Published : 07 Jul 2025, 09:57 PM
বিগত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আন্দোলন-সংঘাতের ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকেই দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর যে তথ্য দিয়েছিল সরকার, তারই ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় জানুয়ারি-মার্চ সময়ে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ বাড়ার তথ্য এল।
সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে চলতি মূল্যে মার্চ শেষে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরে একই সময়ে ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা ছিল।
অর্থ্যাৎ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় জিডিপির আকার বেড়েছে ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ যা আগের অর্থবছরে একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ।
সাময়িক হিসাব অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ ও ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকের জুলাই-মার্চ ২০২৩-২৪) তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ ২০২৪-২৫) প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ পয়েন্ট কম।
চলতি অর্থবছরের শুরুতেই সরকার পরিবর্তনের দাবিতে উত্তাল ছিল সারাদেশ। অবরোধ, সংঘাত ও ইন্টারনেট বন্ধ রাখার ঘটনায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছিল, যার প্রভাব পড়ে অর্থনীনতিতে। যে কারণে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যায়।
ক্ষমতার পালাবদলের পর অন্তর্বর্তী সরকার দেশের হাল ধরে। সরকার কিছুটা স্থিতিশীল হলে আন্দোলন সংগ্রামের চাপও কমতে শুরু করে। এতে অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাধারণ সময়ের মত।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখেছে শিল্প খাত। জানুয়ারি-মার্চ সময়ে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪ দশমিক শূন্য ৫৫ শতাংশ।
আর সেবা খাতে এই প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের এই সময়ে ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ ছিল।
অবশ্য এই সময়ে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় কমেছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক শূন্য ০২ শতাংশ।
বিবিএসের হিসাবে, জিডিপির আকার স্থির মূল্যে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৯২ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা যা আগের অর্থবছরের এই সময়ে ছিল ৮ লাখ ৫০ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা।
গতবছর বাজেটের সময় ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ সরকার। তখনকার অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছিলেন।
মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ডিসেম্বরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। কিন্তু সেই লক্ষ্যেও পৌঁছানো যায়নি। সংশোধনে তা ৫ শতাংশ হবে বলে ধরা হয়।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
সরকার আশা করছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রাক্কলিত (সংশোধিত) প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। আর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা ৬ শতাংশ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে।