Published : 11 May 2025, 03:08 PM
নির্দিষ্ট কোনও বাদ্যযন্ত্র বা বিশেষ ভঙ্গিতে রবীন্দ্রসংগীত গাওয়ার পক্ষপাতী নন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গায়ক নচিকেতা চক্রবর্তী।
তার মতে এই সময়ে দাঁড়িয়ে আধুনিক বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে রবীন্দ্রসংগীত গাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
এছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যের যে ভাণ্ডার রেখে গেছেন সেটিকে বিশাল সম্পদ বলেও বর্ণনা করেছেন এই গায়ক। সেই সঙ্গে কবির গানে নিজের কথা বসিয়ে গেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন নচিকেতা।
রবি ঠাকুরের গান নিয়ে নচিকেতা কথা বলেছেন কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারের সঙ্গে।
রবীন্দ্রনাথের গান সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন নচিকেতা। সেই যুক্তিতে রবীন্দ্রনাথের ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে’ গানে নিজের কথা বসিয়ে গেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
নচিকেতা বলেন, “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলতে হয়’। এরকম একটা নয়, একাধিক গানে নিজের ভাবনা জুড়ে দিয়েছি। একাধিক অ্যালবাম আছে আমার। অন্য রকমভাবে তাকে দেখানোর চেষ্টা করেছি। কবির মনের আসল অর্থ সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এটাই মনে হয় করা উচিত।”
রবীন্দ্রসংগীত গাওয়ার ক্ষেত্রে বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহারে আধুনিকতা আসার পক্ষে নচিকেতা।
তার কথায়, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়ে গিটার, কি-বোর্ড, চেলো ছিল না। থাকলে তার মত অত্যন্ত আধুনিকমনস্ক মানুষ এ সব যন্ত্র ব্যবহার করতেন। আজকের দিনে রবীন্দ্রনাথের গান ডিজিটালে রেকর্ডিং হবে। আধুনিক বাদ্যযন্ত্র দিয়েই হবে।”
নচিকেতা বলেছেন, তিনি একটু বেশি বয়সে এসে রবীন্দ্রনাথকে জানতে শুরু করেন।
“তার লেখা যখন খুঁটিয়ে পড়তে শুরু করি তখন অনেকটাই প্রাপ্তবয়স্ক বা প্রাপ্তমনস্ক। কম বয়সে কিছু একটা লেখার পর আলাদা উন্মাদনা, যেন নতুন একটা কিছু করে ফেলেছি। পরে দেখলাম, রবীন্দ্রনাথ অনেক দিন আগেই সেটি করে ফেলেছেন! তাবে এড়িয়ে বা পেরিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা নেই।
“তাকে জানতে জানতে মনে হয়েছে, রবীন্দ্রনাথ বোধহয় সংখ্যায় বেশি বিশ্বাস করতেন। ওই জন্য অনেক বেশি গান লিখেছেন। যা দিয়ে গিয়েছেন তা আমাদের সম্পদ।”
রবীন্দ্রনাথ তার বিপুল সংগীত সম্ভার প্রেম, পূজা, প্রকৃতিসহ নানা পর্যায়ে ভাগ করেছেন। এই বিভাজন অবশ্য মানতে নারাজ নচিকেতা।
“আমার বিশ্বাস, পূজা পর্যায়ের গান, প্রেম পর্যায়ের মনে হতেই পারে। সেই জায়গা থেকে সম্ভবত কোনও গানের পর্যায় ভাগাভাগি উচিত নয়।”
কবিকে ‘না বুঝেই’ সবাই তার গান গেয়ে যাচ্ছেন বলে খেদ প্রকাশ করেছেন নচিকেতা। এক্ষেত্রে সেকাল-একাল দুই সময়ের শিল্পীদেরই কথাই বলেছেন তিনি।
“তার মধ্যে থাকা অন্তর্নিহিত ভাব বোঝার তাগিদটাই কারও মধ্যে নেই। তাই মনখারাপ হলে কারও গান শুনতে পারি না। এখনকার বা আগের কোনও শিল্পীর গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনি না। তাদের গান শুনলেই বুঝতে পারি, কবিকে না জেনে গাইছেন। একমাত্র পীযূষকান্তি সরকারের গান শুনি। তার গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীত ছুঁয়ে যায় আমায়।”