Published : 07 Jun 2026, 09:15 PM
মস্তিষ্কের টিউমার আক্রান্ত চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থা এখনো স্থিতিশীল হয়নি।
লন্ডনে তার কেমোথেরাপির দ্বিতীয় ধাপের চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) আন্দোলনের ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ।
তিনি বলেন, “উনার শারীরিক অবস্থা কখনো একটু উন্নতি হচ্ছে, আবার কখনো কিছুটা অবনতি হচ্ছে। উনার কেমোথেরাপির দ্বিতীয় ধাপ চলছে, যা জুলাই মাস পর্যন্ত চলবে।”
চিকিৎসা চলাকালে ইলিয়াস কাঞ্চনকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন লিটন।
তিনি বলেন, “উনার ট্রিটমেন্ট পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত উনি কবে দেশে ফিরবেন, সেটা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। তবে জুলাইয়ে দ্বিতীয় ধাপের চিকিৎসা শেষে যদি চিকিৎসক অনুমতি দেন, তাহলে হয়ত অগাস্টে কিছু সময়ের জন্য তিনি দেশে আসতে পারেন। মানে পুরোপুরি চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের ওপর তার দেশে ফেরা নির্ভর করছে।”
দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও চিকিৎসার মধ্যে থাকায় ইলিয়াস কাঞ্চনের ‘মনের ওপর কিছুটা প্রভাব’ পড়েছে বলে জানিয়েছেন লিটন।
তিনি বলেন, “একজন অত্যন্ত কর্মঠ মানুষ এভাবে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় মানসিকভাবে উনি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। উনি এখন সবার সাথে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলছেন, তবে আগের মত সেই চনমনে ভাবটা নেই। কিছু জিনিস উনার মেমোরিতে থাকছে, আবার কিছু জিনিস ভুলে যাচ্ছেন।”
‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন এবং তার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন বলে জানান লিটন।
গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে মেয়ের বাসায় আছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।
প্রায় তিন দশকের অভিনয় জীবনে কয়েকশ সিনেমায় কাজ করেছেন এই অভিনেতা, যার শুরুটা হয় ১৯৭৭ সালে সুভাষ দত্তের বসুন্ধরা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।
এরপর একের পর এক দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিলেও তিনি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছান ১৯৮৯ সালে বেদের মেয়ে জোস্না চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।
খ্যাতির তুঙ্গে থাকার অবস্থায় ১৯৯৩ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনকে হারান ইলিয়াস কাঞ্চন।
ওই ঘটনার পর নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে নামেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এ অভিনেতা; গড়ে তোলেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন।