Published : 22 Dec 2025, 02:31 PM
আবহমান বাংলা সংস্কৃতির ওপর আক্রমণের প্রতিবাদে গানে গানে সংহতি-সমাবেশ করবে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট।
মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনের সামনে এই সমাবেশ হবে বলে ছায়ানট থেকে জানানো হয়েছে।
শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকসহ সংস্কৃতিসেবী এবং প্রগতিশীল মানসের সকলকে সংস্কৃতির ওপর সহিংস আক্রমণের প্রতিবাদে এই সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে ছায়ানট।
সমাবেশে সকলে মিলে গাওয়া হবে- মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম; ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি; চল চল চল ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল; ও আমার দেশের মাটি; যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে; আমার মুক্তি আলোয় আলোয়; গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান; মানুষ ছেড়ে খ্যাপা রে তুই; মানুষ হ’মানুষ হ’; তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর; হিমালয় থেকে সুন্দরবন; আমার প্রতিবাদের ভাষা গানগুলো।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্ববায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবরে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে ছায়ানট ভবনে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে; দেওয়া হয় আগুনও।
৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল মিছিল নিয়ে এসে হামলা করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। প্রথমে পার্কিং লটের দিকে আগুন দেওয়া হয়। পরে তারা ভবনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
এ সময় হামলাকারীরা ‘ভারতের দালাল’, ‘ভুয়া’,’ নারায়ে তাকবীর’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘ভাঙো’ এসব স্লোগান দেয়। প্রয়াত সন্জীদা খাতুনের প্রতিকৃতি কেটে নষ্ট করার সময় ‘নাস্তিক’ বলে সম্বোধন করে।

মিলনায়তনে হামলাকারীর যা পেয়েছেন সেটিই ভাঙচুর করে। তবলা, হারমোনিয়াম, তানপুরা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর করা হয়, পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পোড়ানোর পাশাপাশি ও তছনছ করা হয় বই, কাগজপত্র।
পুরো মনিটরিং সিস্টেম, ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা, স্পিকার, লাইট ও ফ্যান ভেঙে ফেলা হয় ওই রাতে। সেখানে থাকা মাটির তৈরি চারুকর্ম ও শিল্প কর্ম, কক্ষ ও অফিস রুমের বেশিরভাগ আসবাব ভেঙে ফেলা হয়।
বাদ যায়নি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কক্ষও। তাদের কক্ষের আলমারির গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়েছে। চেয়ার-টেবিল ভেঙেচুড়ে ওলট পালট করা হয়েছে। রমেশ চন্দ্র স্মৃতি মিলনায়তন, মূল মিলনায়তনসহ, শৌচাগারও রেহাই পায়নি ভাঙচুরের তাণ্ডব থেকে।
হামলাকারীরা সেখান থেকে বাদ্যযন্ত্রসহ নানা ধরনের সামগ্রী লুটপাটও করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, হামলাকারীদের মধ্যে একটি অংশ ছিল লুটপাটকারী। তারা বিভিন্ন কক্ষে গিয়ে টেবিলের ড্রয়ার ভাঙচুর করে খুঁজেছে টাকা-পয়সা আছে কি না। কেউ কেউ কিছু বাদ্যযন্ত্রসহ অন্যান্য সামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে।
এ হামলার পর ছায়ানট ভবনে পরিচালিত ‘ছায়ানট সঙ্গীতবিদ্যায়তনের’ ক্লাসসহ সংগঠনের সব কার্যক্রম পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
হামলার ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় শুক্রবার মামলা করেছে ছায়ানট, যেখানে তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।