার পরও, মস্তিস্ক প্রাকৃতিকভাবেই নতুন করে কোনো প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বা বিপদের ভয় পেতে শুরু করে এবং সঙ্গীর সাধারণ নীরবতাকেও সে বড় হুমকি মনে করে।”

মানসিক বিপর্যয়

কিছু মানুষের মনস্তাত্ত্বিক গঠন প্রাকৃতিকভাবেই অতিরিক্ত চিন্তা বা ‘ওভারথিংকিং’ প্রবণ হয়। অফিসের একটি সামান্য টাইপো বা সাধারণ কোনো কৌতুককেও তারা এক বড় বিপর্যয় বা ‘ক্যাটাস্ট্রোফি’ মনে করে বসেন।

এই ধরনের মানসিক অসঙ্গতি যখন ভালোবাসার জীবনে প্রবেশ করে, তখন সঙ্গী একটি টেক্সট রিপ্লাই করতে সামান্য দেরি করলে বা একদিন কাজের চাপে ফোন না দিলে মস্তিস্ক সরাসরি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে— ‘সঙ্গী বুঝি আমার প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেছেন’।

এই চক্রে বারবার আশ্বাসের বাণী চাওয়া, সাময়িক আরাম দিলেও স্থায়ী অস্থিরতা দূর করতে পারে না।

আবেগের দুর্বলতা বা অরক্ষিত হওয়ার ভয়

কাউকে মনেপ্রাণে ভালোবাসা এবং নিজের মনস্তাত্ত্বিক নিয়ন্ত্রণ তার হাতে সঁপে দেওয়া এক ধরনের বড় মনস্তাত্ত্বিক ঝুঁকি।

মানুষ যখন নিজেকে খুব বেশি সুখী ও নিরাপদ বোধ করে, তখন অবচেতনে তার আদিম ‘লিম্বিক সিস্টেম’ (মস্তিষ্কের গভীরে থাকা কিছু বিশেষ স্নায়ু গঠনের সমষ্ঠি, যা আবেগ, স্মৃতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।) একটি গোপন ভীতি তৈরি করে— ‘যদি আমি নিজেকে পুরোপুরি সমর্পণ করি, তবে ভবিষ্যতে কষ্ট পাওয়ার আঘাতটা আরও তীব্র হবে’।

এই অরক্ষিত হওয়ার ভয় থেকে বাঁচতে মানুষ মনের অজান্তেই সঙ্গীর ওপর অনর্থক সন্দেহ বা নজরদারি শুরু করে এক ধরনের কৃত্রিম দেয়াল তৈরি করে, যা আসলে সুস্থ সম্পর্ককে নষ্ট করে দেয়।

এই ভয়, জয় করার নিয়ম

সম্পর্কের এই ক্ষতিকর অতিরিক্ত চিন্তা বা চক্র থেকে বের হয়ে আসতে মেলিনা অলডেন দুটি বাস্তবসম্মত নির্দেশিকা দেন।

প্রমাণভিত্তিক বাস্তবতা পরখ করা: কোনো অমূলক চিন্তা মনে এলেই সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে— ‘সঙ্গী আমাকে ছেড়ে চলে যাবেন, এর পক্ষে আমার কাছে এই মুহূর্তে কি কোনো বাস্তব প্রমাণ আছে?’

নাকি এটি কেবলই একটি একদিনের ক্লান্তির বহিঃপ্রকাশ।

একসঙ্গে ভালো সময় কাটানো: মস্তিস্ককে মনগড়া বা কাল্পনিক সমস্যা তৈরি করার সুযোগ না দিয়ে দুজনে একসঙ্গে বাইরে গিয়ে শান্ত মনে হাঁটাচলা করা, রান্না করা কিংবা ঘরের তাপমাত্রা অনুকূলে রেখে বিছানায় প্রিয় কোনো সিনেমা দেখার মতো ইতিবাচক অভিজ্ঞতায় অযাচিত ভাবনা দূরে রাখা যায়।

আরও পড়ুন

সম্পর্কজনিত দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণের উপায়

অবহেলা নাকি গোপন ফাঁদ: সম্পর্কের সূক্ষ্ম প্রতারণা ‘মাইক্রো-চিটিং’-এর লক্ষণ

অনিশ্চিত সম্পর্কে আছেন কি-না, বুঝবেন যেভাবে