Published : 31 Jan 2026, 05:36 PM
সমালোচনার আঁচ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না পাওয়া ‘রক্তজবা’ সিনেমা ঘিরেই এই সমালোচনা।
২০২৩ সালের জন্য ঘোষিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকায় নাম উঠেছে এই সিনেমার পরিচালক নিয়ামুল মুক্তার। তবে পরিচালক হিসেবে নয়, সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
বিস্ময়কর হলেও সত্যি, সিনেমার চিত্রনাট্য তিনি লেখেননি, যা নিয়ে বিব্রত এই পরিচালক।
নিয়ামুল মুক্তা গ্লিটজকে বলেছেন, “আমি ‘রক্তজবা’র সিনেমার চিত্রনাট্য লিখি নাই, চিত্রনাট্য লিখেছেন মুহাম্মাদ তাসনীমুল হাসান তাজ। আমাকে কীভাবে এই পুরস্কার দেওয়া হলো আমার তা জানা নেই।”
স্বাভাবিক কারণেই জাতীয় পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন এই নির্মাতা।

বিষয়টি এখানেই থেমে থাকেনি। নীতিমালা অনুযায়ী, ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিবেচনাযোগ্য চলচ্চিত্রকে অবশ্যই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্রপ্রাপ্ত এবং বিবেচ্য বছরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিপ্রাপ্ত হতে হবে। তবে স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না’।
‘রক্তজবা’ সিনেমার ক্ষেত্রে নিয়মটি মানা হয়নি। অর্থাৎ, সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি।
নীতিমালা না মেনে কীভাবে সিনেমাটি পুরস্কার পাচ্ছে, প্রশ্ন রাখা হয়েছিল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ‘জুরিবোর্ডের’ দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার কাছে।
গ্লিটজকে তিনি বলেন, “আমি ঠিক জানি না, নীতিমালাটা দেখতে হবে। চলচ্চিত্র পুরস্কার কারা পাচ্ছেন এই সিদ্ধান্ত উচ্চপর্যায় থেকে নেওয়া হয়েছে, একদম উপদেষ্টা থেকে নেওয়া হয়েছে, কেবিনেট ডিভিশন থেকে সিনেমাগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। আমাদের এখানে কোনো ভূমিকা ছিল না এবং কোনো কথাও নাই এ ব্যাপারে।”
জুরিবোর্ডের সদস্য হয়েও এই সম্পৃক্ততা নেই কেন প্রশ্নে ওই কর্মকর্তা বলেন, “পুরো প্রক্রিয়ায় আমরা ছিলাম, কিন্তু তাদের সিদ্ধান্তেই ওরকম হয়েছে। এখন এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, সেটাও আমি ঠিক জানি না। জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া ঘাঁটলে হয়ত বোঝা যাবে, কোথায় ভুল আছে।”
এদিকে, জাতীয় পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে নিয়ামুল মুক্তা বলেন, “আমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩ এর শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করছি এবং একই সাথে আমি শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসাবে মুহাম্মাদ তাসনীমুল হাসান তাজের হাতে এই পুরস্কার দেখলে খুশি হব।”
২০২৩ সালের জুন মাসে কোরবানির ঈদ ঘিরে সিনেমাটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনে মুক্তি পায়। সেসময় ২৫ টাকা সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে সিনেমাটি দেখার খবর দিয়েছিল আইস্ক্রিন।
সিনেমাটি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র ও প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল কী না প্রশ্নে নির্মাতা বলেন, “২০২২ সালে সিনেমাটি সেন্সর ছাড়পত্র পায়, তবে ‘রক্তজবা’ আমি দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে দেখাতে পারিনি। আমার সিনেমাটি কোথায়, কোন সিনেমা হলে চলেছে তা আমি জানি না এখন পর্যন্ত। সিনেমা হলে মুক্তি না পেলে কোনো সিনেমা জাতীয় পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হতে পারে না, সেটাও আমার জানা নেই।”
নির্মাতার দাবি, সিনেমাটি চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম।
‘রক্তজবা’ সিনেমার চিত্রনাট্য একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে আসা একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। যে চিঠির মাধ্যমে শিক্ষক ফিরে যান এক যুগ আগে। অতীত এবং চলমান ঘটনার মিশেলে একে একে উন্মোচিত হতে থাকে নানা রহস্য।
সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, শরিফুল রাজ, লুৎফর রহমান জর্জ, শিল্পী সরকার অপু, জয়িতা মহলানবিশ, অরিত্র আরিয়া, কামরুল জিন্নাহ, উজ্জ্বল কবির হিমু, কাজী তানভির, অপুসহ অনেকে।
সিনেমার ক্রিয়েটিভ প্রযোজক আবু শাহেদ ইমন। কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন মুহাম্মাদ তাসনীমুল হাসান। চিত্রগ্রহণ করেছেন বরকত হোসেন পলাশ। শিল্প নির্দেশনা দিয়েছেন কাজী তানভীর রশিদ অপু। শব্দ সংযোজন ও মিউজিক করেছেন রিপন নাথ।
গত বৃহস্পতিবার ২০২৩ সালের জন্য ঘোষিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতা নির্বাচিত হয়েছেন আফরান নিশো; সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পাচ্ছেন আইনুন পুতুল। আর সেরা চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে ‘সাঁতাও’।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ২৮টি বিভাগে ৩০ চলচ্চিত্র, শিল্পী ও কলাকুশলীর এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
সেরা অভিনেত্রীর পাশাপাশি সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পাওয়া ‘সাঁতাও’ এর নির্মাতা খন্দকার সুমন হয়েছেন সেরা পরিচালক। এ চলচ্চিত্র আরেক ক্যাটাগরিতে পেয়েছে সেরার পুরস্কার; সুজন মাহমুদ হয়েছেন সেরা শব্দগ্রাহক।
এবারের পুরস্কার তালিকায় সবচেয়ে বেশি আটটি পুরস্কার পেয়েছে আফরান নিশো অভিনীত চলচ্চিত্র 'সুড়ঙ্গ'।
এছাড়া ‘প্রিয়তমা’ চলচ্চিত্র বিভিন্ন শাখায় পাঁচটি পুরস্কার পেয়েছে।
এ বছর যৌথভাবে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন প্রয়াত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ এবং প্রয়াত চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা আব্দুল লতিফ বাচ্চু।