Published : 30 May 2026, 11:56 PM
বলিউডে শাহরুখ, আমির ও সালমান-এই খান ছাড়াও আরেকজন হলেন সাইফ আলী খান। তিন খানের সমসাময়িক সময়ে কাজ শুরু করলেও অভিনেতা হিসেবে জায়গা করে নিতে সময় লেগেছিল সাইফের। ‘হালকা’ কিছু সিনেমায় অভিনয়ের জন্য মায়ের অসন্তোষের মুখেও পড়তে হয় তাকে।
এই অভিনেতার ক্যারিয়ারে মূল বাঁকবদল হয়েছিল ২০০১ সালে। ফারহান আখতার পরিচালতি ‘দিল চাহতা হ্যায়’ সিনেমার সমীর চরিত্র সাইফকে একজন অভিনেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয় দর্শকদের কাছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, এক সাক্ষাৎকারে সাইফ বলেন, “যখন আপনি ফিরে তাকাবেন, তখন সব কিছুই সেরা নয়, কিছু মুহূর্ত থাকে সেরা। সেটাই যথেষ্ঠ।”
সাইফের বলিউডের নাম লেখানো ১৯৯৩ সালে ‘পরম্পরা’ সিনেমা দিয়ে। তবে এই কাজটির আগে আরও একটি সিনেমা থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি। ‘পরম্পরা’ সিনেমার পর বেশ কিছু কাজ সাইফ করেন। তবে নব্বইয়ের দশকে একক হিরো হিসাবে তেমন কোনও সাফল্য নেই শর্মিলা পুত্রের।
২০০১ সালের পর বেশ কিছু হিট সিনেমা সাইফের ঝুলিতে আসে। তবে ছেলের অভিনয় নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট ছিলেন না মা শর্মিলা।
‘হম সাথ সাথ হ্যায়’, ‘কাচ্চে ধাগে’, ‘ম্যায় খিলাড়ি তু আনাড়ি’, ‘ইয়ে দিললাগি’, ‘কয়া কহেনা’র মত বহু সিনেমায় অভিনয় করেন সাইফ। এসব সিনেমা জনপ্রিয় হলেও একক অভিনেতা হিসাবে নাম করতে পারেননি তিনি।
২০০৪ সালে যশরাজ ফিল্মসের প্রযোজনায় মুক্তি পায় প্রেমের সিনেমা ‘হম তুম’, সেখানে তার নায়িকা ছিলেন রানি মুখোপাধ্যায়। ‘হম তুম’ সিনেমার অভিনয় করে অভিনেতা হিসাবে জাতীয় পুরস্কারও পান সাইফ। ২০০৪ সালের পর ‘সালাম নমস্তে’, ‘রেস’, ‘লাভ আজ কাল’ এবং ‘ককটেল’ করেন তিনি। এই সিনেমাগুলোতেও সাইফের অভিনয় প্রশংসিত হয়।
তবু মা শর্মিলা বলেন, “তোমাকে অভিনেতা হিসাবে তেমন আকর্ষণীয় মনে হয় না। আরও সৃজনশীলভাবে ভাবতে হবে।”
সাইফ বলেন, মায়ের এই কথাটা তাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেয়। এর আগে সবকিছুই তিনি হালকাভাবে নিয়েছেন। তিন্তু মায়ের কথার পর থেকে নিজেকে ভাঙতে শুরু করেন। চরিত্রগুলোর সঙ্গে যাপন শুরু করেন বলে ভাষ্য অভিনেতার।
সাইফের কথায়, ‘‘আমি মাকে আগে বলতাম, আমি অমুক জায়গা শুটিংয়ে যাচ্ছি। দারুণ লোকেশন। তখন এক দিন মা বলল, আমি শুনতে চাই যে দিন তুমি বলবে এই চরিত্রটা করে আমার দারুণ লাগল। আসলে মা আমার চোখ খুলে দেয়। তার পর থেকে অভিনয় নিয়ে সত্যিকার ভাবনাচিন্তা শুরু করি।”
অবশেষে মায়ের কথা শুনেই অভিনয়কে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন সইফ।
তার কয়েক বছর পরে, ২০০৬ সালে ‘ওমকারা’ সিনেমায় সমালোচকদের নজর কাড়েন সাইফ। তেমনিভাবে ওটিটিতে ‘সেক্রেড গেমস’-এর মত চরিত্রও অভিনেতা হিসাবে সাইফকে পরিচিতি দিয়েছে।