Published : 15 Sep 2026, 12:10 PM
পতৌদি নবাব পরিবারের ছেলে সাইফ আলী খানের জীবনে বছর খানেক আগে যা ঘটে গেছে, যা সিনেমার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।
গভীর রাতে বলিউডের অভিনেতার বাড়ির শোবার ঘরে আততায়ীর হানা, তার ওপর ছুরি হাতে ঝাঁপিয়ে পড়া, পিঠে গেঁথে যাওয়া ছুরির ভাঙা অংশ নিয়ে হেঁটে হাসপাতালে যাওয়া-এ সবই সাইফ করেছেন মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে।
দেড় বছরের বেশি সময় আগের ঘটনাটি অনেকটা সামলে নিয়ে সাইফ ও তার স্ত্রী-ছেলেরা স্বাভাবিক জীবনে প্রবেশ করলেও, তা গভীর দাগ কেটে আছে তাদের মনে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, বোম্বে টাইমসতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাইফ বলেন, “আমরা বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই সামলে নিয়েছি। আমার মনে হয়, সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে কারিনার (সাইফের স্ত্রী অভিনেত্রী কারিনা কাপুর) মনে। কারণ ও খুব স্পর্শকাতর মানুষ।”
সাইফের কথায়, ঘটনাটি ভয়াবহ।
“আমি এখনও পুরোপুরি ব্যাপারটা থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। এখনো আমি ছুরি দেখলেই ভয় পাই।”
ওই সময় পাঁচ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে সাইফের শরীর মেরুদণ্ডের খুব কাছ থেকে ছুরির আড়াই ইঞ্চির ভাঙা অংশ চিকিৎসকরা বের করেছেন বলে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালের চিকিৎসক নীতিন নারায়ণ জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, “সাইফ ভাগ্যবান। ওই ছুরিটি যদি মেরুদণ্ডের কাছের ওই জায়গায় আর মাত্র ২ মিলিমিটার ঢুকে যেত, তাহলে তার আঘাতের ভয়াবহতার কোনো সীমা থাকত না।”
সাইফ বলেন, “অবিশ্বাস্যরকমের সৌভাগ্যের ব্যাপার যে ছুরিটা ভেঙে গিয়েছিল। যদি ওই ব্যক্তির কাছে একটা সত্যিকারের র্যাম্বো ছুরি থাকত, আমি মরে যেতাম। খোঁচা দিলেই এটা যে কোনো দিকে চলে যেতে পারে। আমার সারা শরীরে কেটে গিয়েছিল, কিন্তু আমি মারা যাইনি। আমি যে কতটা ভাগ্যবান ছিলাম, তা ভেবে অবাক হয়ে যাই।”
এদিকে সাইফকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অভিযুক্ত বাংলাদেশর শরিফুল ইসলাম আদালতে অপরাধ স্বীকারের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে শাস্তি লঘু করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশের দাবি, শরিফুল ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে ডাকাতি, সাইফকে গুরুতরভাবে আহত করা এবং জোর করে তার বাড়িতে প্রবেশের ঘটনায় জড়িত।
এসব অভিযোগের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিক ও ভারতে প্রবেশের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট–সংক্রান্ত আইনের কয়েকটি ধারায়ও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি গভীর রাতে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাড়িতে হামলার শিকার হন সাইফ। পুলিশের ভাষ্য, এক অনুপ্রবেশকারী ১২ তলার ওই আবাসনে ঢুকে অভিনেতাকে ছুরি দিয়ে একাধিকবার আঘাত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় সাইফকে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরে ছয়টি আঘাত ছিল এবং মেরুদণ্ডের কাছে গভীর ক্ষত হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পাঁচ দিন পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন তিনি।
ঘটনার তিন দিন পর, ১৯ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের থানের কাছে একটি ম্যানগ্রোভ এলাকা থেকে শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে মুম্বাই পুলিশ। পুলিশের দাবি, শরিফুলই সাইফের বাড়িতে ঢুকে হামলা করেছিলেন।
হামলাকারীকে ক্ষমা করতে আপত্তি নেই সাইফে
সাইফের নতুন ছবি সোশাল মিডিয়ায়, হামলার তদন্ত শেষের দিকে
সাইফকে ছুরিকাঘাত: ভুল করে আটক ব্যক্তির বিয়ে ভেঙেছে, গেছে চাকরিও
সাইফকে ছুরিকাঘাত, শেহজাদের আঙুলের ছাপ 'মিলছে না'
প্রথমে চিনতেই পারিনি উনি সাইফ আলী: অটোরিকশা চালক
সিসিটিভির ব্যক্তি কী সাইফের হামলাকারী? পুলিশের অভিযান জোরদার
সাইফের হামলাকারীকে দেখা গেছে বান্দ্রা স্টেশনে
গভীর রাতে নিজের বাড়িতে ছুরিকাহত বলিউড তারকা সাইফ আলী খান
আড়াই ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর আইসিউতে সাইফ
আর যদি ২ মিলিমিটার গভীরে ঢুকত ছুরি...
গাড়ি না পেয়ে রক্তাক্ত সাইফকে অটোতে হাসপাতালে নেন ইব্রাহিম