Published : 12 Jul 2026, 07:47 PM
পাঁচ বছর আগের কথা। তখন করোনাভাইরাস মহামারি চলছে। পঞ্চম শ্রেণি শেষ করে ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হই। ভর্তি হলেও মহামারির কারণে স্কুল বন্ধ ছিল। তাই স্কুলে না গেলেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক স্যারের কাছে টিউশন পড়তে শুরু করি।
সেই টিউশনে পরিচয় হয় জয়দিব কাঞ্জিলাল ও শাহরিয়ার ইসলাম সজিবের সঙ্গে। শুরুতে শুধু কথাবার্তা আর গল্প হলেও ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর বন্ধুত্ব। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হতে থাকে।
করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে গেলে আবার স্কুল খুলে যায়। স্কুল শুরু হওয়ার পর আমাদের বন্ধুত্ব যেন নতুন মাত্রা পায়। আমরা একসঙ্গে বসতাম, চলাফেরা করতাম এমনকি টিফিনও একসঙ্গে ভাগাভাগি করে খেতাম। গল্প আর আনন্দ সবকিছুই ছিল একসঙ্গে। আবার কেউ কোনো পড়া না বুঝলে অন্যজন বুঝিয়ে দিতাম। একে অপরের বিপদে পাশে দাঁড়াতাম।
জয়দিব বয়সে বড় হলেও স্বভাবে কিছুটা শিশুসুলভ। দুষ্টুমিও করে বেশ। আর সজিব একটু বুদ্ধিমান, তবে মিথ্যা বললে সহজেই ধরা পড়ে যেত। কিন্তু তারা দুজনের কেউই বাস্তবতা বুঝতে চাইত না। বন্ধুত্বের শুরু থেকেই আমি চেষ্টা করেছি বিভিন্ন বিষয়ে তাদের বোঝাতে।
আমাদের মধ্যে পারিবারিক, ব্যক্তিগত ও পড়াশোনার নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হত। মাঝে মাঝে তর্ক-বিতর্ক বা ঝগড়াও হয়েছে। তবে সেসব ছিল খুবই অল্প সময়ের জন্য। কিছুক্ষণ পরই আবার সব স্বাভাবিক হয়ে যেত।
এই পাঁচ বছরের বন্ধুত্বে আমরা একে অপরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-কষ্ট সবই ভাগাভাগি করেছি। কিন্তু সময় তো থেমে থাকে না। এসে গেল আমাদের এসএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষাও শেষ, এরপর হয়তো আমাদের আলাদা আলাদা পথে যেতে হবে। আগের মতো একসঙ্গে গল্প, আড্ডা বা অভিমান কিছুই আর হবে না।
আমার চাওয়া, তারা যেন জীবনের বাস্তবতা ভালোভাবে বুঝতে শিখে এবং ভালো থাকে। আর আমাদের বন্ধুত্বও যেন অটুট থাকে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৫। জেলা: নীলফামারী।