Published : 24 Sep 2024, 08:38 AM
সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠিত হওয়ায় চলচ্চিত্র থেকে ‘সেন্সরের খড়গ’ উঠে যাবে বলে চলচ্চিত্রকর্মীরা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, বিদ্যমান আইনে তা পূরণ হওয়ার নয় বলে মনে করছেন তারাই। কারণ সার্টিফিকেশন আইনেও রয়ে গেছে ‘সেন্সরের কাঁচি’।
সিনেমা বাতিল বা স্থগিত করার এখতিয়ার রয়েছে নতুন সার্টিফিকেশন বোর্ডের। তাই নয়, কোনো জেলা প্রশাসক চাইলে তার জেলায় সার্টিফিকেট পাওয়া সিনেমার প্রদর্শনও বন্ধ করতে পারবেন বলে সার্টিফিকেশন আইনে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্য দিয়ে ৬৪ জেলাতেই মূলত সেন্সর বোর্ডকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
পাশাপাশি ওটিটিসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সিনেমাকেও সেন্সরের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া সিনেমা বাতিল করার চূড়ান্ত এখতিয়ার থাকছে বোর্ড চেয়ারম্যানের।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চলচ্চিত্রকে নতুন করে ‘বেঁধে ফেলা’ এবং ‘নিয়ন্ত্রণের বাসনা’ থেকে সার্টিফিকেশন আইনটি করা হয়েছে।
এর আগে সার্টিফিকেশন আইনটিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামও। তিনি বলছেন, চলচ্চিত্রের উন্নয়নের স্বার্থে এই আইনকে সংশোধন করার কাজ চলছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সবশেষ মেয়াদে ১৯৬৩ সালের ‘সেন্সরশিপ অব ফিল্মস অ্যাক্ট’ রহিত করে গত নভেম্বরে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন ২০২৩’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২৯ অক্টোবর সংসদে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বিল, ২০২৩’ বিল পাস হয়।
গত ১২ মে সবশেষ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড গঠন করে সরকার। এরপর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১৫ সেপ্টেম্বর সেন্সর বোর্ড পুনর্গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
এরপরই চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সমালোচনা আসতে থাকে। ‘চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন থাকার পরও কেন ‘সেন্সর বোর্ড’ শিরোনামে গত ১৭ সেপ্টেম্বর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
পরে ১৮ সেপ্টেম্বর তথ্য উপদেষ্টা সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠন করার কথা জানান। এর প্রেক্ষিতে গত রোববার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেট আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩-এর উপ-ধারা (১) অনুযায়ী সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১৫ সদস্যের চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যানকে বোর্ডের সদস্য সচিব করা হয়।

বোর্ডের অন্য সদস্যের মধ্যে রয়েছেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গবেষক জাকির হোসেন রাজু, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক রফিকুল আনোয়ার রাসেল, প্রযোজক, পরিচালক জাহিদ হোসেন, চলচ্চিত্র সম্পাদক ইকবাল এহসানুল কবির, চলচ্চিত্র পরিচালক খিজির হায়াত খান; অভিনেত্রী নওশাবা আহমেদ এবং চলচ্চিত্র পরিচালক তাসমিয়া আফরিন মৌ।
এছাড়া পদাধিকারবলে বোর্ড সদস্য হয়েছেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র), জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্মসচিব বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার প্রতিনিধি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি।
কী আছে আইনে
সার্টিফিকেশন আইনে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশে নির্মিত চলচ্চিত্র, আমদানিকৃত বিদেশি চলচ্চিত্র, বাংলাদেশি কোনো ব্যক্তি কর্তৃক দেশে বা বিদেশে নির্মিত কোনো চলচ্চিত্র এবং যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত চলচ্চিত্র জনসাধারণের মধ্যে যে কোনো মাধ্যমে প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে পরীক্ষণ ও সার্টিফিকেশন প্রদানের জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড নামে একটি বোর্ড গঠন করবে।”
বোর্ডের কার্যাবলিতে বলা আছে, "এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ডের কার্যাবলি হবে চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশন প্রদানের লক্ষ্যে আবেদন গ্রহণ। চলচ্চিত্রের শ্রেণিবিন্যাস ও মূল্যায়ন প্রতীকসহ সার্টিফিকেশন প্রদান। চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশন সাময়িক স্থগিত বা বাতিলকরণ। চলচ্চিত্রের প্রচার সামগ্রীর অনুমোদন প্রদান। যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশন প্রদান। চলচ্চিত্র আমদানি ও রপ্তানির অনুমোদন ও সার্টিফিকেশন প্রদান। সরকার কর্তৃক, সময় সময়, অর্পিত অন্য কোনো কার্য সম্পাদন।”
সার্টিফিকেশন সাময়িক স্থগিতকরণ বিষয়ে আইনে বলা আছে- “(১) ধারা ৫ এর উপধারা (২), (৩) ও (৪) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি চেয়ারম্যানের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কোনো একটি সার্টিফিকেশনপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র জনগণের মধ্যে প্রদর্শিত হওয়া সমীচীন নহে, তাহা হইলে তিনি কারণ উল্লেখপূর্বক উক্ত চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশন সাময়িকভাবে স্থগিতের আদেশ জারি করিতে পারিবেন।”
“যদি কোনো জেলা প্রশাসকের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কোনো একটি সার্টিফিকেশনপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র তাহার এখতিয়ারভুক্ত জেলার জনগণের মধ্যে প্রদর্শনের অনুপযোগী বা উহার প্রদর্শন জনস্বার্থে স্থগিত করা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি উক্ত চলচ্চিত্রের প্রদর্শন সাময়িকভাবে স্থগিতের আদেশ জারি করিতে পারিবেন।”
৬৪ জেলায় বিস্তৃত হয়েছে ‘সেন্সরবোর্ড’
চলচ্চিত্র গবেষক ও সমালোচক অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এতদিন সেন্সর বোর্ড কোনো সিনেমাকে বাতিল করার এখতিয়ার রাখত। আর এখন সার্টিফিকেশন আইনে জেলা প্রশাসকও সিনেমাকে তার জেলায় বাতিল করার ক্ষমতা পেয়ে গেলেন। এতে করে যেটা হলো- ৬৪ জেলায় ৬৪টা ‘সেন্সর বোর্ড’ করে দেওয়া হলো।”
সার্টিফিকেশন আইনেও সেন্সরের খড়গ কেন, প্রশ্ন রেখে ফাহমিদুল হক বলেন, “চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন তো করা হয়েছে গ্রেডিং অনুযায়ী সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য। কোনো সিনেমা বাতিল করার জন্য তো নয়। তাহলে সিনেমাকে বাতিল করার ব্যাপারটি কেন রাখা হলো?

“নতুন আইনে সিনেমাকে বাতিল বা স্থগিত করার যে বিষয়গুলো রয়েছে, তা বিলোপ করে বাধামুক্ত সার্টিফিকেশন আইন চূড়ান্ত করতে হবে। একই সাথে একটা নির্দেশনা বা গাইডলাইন থাকতে পারে, যেখানে রাষ্ট্রের যে মৌলিক নীতি এবং তার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যেন সিনেমা বানানো না হয়।”
ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক বেলায়াত হোসেন মামুন বলছেন, সার্টিফিকেশন আইনটি মূলত 'সার্টিফিকেশন' নামের ছদ্মবেশে ঔপনিবেশিক সেন্সর আইনেরই নবায়নমাত্র।
এই আইনে চলচ্চিত্র নির্মাণ-প্রদর্শন ব্যবস্থা নতুন কোনো মুক্তি বা স্বাধীনতার স্বাদ পাবে না উল্লেখ করে মামুন বলেন, “কাঠামোগতভাবে আইনটি চলচ্চিত্রের স্বাধীনতার অবাধ পরিসরের কোনো অঙ্গীকার করে না৷ বরং ঔপনিবেশিক সেন্সর আইনের মতই এই নতুন আইনও চলচ্চিত্রকে ক্ষমতাসীন সরকারের বা স্পষ্ট করে বললে বলা যায়, ঔপনিবেশিক আমলাতন্ত্রের কাছে নতজানু হতে বাধ্য করেছে৷ ফলে, চলচ্চিত্র নির্মাণ-প্রদর্শন কাঠামোর স্বাধীনতা এই আইনে নেই।”
এত আমলা কেন?
সার্টিফিকেশন বোর্ড হয়েছে কেবলমাত্র নামেই, কাঠামোগতভাবে এর সবকিছুই সেন্সর বোর্ডের নামান্তর উল্লেখ করে বেলায়াত হোসেন মামুন বলেন, “যে সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠন করা হয়েছে, তাতে ১৫ সদস্যের বোর্ডে সরকারি পদাধিকারী আছেন ৭ জন৷ বেসরকারি পদাধিকারী আছেন একজন৷ অর্থাৎ বোর্ডের মোট ৮ জন সদস্যই সরকার-সংশ্লিষ্ট। এর বাইরে ৬ জন হচ্ছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি৷ ফলে বোর্ডে সংখ্যাগরিষ্ঠ হচ্ছেন আমলারা৷


“আইনের কোন ধারার মতে এতজন আমলাকে বোর্ডের সদস্য করা হলো? তারা কী ঔপনিবেশিক সেন্সর আইনের আমলাতান্ত্রিক কাঠামোতেই বোর্ড গড়লেন না?” প্রশ্ন রাখেন তিনি।
এই বোর্ডের কাছে ভালো কিছুর আশা করাটা বোকামি হবে বলে মনে করেন মামুন।
তিনি বলেন, “বোর্ডের কিছু সদস্যের আন্তরিকতা থাকলেও তারা শক্তিহীনই থাকবেন৷ এই আইনও আগের সেন্সর আইনের মতই দমনমূলক এবং চলচ্চিত্রের মুক্তি ও স্বাধীনতার প্রশ্নে নতুন প্রতিবন্ধক৷ আমরা যে সার্টিফিকেশন আইন চাই, তা এই আইন নয়৷ এই আইন তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্রকে নতুন করে বেঁধে ফেলার জন্য, অথচ সেন্সর থেকে সার্টিফিকেশনে উত্তরণের অর্থ হলো-চলচ্চিত্র মুক্ত হবে৷ হয়েছে ঠিক এর উল্টো।”
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কাউকে বোর্ডের প্রধান করার প্রস্তাব করে মামুন বলেন, “যদি সত্যিকারের সার্টিফিকেশন বোর্ড হতো, তাহলে বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হতো দেশের চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট কোনো গ্রহণযোগ্য ও সম্মানিত ব্যক্তিকে৷ বোর্ডের সচিব থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা৷ এর বাইরে কেবলমাত্র আইন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা থাকতে পারেন বোর্ডে, আইনগত বিষয়গুলোতে মতামতের দরকারে৷ এছাড়া বোর্ডের বাকি সকল সদস্য হবেন বেসরকারি ব্যক্তিবর্গ৷ যারা চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন হবেন৷ আমি তো সার্টিফিকেশন বোর্ড বলতে এমন কিছু বুঝি।”
ওটিটির সিনেমাও কী সার্টিফিকেশন বোর্ডে জমা দিতে হবে?
ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য নির্মিত ‘আমীমাংসিত’ সিনেমাকে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সেন্সর বোর্ডে জমা দিতে বলেছিল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। পরে ২৪ এপ্রিল সিনেমাটি ‘প্রদর্শন উপযোগী নয়’ বলে সিদ্ধান্ত জানায় সেন্সর বোর্ড।
সে সময়ই প্রশ্ন ওঠে, সার্টিফিকেশন বোর্ড না গঠন করে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের একটি সিনেমাকে কেন সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র নিতে চিঠি দেওয়া হলো?
‘ওটিটির সিনেমায় কেন সেন্সরের খড়গ’ শিরোনামে গত ২৭ এপ্রিল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
‘অমীমাংসিত সিনেমাটিকে অবৈধভাবেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে জানিয়ে সিনেমাটির নির্মাতা রায়হান রাফী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তখন তো সার্টিফিকেশন বোর্ডই ছিল না। তাহলে সেন্সর বোর্ড কিভাবে ওটিটির সিনেমাকে বাজেয়াপ্ত করে? সেই বাজেয়াপ্ত তো অবৈধ। আমরা এ বিষয়টি বর্তমান বোর্ডকে জানাব।”

গত ফেব্রুয়ারিতে ‘অমীমাংসিত’ সিনেমাকে সেন্সরবোর্ডে জমা দিতে মন্ত্রণালয় থেকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, সেই চিঠির একটি কপি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম পেয়েছে।
তাতে দেখা যায় সার্টিফিকেশন আইনের ধারা ৫ এর উপধারা (১) অনুযায়ী সিনেমাটি সেন্সরবোর্ডে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল মন্ত্রণালয়।
সার্টিফিকেশন আইনের ওই ধারায় বলা আছে- “Cinematograph Act, 1918 (Act No. II of 1918) এর section 3 এর অধীন প্রাপ্ত লাইসেন্সে বর্ণিত কোনো স্থানে যে কোনো মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে কোনো চলচ্চিত্রের অনুকূলে সার্টিফিকেশন গ্রহণের জন্য উক্ত চলচ্চিত্রের প্রযোজক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চলচ্চিত্রের কপিসহ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বোর্ডের নিকট আবেদন দাখিল করিতে হইবে।”
নির্মাতা রাফী বলেন, “ওটিটির সিনেমাও যদি সেন্সর বোর্ডে জমা দিতে হয়, তাহলে তো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচার হওয়া নাটকও এখন থেকে সেন্সর করাতে হবে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সে অনুযায়ী সার্টিফিকেশন বোর্ডে আমরা কথা বলব। আশা করি তারা ‘অমীমাংসিত’ সিনেমাটি মুক্তির ব্যবস্থা করবেন।”
সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠন না করেই গত এপ্রিল মাসে সেন্সরবোর্ডে ‘অমীমাংসিত’ সিনেমাকে বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবদুল জলিল বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগের ঘটনা এটি। এ ব্যাপারে আমার জানা নেই। এখন নতুন বোর্ড গঠিত হয়েছে। সেই বোর্ডের সভায় বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে আশা করি। এরপর এ বিষয়ে জানাতে পারব।”
চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইনকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে, চলচ্চিত্রের উন্নয়নের স্বার্থে এই আইনকে সংশোধন করার কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে গত বুধবার সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, “২০২৩ সালের যে আইন রয়েছে সেটি অনেক ত্রুটিপূর্ণ, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই আইনটিও নানা অংশীজনের সাথে আলোচনা করে সংশোধনের জন্য আমরা কাজ করব। সে প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে। আইন ও বিধি নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।”
চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন সংশোধন হবে: তথ্য উপদেষ্টা
সার্টিফিকেশন আইনের পরও কেন সেন্সর বোর্ড পুনর্গঠন, ব্যাখ্যা দিল মন্ত্রণালয়
চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন থাকার পরও কেন 'সেন্সর বোর্ড'
কেন সেন্সর বোর্ডে বসতে চান না আশফাক নিপুণ?
শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের পর সেন্সর বোর্ডেও আশফাক নিপুণ ও নওশাবা