Published : 08 Sep 2025, 09:10 PM
বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের গানের রয়্যালটি শিল্পীরা কেন পান না-সরকারের কাছে এই প্রশ্ন তুলেছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন।
এই শিল্পী বলেন, “এই পৃথিবীতে মনে হয় এই একটাই দেশ যেখানে শিল্পীরা গানের কোনো রয়্যালটি পায় না।
শিল্পকলা একাডেমিতে রোববার সন্ধ্যায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে একক সংগীতানুষ্ঠান ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’ এই আক্ষেপ করেছেন তিনি।
সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “আমার প্রায় ১৫ হাজার গান আছে, এর বেশিরভাগই চলচ্চিত্রের। আমাদের দেশে এত এত শিল্পী, তাদের লাখ লাখ গান আছে, এসব গানের কোথায় রয়্যালটি? আজ যদি রয়্যালটি থাকত, আব্দুল আলীম ভাইয়ের পরিবার কিংবা আবদুর রহমান বয়াতির পরিবার হয়ত ভালো থাকত।
“সব দেশে শিল্পীদের গানের রয়্যালটি দেওয়া হয় কিন্তু আমাদের দেশে সেটা নেই। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রশ্ন, কেন উদ্যোগ নেওয়া হয় না?”
ওই অনুষ্ঠানে আসা বর্ষীয়ান শিল্পী খুরশীদ আলম, নকীব খানও গানে শিল্পীদের রয়্যালটি দাবি করে আওয়াজ তুলেছেন। তাদের ভাষ্য, পরিবার নিয়ে শিল্পীদের ভালোভাবে বাঁচতে রয়্যালটি প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে খুরশীদ আলম মনে করেন, শাহবাগ বেতার কেন্দ্র ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে ইতিহাস-ঐতিহ্য নষ্ট হয়েছে।

এই শিল্পী বলেন, "শাহবাগ বেতার কেন্দ্র কেন ভেঙে ফেলা হয়েছে? এই জায়গাটা আমাদের জন্য এমন একটা জায়গা ছিল গান গাইতে গীতিকার, সুরকার, শিল্পীরা সবাই আসতেন। আমাদের সৃষ্টি থেকেই বেতার কেন্দ্র বড় ভূমিকা ছিল। এসব ইতিহাস ঐতিহ্য কিন্তু ভেঙে দিচ্ছি।
"জীবিত অবস্থায় লাঞ্ছিত বঞ্চিত হতে হতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আশি বছর যে কোনো মুহূর্তে মারা যেতে পারি। গানের শিল্পীদের জন্য যদি কিছুই না থাকে তাহলে কিংবদন্তী শিল্পী হয়ে তো লাভ নেই। রয়্যালটিটা দেন।"
নকীব খানের মতে, বাংলা বিশ্বের সপ্তম ভাষা হলেও বাংলাদেশি গান বিশ্বে পৌঁছাতে পারছে না। তিনি মনে করেন, গান আর্কাইভ ও রয়্যালটির মাধ্যমে দেশের গানকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
নকীব খান বলেন, "এই যে সাবিনা ইয়াসমিন আপা এত সুন্দর সুন্দর গান করতে পারছেন আমরা কী তা আর্কাইভ করতে পারছি উপদেষ্টার কাছে আমার প্রশ্ন। আমার মনে হয় আমাদের গান দিয়ে সারা বিশ্ব থেকে আমরা আয় করতে পারি। আমাদের রয়্যালটি দিয়ে।
"অনেক গীতিকার, সুরকার, কিংবদন্তী শিল্পী আছেন। যারা এখন নেই কিন্তু গানগুলো অমূল্য। রয়্যালটি দিয়ে তাদের পরিবারের জন্য আমরা কিছু করে যেতে পারি। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ আমাদের গানের রয়্যালটির বিষয়টা দেখবেন। "

আবিদা সুলতানা জানিয়েছেন, নিজের গান সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করলেও কপিরাইট জটিলতায় তা নামিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ করে তিনি বলেন, “আমার বেশিরভাগ গান আমি নিজের বলে দাবি করতে পারি না।”
শিল্পীদের এসব প্রশ্নের জবাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, "এটা আমাদের ৭৪ বছরের ব্যর্থতা, আমরা কাজ শুরু করেছি। আমরা একটা কাজ শুরু করেছি যেটা খুব বেশি আগায়নি। দুই তিন মাসের মধ্যে কিছু একটা দিক হবে। সেটা হচ্ছে গানের আর্কাইভের জন্য। আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি নগরের গান, আধুনিক গান, মফস্বলের গান, কুষ্টিয়ার গান, ২০০ বছর আগে যে গান লিখেছেন তার গান থেকে এখনকার যারা গান করেন তাদের গান প্রত্যেকের গান শুধু আর্কাইভবই করব না, একটা টেলিভিশনে অনুষ্ঠান হবে।
"সেটা দিয়ে ইউটিউব চ্যানেল হবে। মিউজিক্যাকি ফ্রম বাংলাদেশ এমন চ্যানেল হবে। যেটা যে কোনো দেশ থেকে সার্চ করলে এটা পাওয়া যাবে। এখান থেকে যত টাকা আসবে তা যেই শিল্পীর গান সেই শিল্পীর পরিবার পাবে। এটা হবে তবে একটু ধীর গতিতে যাচ্ছে।"