Published : 03 Jul 2026, 07:03 PM
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে প্রার্থীদের ‘যোগ্যতা ও সততা’ দেখেই ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন অভিনেতা সোহেল রানা।
শুক্রবার এফডিসিতে গিয়ে নিজের ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেন, "যারাই নির্বাচন করুক, দুই প্যানেলই প্রতিবার আমার কাছে আসে, দোয়া চায়। আমি সবাইকে বলি দোয়া বড় কথা নয়। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাকে চিন্তা করতে হবে।
“কে কোন দল করল বা কে কত বড় স্টার, সেটা বড় কথা নয়। এই সংগঠনটাকে কে সঠিকভাবে চালাতে পারবে, চলচ্চিত্রের সংকটগুলো কে সমাধান করার দায়িত্ব নিতে পারবে, তা দেখে বিচার করে ভোট দিতে হবে।"
‘ভোট বিক্রির’ সংস্কৃতি এবং এর কুফল নিয়ে সাধারণ ভোটারদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই বর্ষীয়ান অভিনেতা বলেন, "চোখ বন্ধ করে ভোট দিলে তো দেশের সাধারণ নির্বাচনের মত হয়ে যাবে।
“৫ হাজার টাকা নিয়ে ভোট দেওয়ার পর সেই এমপি কাজ করতে না পারলে তাকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। সে তো আগে খরচের টাকা ঘরে তুলবে, তারপর কাজের কথা ভাববে। প্রথম অপরাধটা তো ভোটাররাই করে, কারণ তারা নিজেদের অধিকার বিক্রি করে দেয়।"
সোহেল রানা বলেন, "আমার ভুল হতে পারে, কিন্তু সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে চলচ্চিত্রের মঙ্গল কিসে হবে, সেটা দেখেই আমি ভোট দেওয়ার চেষ্টা করি।"

'শেষ দিন পর্যন্ত অভিনয়ে থাকতে চাই'
এদিকে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিতে এসে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্রের আরেক পরিচিত মুখ অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা। জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের ‘অবমূল্যায়ন’ করা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
কল্পনা বলেন, "আমি একজন শিল্পী হিসেবে সংগঠনের স্বার্থে ভোট দিতে এসেছি। আমরা চাই যোগ্য মানুষরা নির্বাচিত হোক, যাতে সংগঠনের উন্নতি হয় এবং শিল্পীদেরও উন্নয়ন ঘটে।"
প্রবীণ শিল্পীরা অভিনয়ের সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপ করে তিনি বলেন, "আমাদের অনেক সময় অবমূল্যায়ন করা হয়। মনে করা হয় আমাদের শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতা নেই। কিন্তু বাস্তবতা তা নয়।
“আমি যদি ঘরে বসে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারি, তাহলে সংলাপ কেন দিতে পারব না? আমি যদি চলাফেরা করতে পারি, আত্মীয়ের বাড়ি যেতে পারি, তবে অভিনয় করতে পারব না কেন?"
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই অভিনেত্রী বলেন, "আসলে আমাদের যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। আমরা অভিনয় করতে চাই এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অভিনয়ের সঙ্গেই থাকতে চাই।"
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিএফডিসি প্রাঙ্গণে ২০২৬-২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে।
সকালের দিকে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রজুড়ে যেন এক উৎসবের মেলা বসে। দীর্ঘদিন পর পুরোনো সহকর্মীদের কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে কুশল বিনিময়, কোলাকুলি আর ছবি তোলায় মেতে ওঠেন শিল্পীরা।
প্রধান ফটক থেকেই বিভিন্ন বুথ সাজিয়ে ভোটারদের ফুল ও চকলেট দিয়ে বরণ করে নিতে দেখা যায় প্রার্থীদের।