Published : 03 Apr 2026, 11:23 PM
ঘরের বাইরে পা ফেলতে চাওয়া নারীর জন্য প্রথম বাধা যে ঘরের ভেতর থেকেই আসে, মঞ্চে সেই গল্পের নাটক ‘খনা’ ফের আসছে প্রদর্শনীতে
নাট্যদল বটতলা এই উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী এক উৎসবের আয়োজন করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে নাট্যদলটি জানিয়েছে, আগামী ১০ ও ১১ এপ্রিল ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে হবে এই উৎসব। যেখানে ‘খনার’ প্রদর্শনীসহ থাকবে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম।

১০ এপ্রিল সকালে শিল্পী ও অ্যাক্টিভিস্ট অরূপ রাহীর পরিচালনায় ‘উদয়ভানু সঙ্গ’ অধিবেশনের মাধ্যমে উৎসব শুরু হবে। এরপর আমন্ত্রিত শিল্পীদের যন্ত্রসংগীত সরোদ, বেহালা এবং গান পরিবেশনার আয়োজন থাকবে।
সকালের পর্বে শিশুদের জন্য থাকছে বিশেষ আয়োজন। ব্রতচারী নৃত্য, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, গান ও আবৃত্তির পাশাপাশি মৃৎশিল্পী খোকন কারিগরের পরিচালনায় ‘মাটির পাঠশালা’ এবং চিত্রশিল্পী মনজুর রশীদের পরিচালনায় ‘আঁকিবুকিতে বসন্ত’ শীর্ষক আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া শিশুদের বিনোদনের জন্য থাকবে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের পরিবেশনা।
দুপুরে টাঙ্গাইলের প্রয়াত কুদরত আলী লাঠিখেলা দলের পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা প্রদর্শন করা হবে।
পাশাপাশি কুমার গাতা ওয়াসিম বয়াতি ও মাহমুদপুর আজিজুল বয়াতির দলের পরিবেশনায় থাকবে ঐতিহ্যবাহী ধুয়া গান।
উৎসবের অংশ হিসেবে ‘দেশীয় পণ্যের মেলা’ আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে দর্শনার্থীরা বিষমুক্ত শাকসবজি, কৃষিপণ্য, দেশীয় খাবার, কারুপণ্য, পোশাক ও বইপত্রের পসরা দেখতে পারবেন। এই মেলার ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ‘প্রাকৃত সমাজ’।
সন্ধ্যায় সমগীত, চারকোল, মাভৈ, কুয়াশা মূর্খ, গীতলবঙ্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিবেশনা করবে। একই সঙ্গে ‘দর্শকের ক্যামেরায় খনা’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে।
এছাড়াও এ দিন সন্ধ্যায় গবেষক, শিক্ষক, শিল্পী ও সমালোচকদের অংশগ্রহণে হবে ‘খনা’র আলাপ অনুষ্ঠান। এরপর সৌম্য সরকার ও ব্রাত্য আমিন নির্মিত বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে শেষ হবে প্রথম দিনের আয়োজন।
১১ এপ্রিল উৎসবের দ্বিতীয় দিনেও ‘দেশীয় পণ্যের মেলা’ চলবে। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে ‘খনা’র শততম মঞ্চায়ন। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন মোহাম্মদ আলী হায়দার।
বটতলা বলছে, 'খনা' এমন এক আখ্যানের মঞ্চকৃতি; যা নারী ও শ্রেণির প্রশ্নকে সামনে আনে। গল্পটা পনেরশ বছর আগের হলেও আজো সমান প্রাসঙ্গিক।

নারী প্রশ্নে, সমতার প্রশ্নে, শ্রেণির প্রশ্নে ক্ষমতাকাঠামোর নানান সমীকরণের নিবিড় ও বহুমাত্রিক পাঠের প্রস্তাবনা নিয়ে 'খনা' এমনই মঞ্চকৃতি; যা এই সময়ের কথাই বলে দূর অতীতের ইশারাসমেত।
বটতলা বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলেছে, “ঘরের বাইরে পা ফেলা নারীর প্রথম বাধা যে ঘরের ভেতর থেকেই আসে। এই নাট্যের বর্ণনা আমাদের বলে যে- যে জানে সে মূঢ় নয়, মূঢ় সেই যে যে জেনেও বোঝে না কত কম জানা যায়।
“প্রজন্মান্তরে চলা যে কৃষি জ্ঞান ও প্রজ্ঞা খনার নামে বহমান তার ঠিকুজি কুষ্ঠির খোঁজে নাটক খনা চলে চাষীদের বেগুন ক্ষেত, কলা বাগান মাড়িয়ে ছোট্ট উঠানে। আর খনা তার জীবনের নানা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে এক অন্য সত্যের মুখে দাঁড় করান দর্শকদের।”
২০১০ সালের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শততম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হয়েছিল ‘খনা’র প্রথম প্রদর্শনী হয়েছিল।
এরপর গত ষোল বছরে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত হয়েছে নাটকটি।