Published : 21 Mar 2026, 01:26 PM
চার বছর পর বিরতির পর কনসার্টে ফিরছে জনপ্রিয় কে-পপ আইকন ‘বিটিএস’।
স্বাভাবিকভাবেই তাদের ভক্ত ‘বিটিএস আর্মি’র মধ্যে এই কনসার্ট ট্যুর নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে উন্মাদনা। বিশ্লেষকদের ধারণা এবার বিটিএস কনসার্টের সব পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিতে যাচ্ছে।
সিউলে শনিবার কনসার্ট দিয়ে নিজেদের কামব্যাক ঘোষণা করছে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই বয় ব্যান্ড। একে একে তারা বিশ্বের ২৩টি দেশের ৩৪টি শহরে ৮২টি কনসার্টে অংশ নেবে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আয়ের দিক থেকে নতুন রেকর্ড গড়বে বিটিএস। এর আগে টেইলর সুইফটের ‘এরাস ট্যুর’ কনসার্ট সিরিজ ২১ মাসে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল শুধু টিকেট বিক্রি থেকে। বিটিএস সুইফটকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে এএফপি।
বিটিএস যে শহরে কনসার্ট করবে সেখানে অর্থনীতির ওপর বিরাট প্রভাব রাখবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা। কনসার্ট দেখতে ভক্তদের এক শহর থেকে আরেক শহরে ভ্রমণ, থাকা, খাওয়া, বিটিএস-এর অফিসিয়াল মার্চেন্ডাইস (টি-শার্ট, পোস্টার, ব্যাগ, জুতা থেকে শুরু করে নানা ব্যবহার্য ও সংগ্রহে রাখার মত স্মারক) সবকিছুই অবদান রাখবে অর্থনীতিতে যাকে নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিটিএসনোমিকস’।
বিটিএসের সফর শুরু হবে ৯ এপ্রিল দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়াং দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বভ্রমণ যা শেষ হবে ১১ মাস পর ফিলিপিনসে। এর মাঝে উত্তর আমেরিকায় ৩০টি কনসার্ট করবে ব্যান্ডটি।
পারডু ইউনিভার্সিটির পর্যটনের অধ্যাপক সুচেং জাং এই প্রসঙ্গে এএফপিকে বলেন, “আমার মনে হচ্ছে এই অর্থনৈতিক ঢেউয়ের প্রভাব যেসব দেশ ও শহরে কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে, সে সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে। যে পরিমান কনসার্ট তারা করছে, বিটিএসআর্মিসহ তাদের বিশাল ভক্তশ্রেনী এবং ব্যান্ডের জন্য জমে থাকা প্রত্যাশার বিস্ফোরণ বিবেচনা করে, আমি মনে করি যে এই প্রভাব সত্যিই ‘টেলরনমিক্স’-এর চেয়ে অনেক বেশি হবে।”

নেটফ্লিক্স ও পর্যটন
সিউলের আইবিকে ইনভেস্ট অ্যান্ড সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক কিম ইউ-হিউক বলেন, ‘খুব রক্ষণশীল’ হিসেবেও বিটিএসের ৮২ দিনের কনসার্ট ট্যুরের টিকিট ও মার্চেন্ডাইস বিক্রি থেকে দুই বিলিয়ন ডলার আয় হবে। ৬০ লাখ মানুষ এসব কনসার্ট দেখবেন। বিটিএস সামনের বছর নতুন ট্যুরের সূচিও ঘোষণা করতে পারে।
শনিবার তাদের কামব্যাক কনসার্টে দুই লাখ ৬০ হাজার দর্শক উপস্থিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেটফ্লিক্স কনসার্টটি লাইভস্ট্রিম করবে।
নেটফ্লিক্সের কর্মকর্তা ব্র্যান্ডন রিগ শুক্রবার এএফপিকে বলেন, “নেটফ্লিক্স যত কনসার্ট আয়োজন করেছে এটা তার মধ্যে সবচেয়ে বড়।”
বিটিএসের ফিরে আসার মধ্যে দিয়ে পুরো বিশ্বে কোরিয়ার সংস্কৃতি ও পণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্লো-স্টিক থেকে টুনা মাছের ক্যান
বিটিএস কনসার্ট ট্যুরে টিকেটের পাশাপাশি আয়ের অন্যতম উৎস মার্চেন্ডাইস। বিটিএস ও এর সদস্যদের নামাঙ্কিত, ছবি সম্বলিত কিংবা গানের থিমে তৈরি প্রায় সবকিছুই বাজার ছেয়ে ফেলেছে। এর মধ্যে রয়েছে কম্বল, পোশাক, পুতুল থেকে শুরু করে গ্লো-স্টিক ও টুনা মাছের ক্যান।
কে-পপ থিমের পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান শিনসেগে ডিউটি ফ্রি জানিয়েছে তাদের বিটিএসের সব পণ্য প্রায় শেষ হওয়ার পথে। তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্চের ১৩ থেকে ১৯ তারিখ পর্যন্ত তাদের বিটিএস পণ্যের বিক্রি ৪৩০ শতাংশ বেড়েছে আগের সপ্তাহের চেয়ে।
শিনসেগের মুখপাত্র বলেন, “সবচেয়ে দ্রুত বিক্রি হয়েছে চাবির রিং। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় টুথব্রাশ, টুথপেস্ট ও ডিসপোজেবল ব্যান্ডেজের স্টকও শেষ।”
সিমোন ফ্রেসার ইউনিভার্সিটির কালচাল অ্যান্ড ডিজিটাল টেকনোলজির অধ্যাপক ডাল ইয়ং জিন এএফপিকে বলেন, “ইন্টেলেকচুয়াল প্রপারটির ক্ষেত্রে বিটিএস নতুন অর্থনৈতিক মডেলের সৃষ্টি করেছে। শুধু একটি নির্দিষ্ট নয় মেধাস্বত্ব, ট্রেডমার্ক ও ডিজাইনের ক্ষেত্রেও তারা নতুন ধারা তৈরি করেছে। গেমস, কমিকস ও মিউজিক ভিডিও পর্যন্ত তাদের মেধাস্বত্ব বিস্তৃত।”

কোরিয়ান সবকিছু
দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, মার্চের ১ থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত বিদেশি পর্যটকের আগমন আগের বছরের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
বিটিএস সংশ্লিষ্ট এজেন্সি হাইব জানাচ্ছে, কনসার্ট ট্যুরের ঘোষণা আসার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হোটেলস ডটকমে, সিউলে বিদেশি পর্যটকদের হোটেল সার্চের সংখ্যা ১৬০ শতাংশ বেড়েছে। বুসানের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির পরিমাণ ২,৪০০ শতাংশ।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সামাজিকবিজ্ঞানের অধ্যাপক জি-উক শিন বলেন, “অর্থনৈতিকভাবে ব্যান্ডটি প্রভাব বোঝা যায় দক্ষিণ কোরিয়ায় পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধি ও বিশ্বজুড়ে কে-পপের জনপ্রিয়তা দেখে। এর ধাক্কা এসে লেগেছে কে-ড্রামা, কোরিয়ার ফ্যাশন ও খাওয়া-দাওয়াতেও। নানা ক্ষেত্রেই ‘কে-এভরিথিং’ এর ঢেউকে তরান্বিত করতে প্রভাব রেখেছে বিটিএস। যা নানা সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিস্তৃতিতে ভূমিকা রেখেছে।”