Published : 01 Apr 2026, 12:57 AM
কলকাতার সিনেমা ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সফল নানা ভাবে। এর অভিনেতা সদ্য প্রয়াত রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয় দক্ষতা এবং জুবিন গার্গের গাওয়া ‘পিয়া রে পিয়া রে’ আঠরো বছর আগে দর্শক মাতিয়েছিল।
এই গানের নায়ক-গায়ক ফের আলোচনায়। কারণ সাত মাসের ব্যবধানে দুজনেই প্রাণ হারিয়েছেন এবং তাদের মৃত্যুর ঘটনাও সাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রায় সাত মাস আগে সমুদ্রের পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন জুবিন গার্গ। জুবিনের মত সেই পানিতে ডুবেই চলে গেলেন রাহুল।
২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে ‘নর্থ ইস্ট ইনডিয়া ফেস্টিভালে’ অংশ নিতে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন গানের গায়ক জুবিন গার্গ। সেখানকার সমুদ্রে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় পানিতে ডুবে প্রাণ হারান এই শিল্পী।
জুবিনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে কলকাতার সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়ালে’ দেওয়া সাক্ষাৎবারে রাহুল বলেছিলেন, "এক জন বন্ধুকে হারালাম। ও চিরসখা ছিল আমার।"
একটি ধারাবাহিকেরশুটিং করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের দিঘাসংলগ্ন তালসারি সমুদ্রসৈকতে পানিতে নেমে তলিয়ে যান রাহুল। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও, ততক্ষণে সব শেষ।
জুবিনের কণ্ঠ, রাহুলের অভিনয়
২০০৮ সালে দুর্গাপূজার সময়ে মুক্তি পেয়েছিল রাহুলের প্রথম সিনেমা ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’। পরিচালক ছিলেন রাজ চক্রবর্তী। রাতারাতি জনপ্রিয় হয় সিনেমার 'পিয়া রে পিয়া রে' গানটি। রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটিকেও জনপ্রিয় করে তোলে এই ব্যর্থ প্রেমের গান। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পূজা মণ্ডপে বাজানো হত ‘পিয়া রে’। কৈশোরের প্রেম, অপূর্ণতা আর আবেগ সবকিছুরই একধরনের প্রতীক হয়ে ওঠে গানটি।
জুবিনের মৃত্যুর খবরে এক সাক্ষাৎকারে রাহুল তুলে ধরেছিলেন তাদের বন্ধুত্বের কথা।

‘দ্য ওয়াল’ লিখেছে, শোকাহত রাহুল গানটির স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, “পিয়া রে গানটা ছিল আইকনিক। এখনও আমি কোনও রেস্তোরাঁয় খেতে গেলে কিছুক্ষণ পর সেখানকার কর্মীরা গানটা বাজিয়ে দেন। এখনও ঐ গানটা দিয়েই দর্শক আমাকে মনে রেখেছেন। খুব খারাপ লাগছে আমার সেই কণ্ঠ চলে গেল।”
রাহুল আরও বলেছিলেন, “পিয়া রে পিয়া রে গানটা সেই সময়ে আমাকে আর প্রিয়াঙ্কাকে খুব জনপ্রিয় করেছিল। আমাদের জুটিটাকে মানুষ তো এখনও এই গানটা দিয়েই আইন্ডেটিফাই করে। আজ খুব মনে পড়ছে ২০০৮-০৯ সালের সময়টা। আমি, প্রিয়াঙ্কা, জুবিন একসঙ্গে প্রচুর ফাংশন করতাম। যে কারণে আমাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল”।
জুবিনের মৃত্যুতে রাহুল সেদিন বলেছিলেন, “বাংলার মানুষরা হয়ত বুঝতে পারছে না জুবিনের চলে যাওয়া আসামের মানুষের বুকে কতটা হাহাকার হয়ে বাজছে। ভূপেন হাজারিকার পর এত বড় এত বড় কালচারাল আইকন আসামে খুব বেশি আসেনি।”
‘পিয়া রে’ গানটা লিখেছিলেন প্রিয় চট্টোপাধ্যায়। সুর করেছিলেন জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
যেভাবে রাহুলের মৃত্যু হল
রাহুলের মৃত্যুর আগে-পরে কী কী ঘটেছিল তা নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নানা ধরনের খবর আসছে।
সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়ের’ কাছে রাহুলের মৃত্যু নিয়ে কথা বলেছেন পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল। তিনি ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকটি তৈরি করছেন। এই ধারাবাহিকের মূল চরিত্রে অভিনয় করছিলেন রাহুল।

রোববার তালসারিতে নাটকের শুটিং ছিল। বিকালে সমুদ্রে নামেন রাহুল। কিন্তু আচমকাই তলিয়ে যান তিনি।
সেই ঘটনা বর্ণনা করে শুভাশিস বলেন, “আমরা এখানে শনিবারও শুট করেছি। রোববার একটা শট ছিল তালসারিতে। গোড়ালি ডোবা জলে দাঁড়িয়েছিল শ্বেতা, রাহুলদা। শ্বেতা-রাহুলদা নিজেদের মধ্যে জল ছোড়াছুড়ি করছিল, লুকোচুরি খেলছিল। আমরা পিছন দিক থেকে ক্যামেরা করছিলাম। সেটা করতে করতে রাহুলদা শ্বেতার হাত ধরে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। প্রায় হাঁটু পর্যন্ত জলে পৌঁছে ও একটু ডিসব্যালান্সড হয়ে যায়।
“আমরা ঠিৎকার করে দূরে যেতে বারণ করি। ততক্ষণে জল রাহুলদার গলা পর্যন্ত উঠে এসেছে। হাবুডুবু খাওয়ার মত অবস্থা। সব ফেলে ইউনিটের ১০-১২ জন ওর দিকে এগিয়েও যাই। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে ও তলিয়ে যেতে থাকে। সম্ভবত অনেকটা জলও খেয়ে ফেলেছিল।”
পরিচালক শুভাশিস বলেন, আশপাশে যে নৌকাগুলি থাকে সেখান থেকে দড়ি ফেলে, ইউনিটের সবাই তড়িঘড়ি ছুটে গিয়ে রাহুলকে তুলে আনেন।
তখনও রাহুলের জ্ঞান ছিল। তার পর দ্রুত দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নিয়েও যাওয়া হয় তাকে। কিন্তু সেখানেই চিকিৎসকরা রাহুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: