Published : 01 Jun 2026, 05:23 PM
পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার ছয় দশক পরেও হলিউডের আকাশে তিনি উজ্জ্বল। ক্যারিয়ার মোটে ১৭ বছর হবে, তবে তাতেই যা করেছেন, পরের কয়েক প্রজন্মের কাছে হয়ে ওঠেন প্রেরণার নাম। তিনি মেরিলিন মনরো।
সোমবার হলিউডের এই অভিনেত্রী জন্মশতবাষির্কী। পঞ্চাশের দশকে ঝড় তোলা অভিনেত্রী মাত্র ৩৬ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়েছিলেন। অতিমাত্রায় মাদবসেবনকেই তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়।
লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস জানিয়েছে, মনরোর জন্মদিন উপলক্ষ্যে নানা ধরনের অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ও স্মারক আয়োজন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে।
ঐতিহাসিক চৈনিক থিয়েটারে ভক্তরা সমস্বরে ‘হ্যাপি বার্থডে’ গেয়ে উঠবেন। একই কায়দায় বহু বছর আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মেরিলিন। সে ঘটনাকে স্মরণ করতেই এই আয়োজন।
হলিউডের সোনালী যুগের প্রতীক হিসেবে একশোটি গোলাপ ও একটি কেক সেখানে রাখা হবে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের একাডেমি মিউজিয়ামে আয়োজন করা হয়েছে ‘মেরিলিন মনরো: হলিউড আইকন’ শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনী। সেখানে রাখা হয়েছে মনরোর বিখ্যাত পোশাক, ব্যক্তিগত সামগ্রী, চিঠিপত্র। এছাড়া চলচ্চিত্রের স্মারক এবং জীবনের নানা অধ্যায়ের নিদর্শনও সেখানে রাখা হয়েছে।
প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ উজ্জ্বল গোলাপি গাউন। যা ‘জেন্টলম্যান প্রেফার ব্লন্ডস’ সিনেমায় ব্যবহৃত হয়েছিল। ওই সিনেমায় ‘ডায়মন্ডস আর আ গার্লস বেস্ট ফ্রেন্ড’ গানের দৃশ্যে মনরোকে এই পোশাকে দেখা যায়। রেশমের তৈরি পোশাকটির নকশা করেছিলেন উইলিয়াম ট্রাভিলার।
এই গাউনটি নিছকই একটি পোশাক নয়, বলা হয় এটি বলিউডের ইতিহাসের একটি অংশ। এই গাউন আজও মেরিলিন মনরোর ব্যক্তিত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই গাউনটি অভিনেত্রীর গ্ল্যামারের এক অনন্য মিশ্রণ।
লস অ্যাঞ্জেলেসের একাডেমি মিউজিয়াম জানিয়েছে এই প্রদর্শনী কেবল মনরোর তারকাখ্যাতিকে উদ্যাপন করছে না। মনরো যে সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা এক নারী ছিলেন, সেটিই তুলে ধরতে চাইছে বলে জানিয়েছে মিউজিয়াম কর্র্তপক্ষ।

প্রদর্শনীতে আরও কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী রাখা হয়েছে মনোরর। সেগুলোর মধ্যে জো ডিম্যাজিওর সঙ্গে তার বিয়ের অনুষ্ঠানে পরা জুতো, গসিপ কলামিস্ট হেড্ডা হপারের একটি বিরল ক্ষমা প্রার্থনা লেখা স্ক্রিপ্ট।
এছাড়া তার রূপটান সামগ্রীর মধ্যে একটি বিশেষ মাস্কও রাখা আছে প্রদর্শনীতে (সেটি হল মুখ চিকন করার মাস্ক, যখন তার থুতনিতে মেদ জমেছিল, তখন তিনি এই বিশেষ মাস্কটি ব্যবহার করতেন।
এছাড়া মনরোকে নিয়ে সংবাদপত্রের কিছু কাটিং রাখা হয়েছে।
অ্যাকাডেমি মিউজিয়ামে পুরো মাসজুড়ে তার বিখ্যাত কয়েকটি সিনেমা দেখানো হবে। এগুলোর মধ্যে আছে ‘দ্য অ্যাসফল্ট জাঙ্গল (১৯৫০)’, ‘নায়াগ্রা (১৯৫৩)’, ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ (১৯৫৫)’, সাম লাইক ইট হট (১৯৫৯)’ এবং ‘দ্য মিসফিটস (১৯৬১)’।
২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চালু থাকবে। আগামী ৪ জুন মেরিলিনের ব্যবহার করা ২০০টি জিনিস নিলাম তোলা হবে।
এই নিলামকে ‘মেরিলিনের ১০০ বছর’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
নিলামে উঠতে যাওয়া উপকরণের মধ্যে আছে অপ্রকাশিত ছবি, একটি অসম্পূর্ণ শর্ট ফিল্ম ‘সামথিং’স গট টি গিভ’, হাতে লেখা রেসিপি ও তার ব্যবহার করা এলিজাবেথ আরডেন লিপস্টিক।
মনরোকে অনেক সময় কেবল ‘সেক্স সিম্বল’ হিসেবে তুলে ধরা হত। জীবন ও ক্যারিয়ার মনরো অনিশ্চয়তা দিয়ে শুরু করলেও সে সব কাটিয়ে হলিউডের সবচেয়ে আলোচিত অভিনেত্রীদের একজন হয়ে ওঠেন। পঞ্চাশের দশকের রক্ষণশীল আমেরিকায় তিনি খোলাখুলিভাবে মানসিক স্বাস্থ্য, থেরাপি এবং নারীর স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেছেন।
ওই সময়ে যখন স্টুডিও কর্ণধাররা অভিনেত্রীদের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ন্ত্রণ করতেন, তখন মনরো নিজের মতামত প্রকাশ করতে দ্বিধা করতেন না।
সরাসরি বক্তব্য রাখতেন সংবাদমাধ্যমে।

তিনি গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও, ওই সময়ের জন্য যা ছিল সাহসী পদক্ষেপ।
‘মেরিলিন মনরো: হলিউড আইকন’ প্রদর্শনীটি তৈরি করার সময় সহযোগী কিউরেটর সোফিয়া সেরানো মনরোর কিছু ভক্তের সঙ্গে কথা বলেছেন, যাদের সংগ্রহ এই প্রদর্শনীটি তৈরিতে সাহায্য করেছে, এবং তাদের প্রায় সবার বক্তব্য একরকম।
সেরানো বলেন, “যদিও তার (মনরো) পরিণতি ছিল মর্মান্তিক, তবুও মানুষ তাকে দৃঢ়তার প্রতীক বলে মনে করে। তার গল্পটা একটা সিনেমার মত—এক অনাথ মানুষ, যিনি জীবনে অনেক বড় হয়, তারপর সবকিছু হারিয়ে ফেলে। মানুষ তাকে স্টুডিওর সাথে লড়াই করতে দেখেছে। এখনো অনেকেই তাকে আঁকড়ে ধরে কারণ তিনি তাদের প্রেরণা জোগায়।”
সেরানোর ভাষ্য, অনেক দিক থেকেই মনরো নিজেই ছিলেন শিল্পের এক প্রতিষ্ঠান। মনরো এমন এক রহস্য রেখে গেছেন, গত ১০০ বছর ধরে যার মীমাংসা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে মানুষ।
তিনি বলেন, "যার ওপর আমরা আমাদের নিজেদের আকাঙ্ক্ষা ও স্তুতি আরোপ করতে পারি। সহজাত আকর্ষণ এবং নিজের শক্তি সম্পর্কে এক বিচক্ষণ ও কঠোর বোধের সমান মিশ্রণের মানুষ ছিলেন তিনি।"
মেরিলিন মনরোর জীবন ও উত্তরাধিকার নিয়ে একটি প্রদর্শনী পুরো একটি জাদুঘর ভরিয়ে দিতে পারে, তাই এই প্রদর্শনীর জন্য সেরানো ও তার দল এমন সব জিনিসপত্র বেছে নিয়েছেন যা তার জীবনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক ছিল।
যেহেতু এটি অ্যাকাডেমি মিউজিয়াম, তাই এর বেশিরভাগই তার চলচ্চিত্র জীবনের ওপর আলোকপাত করে। তার বিভিন্ন সিনেমার পোশাকগুলো (যার মধ্যে 'দ্য সেভেন ইয়ার ইচ' সিনেমার বিখ্যাত সাদা পোশাকটির মূল প্রদর্শনী কপিও রয়েছে) একটি বড় অংশ জুড়ে আছে। সেরানোর মতে, এর একটি কারণ হল, মনরো প্রায়শই এগুলোর নকশার সঙ্গে জড়িত থাকতেন।
সেরানো বলেন, “এই পোশাকগুলোর দিকে তাকালে বোঝা যায়, তিনি কতটা বুদ্ধিমতী ছিলেন।
পিতৃপরিচয়হীন অবস্থায় মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের গর্ভে জন্ম হয়েছিল মনরোর। একদিকে দারিদ্র্য, অন্যদিকে অভিভাবকহীনতায় আশ্রয় জোটে এতিমখানায়। পরবর্তীতে জীবনের নানা উত্থান-পতন কাটিয়ে সময় যেন তাকে নতুনভাবে গড়ে তোলে।

ছোটবেলার এই অসহয়ত্বই যেন সাফল্যে তার মনোবল হয়ে দাঁড়ায়। ভাগ্যের সুপ্রসন্নতায় মডেল হিসেবে শুরু হয় তার ক্যারিয়ার। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন মার্কিন অভিনেত্রী, মডেল এবং গায়িকা হিসাবে। দুর্ভাগ্য নিয়ে জন্মালেও সৃষ্টিকর্তা যেন দুহাত ভরে সৌন্দর্য দিয়েছিল তাকে।
রুপালী জগতে প্রবেশের পূর্বে এই অভিনেত্রীর নাম ছিল নর্মা জীন বেকার। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে কাউন্টি নামের একটি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
মায়ের মানসিক হাসপাতালে থাকার কারণে মনরোর শৈশব কাটে অনাথ আশ্রমের কঠোর অনুশাসনে। এরপর এরপর ১২ বছর বয়সে এক পালক বাবা-মায়ের কাছে আশ্রয় পান মনরো। সেখানে তিনি পূর্ণ স্বাধীনতায় জীবনযাপন শুরু করেন।
মনরো যে বাড়িতে থাকতেন তার পাশেই থাকতেন জেমস ডগার্থি। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে মনরোর সাথে আলাপ এবং পরবর্তীতে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফের যাওয়ার ভয়ে ডগার্থিকে পালিয়ে বিয়ে করেন মনরো। স্বামীর সহায়তায় মনরো এরোপ্লেন পার্টস কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ পান। কিছুদিন পর কোম্পানির শো-গার্ল হিসেবে মডেলিংয়ের সুযোগ পান তিনি।
কাজের মাধ্যমেই তার পরিচয় হয় ডেভিড কনোভার সাথে। ডেভিড একটি পত্রিকার জন্য তাকে মডেলিংয়ের প্রস্তাব দেন এবং পরবর্তীতে সেই ছবি বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সাড়া তোলে। মডেলিংয়ের নেশায় মনরো ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলেন ডেভিডের সাথে। এরপরেই বেশ কয়েকটি পত্রিকায় তার ছবি ছাপা হয় এবং সৌন্দর্যের আলোড়নে বড় বড় এজেন্সি থেকে মডেলিংয়ের জন্য প্রস্তাব আসতে থাকে। গ্লামার জগতে তার ঝোঁক থাকলেও সেখানে বাধা হয়ে আসেন স্বামী ডগার্থি। পরে চার বছরের সংসার জীবনের ইতি টানেন তিনি।

১৯৪৬ সালে প্রথম অভিনয় জগতে পা রাখেন মনরো। সেখান থেকেই নর্মা জীন বেকার নাম পরিবর্তন করে পরিচিত হন মেরিলিন মনরো নামে।
১৯৪৭ সালে টুয়েন্টিথ সেঞ্চুরি ফক্স স্টুডিও পরিচালিত দুটি সিনেমা প্রকাশ, পায় যাতে খুব অল্প সময়ের জন্য পর্দায় দেখা যায় মনরোকে। কিন্তু এতে তিনি তেমন জায়গা করতে সক্ষম হননি দর্শক-হৃদয়ে।
১৯৪৯ সালে টাকার অভাবে বাধ্য হয়েই নগ্ন ফটোশুট করেছিলেন মনরো। জন বাউমগ্রাথ কোম্পানির ফটোগ্রাফার টম কেলিকে মাত্র দুই ঘণ্টা সময় দিয়েছিলেন মনরো। পরবর্তীকালে সেই ছবিই হয়ে ওঠে ব্যাপক আলোচিত। ‘নগ্নতা’ নিয়ে মার্কিন সমাজের যাবতীয় ‘ট্যাবু’ ভেঙে দেন নায়িকা। পরে অভিনেত্রীর সেই নগ্ন ছবিগুলো নিয়ে প্রদর্শনীও হয়।
তবে জন বাউমগ্রাথ কোম্পানির কর্মকর্তারা মেরিলিনকে ওই ফটোশুট সম্পর্কে প্রকাশ্যে কিছু বলতে মানা করেছিলেন। তবে উল্টো কাজ করেছিলেন মনরো।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, “আমার কাছে টাকা ছিল না এবং আমার টাকার দরকার ছিল। ... আমি এর জন্য লজ্জিত নই; আমি কোনো ভুল করিনি।”
এরপর ১৯৫০ সালে এই স্টুডিও ফের ‘অল অ্যাবাউট ইভ’ চলচিত্রের জন্য তাকে চুক্তিবদ্ধ করে। এই সিনেমায় লাস্যময়ী অভিনয়ে রাতারাতিই তারকা বনে যান তিনি।
পরবর্তী দুই বছরে তার সাড়া জাগানো চলচিত্র রাইট ক্রস (১৯৫১), হোম টাউন স্টোরি (১৯৫১), ক্ল্যাশ বাই নাইট (১৯৫২), উই আর নট ম্যারিড (১৯৫২), নায়াগ্রা (১৯৫৩), জেন্টলমেন প্রেফার ব্লন্ডিস (১৯৫৩), হাউ টু মেরি এ মিলিয়নেয়ার (১৯৫৩) সহ আরও কিছু সিনেমা মুক্তি পায়।

১৯৫৪ সালের ১৪ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মত মনরো বিয়ে করেন দীর্ঘদিনের বন্ধু ডি মিয়াগোকে। বিয়ের পর তিনি কোরিয়া যান এবং সেখানে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন তাকে গায়িকা হিসেবেও জনপ্রিয় করে তোলে। সেই বছরেই ফেব্রুয়ারি মাসে ‘ফটোপ্লে অ্যাওয়ার্ড’ থেকে সেরা অভিনেত্রীর পুরষ্কার পান মনরো।
এর পর আসে ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ সিনেমার ইতিহাস। মিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৫৫ সালে। ওই সিনেমার একটি দৃশ্য শুধু বিখ্যাতই হয়নি, কালজয়ী হয়েছে ইতিহাসের পাতায়।
দৃশ্যে দেখা গিয়েছিল, আচমকা সাবওয়ের সামনের একটি ঝাঁঝরি থেকে উঠে আসে দমকা হাওয়া, সেই হাওয়ায় অনেকখানি উঠে যাওয়া স্কার্টটি কোনোমতে দুই হাত দিয়ে সামলে নিচ্ছেন মনরো। বিশ্বের চলচ্চিত্র ইতিহাসে মেরিলিনের সঙ্গে ঠাঁই হয় স্কার্টটিও। ২০১১ সালের ১৮ জুন, একটি নিলামে এই স্কার্ট বিক্রি হয় ৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারে।
হাওয়ায় অনেকখানি উঠে যাওয়া স্কার্টটির দৃশ্য ভালোভাবে নেননি মনরোর স্বামী। সিনেমা মুক্তির নয় মাস পর স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তার।
এরপর বেশ কিছুদিন নিজেকে অভিনয় জগত থেকে সরিয়ে অভিনয় শেখা ও বিভিন্ন কর্মশালায় ব্যস্ত রাখেন মনরো। সেসময় একাকী জীবনে সঙ্গী হয়ে আসেন চিত্রনাট্যকার আর্থার মিলার।
১৯৫৬ সালের ২৯ জুন মনরো তৃতীয়বারের মত বিয়ে করেন আর্থার মিলারকে। সাংসারিক জীবনে মিলারের সঙ্গেই তিনি সবচেয়ে সুখে ছিলেন বলে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন। মিলার ছিলেন ইহুদি। তাকে বিয়ে করে ধর্মান্তরিত হন মনরোও। ফলে মিসরে তার সব সিনেমা নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়।

তৃতীয় বিয়ের পর নতুন রুপে মনরো মনরো পর্দায় আসেন ‘বাস স্টপ’, ‘দ্য প্রিন্স এন্ড দ্য শোগার্ল’ সিনেমার মাধ্যমে। ‘দ্য প্রিন্স এন্ড দ্য শোগার্ল’ সিনেমাটি ইউরোপে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। এবং বাফটা অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন পায়। এছাড়াও সে বছরে ইতালি ও ফ্রান্সে দুটি পুরষ্কার অর্জন করেন তিনি।
ক্যারিয়ারের এমন সময়ে হতাশা আক্রান্ত হন মনরো। অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়া এবং মদ্যপানে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। ফলে কাজে তিনি অনিয়মিত হয়ে পড়েন।
এরপর ১৯৫৯ সালে মনরোর জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ‘সাম লাইক ইট হট’ সিনেমার মাধ্যমে। এই সিনেমায় তিনি একজন গায়িকার ভূমিকায় নজরকাড়া অভিনয় করেন এবং বিপুল সমাদৃত হন। তার অসাধারণ অভিনয়ের জন্য জিতে নেন ‘গোল্ডেন গ্লোব’ পুরস্কার। মনরোর অভিনীত শেষ চলচিত্র ছিল দ্য মিসফিট (১৯৬১)। ১৯৬১ সালেই ব্যক্তিগত মতামতের অমিল হওয়ায় আর্থার মিলারের কাছ থেকে বিচ্ছেদ নেন মনরোর।
মিলারের সঙ্গে সম্পর্ক চুকেবুকে যাওয়ার পর মনোরর নাম কখনো জড়িয়ে পড়ে কখনো সহ-অভিনেতা-পরিচালক-প্রযোজকের সঙ্গে। কখনো হাওয়ায় ওড়ে গোপন প্রেমের গুজব। তবে সবচেয়ে চর্চিত নাম মার্কিন প্রেসিডিডেন্ট জন এফ কেনেডি। সঙ্গে দুজনের আলাপ নাকি পার্টিতে। এই সম্পর্ক নিয়ে কম চর্চা হয়নি। ১৯৬২ সালে কেনেডির জন্মদিনে আমন্ত্রিত ছিলেন মনরো এবং পার্টিতে তার গাওয়া ‘হ্যাপি বার্থডে মি. প্রেসিডেন্ট’ গানটি পায় জনপ্রিয়তা।
১৯৬২ সালের ৫ অগাস্ট লস অ্যাঞ্জেলসে নিজের ঘরে মেরিলিন মনরোকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আপাতভাবে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলেই চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু তার মৃত্যু নিয়েও তৈরি হয় রহস্য।