Published : 07 May 2023, 02:29 PM
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নন্দিনী-রাজা, রঞ্জন ও বিশুর প্রেম-মানবিকতা এবং শোষণ-নিপীড়নের নাটক ‘রক্তকরবী’ মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চে।
কবিগুরুর ১৬২তম জন্মজয়ন্তীতে রোববার নাটকটি মঞ্চে আনছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সিনে এন্ড ড্রামা ক্লাব’।
এক বিজ্ঞপ্তিতে ‘সিনে এন্ড ড্রামা ক্লাব’ জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান মিলনায়তনে রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় নাটকটি দেখানো হবে। ‘রক্তকরবীর’ দ্বিতীয় প্রদর্শনী হবে আগামী ১৭ মে একই সময়ে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা এ নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানভীর নাহিদ খান।

তানভীর নাহিদ খান গ্লিটজকে বলেন, “গত ৪ এপ্রিল নাটকটির মহড়া শুরু হওয়ার পর থেকে কলাকুশলীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন যেন এই স্বল্প সময়ে সবকিছু সুন্দরভাবে সব শেষ করা যায়।
‘সিনে এন্ড ড্রামা ক্লাবের’ সভাপতি মোতাসিম আন নাফি জানান, ১৯৯৬ সালে লেখক শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুস সেলিমের হাত ধরে এ ক্লাব প্রতিষ্ঠা পায়। এ পর্যন্ত ১৭টি বার্ষিক নাটক মঞ্চে এনেছে ক্লাবটি। এর আগে ১৯৯৮ সালে ‘রক্তকরবী’ দেখানোর প্রস্তুতি নেওয়া হলেও সেবার উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “আমরা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত এবং একই সাথে কিছুটা উদ্বিগ্নও। কারণ আমরা প্রথমবারের মতে রবীন্দ্রনাথের নাটক করার দুঃসাহস দেখিয়েছি, তাও আবার এই রবীন্দ্রজয়ন্তীতে। যখন হাতে আমাদের খুবই অল্প সময় ছিল। তারপরও সবার প্রচেষ্টায় আমরা ভালোভাবেই মহড়ার শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। আশা করছি ক্যাম্পাসের সবাইকে সুন্দর একটি নাটক উপহার দিতে পারবো।”
রূপক নাটক ‘রক্তকরবী’তে নায়িকা নন্দিনী হল প্রেম ও সুন্দরের প্রতীক। রাজার আকুতি থাকে নন্দিনীকে বশ করে তার সৌন্দর্যে অবগাহন করার। কিন্তু নন্দিনী ভালোবাসে রঞ্জনকে, তাই রাজার মধ্যে প্রেম জাগিয়ে তোলে সে। তবে সে নিজে ধরা দেয় না। যক্ষপুরীতে রাজার শোষণ, অত্যাচার আর নিপীড়নের বিপরীতে নিজের প্রেমের মৃত্যু ঘটলেও সৌন্দর্য ও ভালোবাসার প্রতীক নন্দিনী মানবিকতার পক্ষে বিজয় ছিনিয়ে আনে।

বাংলা ১৩০০ সালে শিলংয়ের শৈলবাসে নাটকটি রচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। প্রথমে নাম ছিল যক্ষপুরী। রচনার তিন দশক বাদে ১৩৩১ সনের আশ্বিন মাসে প্রবাসীতে যখন নাটকটি প্রকাশিত হয় তখন এর নাম হয় রক্তকরবী।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আতিকুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ইসমাইল হোসেন, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা এবং ডিরেক্টর অফ স্টুডেন্ট এফেয়ারস গৌর গোবিন্দ গোস্বামীসহ অতিথিরা নাটক দেখতে উপস্থিত থাকবেন।