Published : 16 May 2026, 08:45 AM
দেশে হাম মোকাবেলায় একটা নির্দেশিকা বা ‘গাইডলাইনের’ অভাববোধ করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, নির্দেশিকা থাকলে ‘একই ধরনের’ চিকিৎসাসেবা দেওয়া যেত, যার ফলে কমে আসত শিশুমৃত্যুর সংখ্যা।
নির্দেশিকার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে সরকার বলছে, এটা তৈরি করতে ন্যুনতম একটা সময় প্রয়োজন, তবে যত দ্রুত সম্ভব, সেটা বানিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে।
একটা গাইডলাইনে মূলত কোনো রোগ প্রতিরোধ করা, শনাক্তকরণ বা চিকিৎসার বিষয়ে নির্দেশনা থাকে। এটি নানা গবেষণা, বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটা নির্দেশিকা থাকার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, যেকোনো রোগ মোকাবেলায় দেশজুড়ে একই নিয়ম অনুসরণ করা যায়।
নির্দেশিকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে গিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, “প্রান্তিক অঞ্চলের শিশুদের ন্যূনতম চিকিৎসার আওতায় আনতে না পারলে হামে মৃত্যু থামানো যাবে না।
“আমাদের চিকিৎসকরা সবই জানেন। কিন্তু একটি গাইডলাইন থাকলে সবার জন্য একই ধরনের সেবা পাওয়া সহজ হয়।”


স্বাস্থ্য অধিপপ্তেরের তথ্য অনুযায়ী, গেল দুই মাসে হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে দেশে ৪৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে; প্রতিদিন গড়ে সাতজন।
সর্বশেষ মারা যাওয়া ৬০ শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৩ মাস বয়সী রয়েছে ৪ জন, ৪ মাস বয়সী ৫ জন, ৫ মাসের ২ জন, ৬ মাসের ৪ জন, ৭ মাসের ৭ জন, ৮ মাসের বয়সী ৭ জন, ৯ মাস বয়সী ৩ জন, ১০ মাস বয়সী ৮ জন এবং ১১ মাস বয়সী শিশু রয়েছে ৪ জন।
এদের বাইরে ১২ মাস বয়সী ২ জন, ১৩ মাসের ২ জন, ১৫ মাসের ২ জন এবং ১৬ মাস বয়সী ১ জন শিশু মারা গেছে।
এছাড়া ২৪ মাস বয়সী ১ জন, ২৭ মাস বয়সী ২ জন, ৩০ মাস বয়সী ১ জন, ৩৬ মাস বয়সী ২ জন, ৪২ মাস বয়সী ১ জন, ৫১ মাস বয়সী ১ জন এবং ১০৮ মাস বয়সী ১ জন শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
এসব শিশুর বেশির ভাগই হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। কিন্তু পরীক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় হামের রোগী আলাদা করা যাচ্ছে না। ফলে আলাদা করে তাদের চিকিৎসাও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, “আসলে আমাদের দেশে শিশুরা উপসর্গ অনুসারে চিকিৎসা পাচ্ছে না। কোন শিশুর শরীরে কী ধরনের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, সেটির চিকিৎসা জরুরি। এটি করতে পারলে শিশুদের মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো যাবে।
“এজন্য হাম চিকিৎসার একটা গাইডলাইন থাকা প্রয়োজন।”
হাম মোকাবেলায় গত ২৭ এপ্রিল একটি বিশেষ টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কমিটির প্রধান হিসেবে আছেন অধ্যাপক মো. হালিমুর রশিদ।
গাইডলাইন তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, “এটা সময়সাপেক্ষ কাজ। তবে আমরা সেটি দ্রুত করার চেষ্টা করছি। গাইডলাইন তৈরির জন্য একটি সভাও করেছি। এটি নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে।”
গাইডলাইন তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “আসলে হাম চিকিৎসার কোনো গাইডলাইন নেই। তবে হামের পর যে মূল জটিলতা তৈরি হয় নিউমোনিয়ার মাধ্যমে, সেটির ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন আছে, সেটি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।”
গত ১৫ মার্চ থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দেশে হামে মৃত্যু হয় ৪২ জনের। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় ১৯৮ জনের।
হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৯৪ জন ঢাকায় মারা গেছেন; আর ৬৬ জন মারা গেছেন রাজশাহী বিভাগে।
গত ২০ এপ্রিল থেকে দেশে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকাদানের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। যার মাধ্যমে দেশের ৮ বিভাগে এ পর্যন্ত ৬২ লাখ ৬৮ হাজার ৪২৮ জন শিশু টিকা পেয়েছে।
এ ছাড়া দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনে ১০ লাখ ৭২ হাজার ৮৯০ জন শিশু টিকা পেয়েছে।
আরো পড়ুন-
‘জোড়াতালি’ দিয়ে চলছে হাম মোকাবিলা, বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ ‘উপেক্ষা’
হামের রোগী ফেরত না পাঠানোর নির্দেশনা কতটা মানতে পারছে হাসপাতালগুলো?