ছয় মাসে বিদেশি অর্থছাড়ে প্রবৃদ্ধি ৭.৪৮ শতাংশ

অর্থবছরের এ সময়ে ঋণ পরিশোধ ও প্রতিশ্রুতিও বেড়েছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Jan 2024, 05:29 PM
Updated : 23 Jan 2024, 05:29 PM

বিদেশি ঋণ ও অনুদানের অর্থ ছাড় ডিসেম্বর শেষে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। অর্থবছরের প্রথমার্ধে মোট ৪০৬ কোটি ৩৮ লাখ ডলার ছাড় হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি। 

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম দিকে অর্থছাড়ের গতি কম ছিল। যে কারণে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে অর্থ ছাড় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ শতাংশ কমে যায়। 

মঙ্গলবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগী সংস্থা এবং দেশের প্রতিশ্রুতির মধ্যে ৪০৬ কোটি ৩৮ লাখ ডলার ছাড় হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরের ডিসেম্বর যা ছিল ৩৭৮ কোটি ৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ কোটি ৩২ লাখ ডলার বেশি ছাড় হয়েছে। 

গত নভেম্বর পর্যন্ত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণ ও অনুদান মিলে ছাড় হয়েছিল ২১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। 

সবশেষ তথ্য অনুযায়ী ডিসেম্বরে প্রায় ১৯৪ কোটি ৬৩ লাখ ডলার ছাড় হয়েছে। 

অর্থছাড় বেশি হওয়ার বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, মূলত ডিসেম্বরের প্রথম দিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বিশ্ব ব্যাংকসহ বেশ কিছু সংস্থা সরকারের অনুকূলে বাজেট সহায়তার অর্থছাড় করে। এতে অর্থছাড়ের পরিমাণ বেড়েছে। 

এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) বাস্তবায়নেও কিছুটা উন্নতি হওয়ায় সার্বিকভাবে গত ডিসেম্বরে বৈদেশিক মুদ্রার ছাড়ে উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। 

ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণ দাতাদের কাছ থেকে সরকার যে অর্থছাড় করতে পেরেছে সেটি থেকে ৩৯ শতাংশই আবার পুরনো ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছে।

গত ছয় মাসে পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ১৫৬ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। সে হিসাবে নিট বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪৯ কোটি ৫৯ লাখ ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে অর্থ পরিশোধের পরিমাণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৯ শতাংশ বেড়েছে। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে পাওনা পরিশোধ করা হয়েছিল ১০৫ কোটি ডলার। 

বেড়েছে নতুন প্রতিশ্রুতিও 

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর কাছ থেকে নতুন করে ৬৯৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে এ পরিমাণ অর্থায়নে চুক্তি হয়েছে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে। 

ছয় মাসে দাতাদের সঙ্গে সরকার আগের অর্থবছরের ছয় মাসের তুলনায় প্রায় ২৯৭ শতাংশ বেশি নতুন ঋণ চুক্তি করেছে। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ১৭৬ কোটি ২২ লাখ ডলারের চুক্তি হয়েছিল। 

তবে চলতি অর্থবছরের নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম পাঁচ মাসে বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১২ গুণ বেড়ে ৫৮৫ কোটি ৯১ লাখ ডলার হয়েছে। আগের অর্থবছরের নভেম্বরে যা ছিল ৪৬ কোটি ১৩ লাখ ডলার।