Published : 27 Feb 2026, 02:34 PM
প্রয়াত ব্যান্ড শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর ভক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; বাচ্চু এবং তার সৃষ্টির প্রতি সরকার প্রধান এই পছন্দের কথা জানিয়েছেন গায়কের স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনাকে।
মৃত্যুর সাত বছর পর রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’ পেয়েছেন রুপালি গিটারের কিংবদন্তি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে চন্দনার হাতে এই পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পদক গ্রহণের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কুশল বিনিময় হয় চন্দনার। তার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী তাকে জানিয়েছেন, তিনি আইয়ুব বাচ্চুর গান পছন্দ করতেন এবং একটা সময়ে নিয়মিত শুনতেনও।
কী কথা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে? এই প্রশ্নে গ্লিটজকে চন্দনা বলেন, “কুশলাদী বিনিময় হয়েছে। তিনি বলেছেন, 'আইয়ুব বাচ্চুকে পছন্দ করতেন। তার গান শুনতেন, গানগুলো তার ভালো লাগে'। আমিও তাকে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছি। তার হাত ধরে যেন দেশের সুন্দর পরিবর্তন আসে এই প্রত্যাশা করেছি।"
সময়ের স্বল্পতা ছিল, তবে সুযোগ পেলে কিছু বিষয় তুলে ধরতেন জানিয়ে চন্দনা বলেন, "সময়টা খুব অল্প ছিল। বইমেলা উদ্বোধন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তাড়া ছিল, আর স্বাভাবিক নতুন একটা দায়িত্ব নিয়েছেন মন্ত্রণালয়েও অনেক কাজ। আমাদের বেশি কথা বলার সুযোগ হয়নি।
“যদি সময় পেতাম, তাহলে হয়ত সংগীতাঙ্গনের কিছু বিষয় তুলে ধরতে পারতাম। তবুও পদক গ্রহণের মুহূর্তটা অন্যরকম ছিল।”

স্বামীর হয়ে সম্মাননা গ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়ে চন্দনা বলেন, “আমি তো শিল্পী নই, আমি তার হয়ে পদকটা হাতে নিয়েছি। এটা যদি তার নিজের হাতে উঠত, তাহলে অনুভূতিটা নিশ্চয়ই অন্যরকম হত। তবুও আমার জায়গা থেকে নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা থাকবে দেশের সংগীত ও শিল্পীদের নিয়ে যেন আরও বেশি ভাবনা ও কাজ হয়। সংগীতাঙ্গনের প্রসারে সরকারের নজর থাকুক।”
‘রুপালি গিটার’, ‘ঘুম ভাঙা শহর’, ‘সেই তুমি’, ‘এক আকাশের তারা’সহ বাচ্চুর গাওয়া তুমুল জনপ্রিয়া সব গানে বুঁদ হয়ে থেকেছে কয়েকটি প্রজন্ম। কিছু গান তকমা পেয়েছে ‘চিরসবুজ’ হিসেবেও। যার অসাধারণ কণ্ঠ আর গিটার বাদনে জনপ্রিয় হয়েছে এসব গান, সেই আইয়ুব বাচ্চু ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর পৃথিবীর মায়া কাটান।
তিনি রেখে গেছেন এক ছেলে ও এক মেয়ে আহনাফ তাজওয়ার আইয়ুব ও ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব। তারা বর্তমানে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত।
বাবার প্রাপ্তি নিয়ে সন্তানদের অনুভূতি জানতে চাইলে চন্দনা বলেন, “ওরা আফসোস করে বলেছে বাবা থাকলে খুব ভালো হত, আবেগপ্রবণ হয়ে চোখের পানি ফেলেছে। বাচ্চুকে হারানোর প্রতিটা মুহূর্তই আমাদের তাকে মনে করিয়ে দেয়। এসব প্রাপ্তি তো তারই, আমরা শুধু অংশীদার। মানুষটা বেঁচে থাকলে তো আনন্দ, উদযাপন অন্যরকম হত। ছেলেমেয়েরাও সেই আফসোস করে। ”
আইয়ুব বাচ্চুর সুর করা বেশ কিছু গান এখনো স্টুডিওবন্দি রয়েছে। সেগুলোর প্রকাশ করার বিষয়ে তিনি বলেন, “একটা গান ভালোভাবে প্রকাশ করতে গেলে পৃষ্ঠপোষকতা দরকার হয়। আমরা এখনো স্পন্সর পাচ্ছি না। কেউ স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসে না। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আশা করি বিভিন্ন সময়ে গানগুলো প্রকাশ করা যাবে।”
আড়াই দশকের বেশি সময়ে ‘ফেরারি মন’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘হকার’, ‘অচেনা জীবনে’, ‘মনে আছে নাকি নাই’, ‘স্বপ্ন’, ‘সুখ’, ‘তবুও’, ‘মন চাইলে মন পাবে’ এর মত জনপ্রিয় সব অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন বাচ্চু। তার শেষ অ্যালবাম ছিল ‘স্পর্শ’।
এবার সংস্কৃতি ও বিনোদন থেকে আরও একুশে পদক পেয়েছেন অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা, নাট্যকলায় ইসলাম উদ্দিন পালাকার, ব্যান্ড সংগীতে ওয়ারফেজ এবং নৃত্যকলায় অর্থী আহমেদ।
আরও পড়ুন:
একুশে পদক নিলেন ববিতা, আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী, জানালেন কৃতজ্ঞতা
বাচ্চু নিজ হাতে একুশে পদক নিতে পারলে অনুভূতি অন্যরকম হত: স্ত্রী
একুশে পদক পাচ্ছেন ববিতা, শফিক রেহমান, আইয়ুব বাচ্চুসহ ৯ ব্যক্তি ও এক ব্যান্ড