Published : 10 Jun 2026, 12:23 AM
হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা ২৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ৪৯ ধরনের হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্টের দাম কমানো হয়েছে।
চূড়ান্ত মূল্যতালিকায় আমদানি করা বিভিন্ন মডেলের হার্টের রিংয়ের দাম সর্বনিম্ন ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতেও এক দফা দাম কমানো হয়েছিল।
মঙ্গলবার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) এগুলোর পুনর্নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য চূড়ান্ত করে তা মেনে চলতে বলেছে। আদেশের কপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছেও পাঠিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।
আদেশে বলা হয়েছে, গত ১৩ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের গঠন করা বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে স্টেন্টের নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
ধমনীতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক ক্রিয়া সচল রাখতে এনজিওপ্লাস্টির মাধ্যমে স্টেন্ট বা করোনারি স্টেন্ট পরানো হয়। প্রচলিত ভাষায় এটি ‘রিং’ হিসেবে পরিচিত।
নতুন তালিকায় ‘সিলিন কাভার্ড স্টেন্ট' বা রিংয়ের দাম ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ টাকা থেকে কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ হাজার টাকা। এছাড়া ‘ম্যাগমা র্যাপামাইসিন’ রিংয়ের দাম ৩৭ হাজার থেকে কমিয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। সিআরই-৮ রিংয়ের দাম ৫৬ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।
আদেশে ডিজিডিএ বলেছে, সর্বোচ্চ খুচরা দাম অনুসরণ করে স্টেন্ট কেনাবেচা করতে হবে। চিকিৎসা প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। স্টেন্টের নাম, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ও উৎপাদনকারীর নামসহ ক্যাশ মেমো দিতে হবে। ব্যবহৃত স্টেন্টের প্যাকেটটি রোগীকে সরবরাহ করতে হবে।
হার্টের রিংয়ের পুনর্নির্ধারিত দাম দেখুন এখানে
এরইমধ্যে হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্টের পুনঃনির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নে হাসপাতালগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে চূড়ান্ত মূল্যতালিকা প্রদর্শনের ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন ডিজিডিএর প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক আকতার হোসেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের গঠিত বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির পঞ্চম ও ষষ্ঠ সভার সুপারিশের আলোকে ট্যাক্স, ভ্যাট, বিভিন্ন চার্জ-কমিশন এবং কোম্পানির মুনাফা বিবেচনায় এনে হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্টের দাম পুনর্নির্ধারণ করে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আদেশ জারি করেছিল স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। কিছু প্রতিষ্ঠান মূল্য পুনর্বিবেচনার আবেদন করে।
“পরে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন গত ১৩ মে বিশেষজ্ঞ কমিটির সপ্তম সভায় পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেওয়ার পর মঙ্গলবার মূল্যতালিকা চূড়ান্ত করে আদেশ জারি করেছি। বেশিরভাগ স্টেন্টের পুনর্নির্ধারিত দাম বহাল থাকলেও ২-৩টির দামে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।"
এর আগে প্রথম দফায় ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ২৮ ধরনের স্টেন্টের দাম ৫ থেকে ১৯ শতাংশ কমানো হয়। ওই বছরের এপ্রিলে পুনঃনির্ধারণ করা হয় কিছু আমদানিকৃত রিংয়ের দাম।
পরে ২০২৫ সালের ৩ অগাস্ট যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি কোম্পানির ১০ ধরনের স্টেন্টের দাম তিন হাজার থেকে ৮৮ হাজার টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছিল। ওই নতুন দাম কার্যকর করা হয় সে বছরের ১ অক্টোবর।
চলতি বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি ২৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ৪৯ স্টেন্টের দাম আবারও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল।