Published : 08 Feb 2026, 11:02 AM
প্রয়াত সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দীর মৃত্যুর অর্ধযুগ পর প্রকাশ পেয়েছে তার গাওয়া গান ‘আমার আয়ু নিয়ে বাঁচো’।
ঘরানার এই গানটি শোনা যাচ্ছে ‘সাউন্ডস অব তানভীর’ ইউটিউব চ্যানেলে।
২০১৯ সালের ৭ মে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সুবীর নন্দী। মৃত্যুর আগে সংগীত পরিচালক তানভীর তারেকের সুর–সংগীতে মোট ১১টি গানে কণ্ঠ দিয়ে গেছেন সুবীর নন্দী। সেখান থেকেই একটি গান প্রচার করা হয়েছে।
গানটির কথা লিখেছেন গীতিকবি জাহিদ আকবর। বিজ্ঞপ্তিতে গানটি নিয়ে জাহিদ আকবর বলেন, "তানভীরের সুরে কাজ করা মানেই আলাদা এক স্বস্তি। এই গানটি যে সুবীর দার কণ্ঠে ধারণ করা হয়েছিল, সেটা আমি জানতামই না। এতদিন পর তার কণ্ঠে নিজের লেখা গান শুনে আমি সত্যিই অভিভূত। আমার বিশ্বাস, শ্রোতারাও গানটির আবেশ বারবার অনুভব করবেন।"
সুবীর নন্দীর সঙ্গে করা এই গানটি জীবনের ‘অমূল্য স্মৃতির অংশ’ বলে মন্তব্য করেছেন তানভীর তারেক।
"সুবীরদার সঙ্গে করা গানগুলোর প্রজেক্ট আমার জীবনের অমূল্য স্মৃতির অংশ। প্রতিটি গানেই আমরা অ্যাকুস্টিক ইন্সট্রুমেন্টের প্রতি আলাদা যত্ন নিয়েছি। এই গানে সেতার বাজিয়েছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী রাহুল মুখোপাধ্যায়। সুবীরদার কণ্ঠ মানেই মেলোডির গভীরতা। রিলস-টিকটকের যুগেও যারা সুরে ডুবে থাকতে চান, এই গানটা তাদের জন্য।"
গানটির রেকর্ডিং হয়েছে ঢাকার কোলাহল স্টুডিও ও কলকাতার ভাইব্রেশন স্টুডিওতে। আর মিক্স ও মাস্টারিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে লাসভেগাসের টিএফপি স্টুডিওতে।

তানভীর তারেক জানিয়েছেন, গানটি লিরিক ভিডিও আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ঈদ ঘিরে আলাদা দৃশ্যধারণ করে গানটি মিউজিক ভিডিও আকারে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
শুরুটা নজরুল সংগীতে হলেও সুবীর নন্দী নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেস আধুনিক গানে। তার কণ্ঠ ও গায়কী আলাদা ছিল বলেই তিনি অসাধারণ হয়ে উঠেছিলেন।
‘দিন যায় কথা থাকে’, আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়’, ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি’র মত বহু গানে শ্রোতার হৃদয়ে এখনো তিনি অমর হয়ে আছেন।
১৯৫৩ সালের ১৯ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার নন্দীপাড়ায় সুবীর নন্দীর জন্ম। বাবার চাকরি সূত্রে তার শৈশব কেটেছে চা বাগানে। পরিণত বয়সে গানের পাশাপাশি চাকরি করেন ব্যাংকে।
প্রাইমারিতে পড়ার সময় মা পুতুল রানীর কাছে সংগীতের হাতেখড়ির পর ওস্তাদ বাবর আলী খানের কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নেন সুবীর নন্দী। সিলেট বেতারে তিনি প্রথম গান করেন ১৯৬৭ সালে।
এরপর ঢাকা রেডিওতে সুযোগ পান ১৯৭০ সালে। রেডিওতে তার প্রথম গান 'যদি কেউ ধূপ জ্বেলে দেয়'। বেতার থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রে গেয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান।
১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্লেব্যাকে আসেন সুবীর । ১৯৭৮ সালে মুক্তি পায় আজিজুর রহমানের 'অশিক্ষিত' সিনেমা। সেই সিনেমায় সাবিনা ইয়াসমিন আর সুবীর নন্দীর কণ্ঠে ‘মাস্টার সাব আমি নাম দস্তখত শিখতে চাই’ গানটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।

ধীরে ধীরে তার কণ্ঠের রোমান্টিক আধুনিক গান ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মুখে মুখে। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি।
‘আশা ছিল মনে মনে’, ‘হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে’, ‘বন্ধু তোর বরাত নিয়া’, ‘তুমি এমনই জাল পেতেছ’, ‘বন্ধু হতে চেয়ে তোমার’, ‘কতো যে তোমাকে বেসেছি ভালো’, ‘পাহাড়ের কান্না দেখে’, ‘কেন ভালোবাসা হারিয়ে যায়’, একটা ছিল সোনার কইন্যা’, ‘ও আমার উড়াল পঙ্খীরে’র মত গানগুলো ভক্ত-শ্রোতাদের হৃদয়ে সুবীর নন্দীকে করে তুলেছে অনন্য।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আড়াই হাজারের বেশি গানে কণ্ঠ দেওয়া সুবীর নন্দী চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও চারবার বাচসাস পুরস্কার পেয়েছেন। সংগীতে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে তিনি একুশে পদক পেয়েছিলেন।
তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ বাজারে আসে ১৯৮১ সালে। ‘প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘ভালোবাসা কখনো মরে না’, সুরের ভুবনে, ‘গানের সুরে আমায় পাবে’ ছাড়াও ‘প্রণামাঞ্জলী’ নামে একটি ভক্তিমূলক গানের অ্যালবাম রয়েছে তার।