১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সেদিন একলা ঘরে কান্নায় ভেঙে পড়েন শাহরুখ কন্যা সুহানা

বোর্ডিংয়ে পড়ার সময় অভিনয় নিয়ে অস্বস্তি কমতে থাকে সুহানার।

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Jan 2026, 10:52 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:34 PM

যোইয়া আখতারের পরিচালনায় ‘দ্য আর্চিস’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে সিনেমায় অভিষেক হলেও শুরুতে এ কাজটিকে কখনোই পেশা হিসেবে নিতে চাননি শাহরুখ খানের মেয়ে সুহানা খান। 

তবে স্কুলজীবনের এক তিক্ত অভিজ্ঞতা এই তরুণীর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়।

প্রথম সিনেমায় সুহানা কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন। এনডিটিভি লিখেছে, হার্পারস বাজার ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুহানা তার সেই কটাক্ষ ও বদলে যাওয়া চিন্তাভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন।

স্কুলের নাটকে অংশ নিতে সুহানা খুব একটা স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। মঞ্চে উঠলে অস্বস্তি লাগত, নিজেকে তার ‘অদ্ভুত প্রাণী’ গোছের কিছু একটা মনে হত।

যুক্তরাজ্যের আর্ডিংলি কলেজে বোর্ডিংয়ে পড়ার সময় অভিনয় নিয়ে অস্বস্তি কমতে থাকে সুহানার। একবার একটি নাটকে এক বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই চরিত্রে সুযোগ পাননি। অডিশন দিয়ে এবং বহু চেষ্টা করে শেষমেশ সেই নাটকে কোরাসের মধ্যে জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। 

ফলে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন সুহানা। বন্ধ ঘরে কান্নাকাটি করেছিলেন। 

সুহানার কথায়, “আমি খুবই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। সেই সময়েই আমি বুঝতে পেরেছিলাম, মঞ্চে থাকার রোমাঞ্চকর সময় ও অভিনয় করতে আমি কতটা ভালোবাসি।” 

সুহানা বলেছেন, ওই অভিজ্ঞতাই তাকে বুঝিয়ে দেয় অভিনয় আর সৃজনশীল কাজের সঙ্গে তার গভীর আবেগের সম্পর্ক আছে।

অভিনেত্রী হিসেবে তাকে সবচেয়ে বেশি কোন বিষয়টি অনুপ্রাণিত করে জানতে চাইলে, তিনটি বিষয় তুলে ধরেছেন সুহানা।

সুহানা বলেন, ‘কৌতূহল, লক্ষ্য- এই দুই বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হল প্যাশন।”

এই তিন বিষয়ের সমন্বয়ই তাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন সুহানা। 

‘দ্য আর্চিস’ মুক্তি পেয়েছিল নেটফ্লিক্সে। আর বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশের সিনেমা হল ‘কিং’। সেখানে শাহরুখ সুহানার সহশিল্পী। ‘কিং’ সিনেমায় গুরু-শিষ্যার চরিত্রে পর্দায় আসবেন বাবা-মেয়ে। সুহানাকে নিখুঁতভাবে পর্দায় তুলে ধরতে তাকে নিজে হাতে অ্যাকশন দৃশ্যের তালিম দিচ্ছেন শাহরুখ।

এই সাক্ষাৎকারে বাবা–মা শাহরুখ খান ও গৌরি খানকে নিজের সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা বলে জানিয়েছেন তাদের কন্যা।

সুহানা বলেছেন, জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত বাবা-মার কথাই শেষ কথা। আর নিজেকে একজন অনুভূতিপ্রবণ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

“আমি অনেক সময় অতিরিক্ত ভাবনায় ডুবে যাই। তখনই মা–বাবা আমাকে ঠিক রাস্তাটি দেখিয়ে দেন।”

সুহানার কথায় জানা গেল, বাবার কাছ থেকে দার্শনিক ধরনের পরামর্শ পান তিনি।

আর বাস্তববাদী কথা বলেন তার মা।

বাবা-মায়ের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেই তিনি ভারসাম্য খুঁজে পান বলে জানিয়েছেন তিনি।