Published : 23 Jun 2026, 09:51 PM
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনিবাসী ‘কনভার্টিবল টাকা অ্যাকাউন্ট’ বা ‘রূপান্তরযোগ্য টাকা হিসাব’ নামে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর মাধ্যমে অনিবাসী বাংলাদেশিরা দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক পরিচালিত অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে বিদেশি মুদ্রায় পরিচালিত ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবেন। সেই ব্যাংক হিসাবের অর্থ স্থানীয় মুদ্রা টাকায় ভাঙানো যাবে।
আবার এ হিসাবের অর্থ দেশের ভেতরে কোথাও বিনিয়োগ বা শুধু সঞ্চয় হিসাবে রেখে যে সুদ বা মুনাফা পাওয়া যাবে, তা বিদেশি মুদ্রায় ফেরত নেওয়া যাবে।
প্রচলিত সুদ হারে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে বিদেশি মুদ্রায় পরিচালিত চলতি ও সঞ্চয়ীসহ সব ধরনের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতে পারবেন অনিবাসীরা।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ‘সোফর (সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট)’ এর সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ যোগ করে দেশীয় উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে পারে অফশোর ব্যাংক।
সোফর এর ৪ দশমিক ৫ শতাংশের সঙ্গে সর্বোচ্চ হারে আমানত সুদ যোগ করলে অন্যান্য বিদেশি মুদ্রায় পরিচালিত হিসাবের তুলনায় এ হিসাবে অনিবাসীদের সুদ আয় বেশি হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
অনিবাসীরা এখনো বিদেশি মুদ্রায় দেশীয় ব্যাংকে হিসাব পরিচালনা করতে পারেন। তবে সেখানে সুদহার তুলনামূলক কম।
অনিবাসী নাগরিকদের জন্য একই হিসাব থেকে বিদেশি মুদ্রা স্থানীয় মুদ্রায় বিনিময়যোগ্য করার এই সুযোগ বাংলাদেশে প্রথম।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, এর মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রার সরবরাহ বাড়বে।
প্রতিবেশী ভারত ও পকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ প্রবাসীদের এরকম সুবিধা দিয়ে সুফল পেয়েছে। দেশগুলোর রিজার্ভেও এর প্রভাব পড়েছে।
মঙ্গলবার ‘নন রেসিডেন্ট কনভারটিবল টাকা অ্যাকাউন্ট (এনআরসিটিএ)’ নীতিমালা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, স্থানীয় মুদ্রায় পরিবর্তন করা সম্ভব হওয়ায় এ হিসাবের বিপরীতে দেশের ভেতরে ঋণও নিতে পারবেন অনিবাসীরা।
প্রয়োজনে দেশে থাকা স্বজনের মাঝে স্থানীয় মুদ্রায় অর্থ স্থানান্তর করার সুযোগ রাখা হয়েছে। আবার স্থানীয় পর্যায়ে একবারে বিনিয়োগযোগ্য অর্থাৎ জমি কেনা ও আবাস নির্মাণে এসব হিসাব থেকে অর্থ নিতে পারবেন অনিবাসীরা।
বিদেশি মুদ্রায় পরিচালিত অনিবাসীদের এসব হিসাবের অর্থ স্থানীয় মুদ্রা টাকায় বদলে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক।
সেক্ষেত্রে শুধু অর্থনৈতিক অঞ্চলে থাকা ‘এ’ শ্রেণির প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও চলতি পরিষেবার দায় পরিশোধে ঋণ নিতে পারবে।
অনিবাসীরা এ হিসাবের মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজার বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে এবং বিদেশেও বিনিয়োগ করতে পারবেন।
একইভাবে এই হিসাব থেকে অর্থ নিয়ে দেশের ভেতরে কোনো দায় পরিশোধ বা সেবা ফি দিতে পারবেন।
তারা নিজ নামে ঋণ নেওয়ার বেলায় কৃষি, আবাসন ও বনায়নের মত উচ্চ ঝুকিঁ খাতে নিতে পারবেন না। তবে এ হিসাবকে জামানত রেখে স্বজনদের ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এই হিসাব থেকে অন্যান্য অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, সুদ/লাভ, অনুমোদিত বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয়, শেয়ার সাবস্ক্রিপশনের ফেরত এবং অন্যান্য অনুমোদিত বিদেশি মুদ্রা-সংক্রান্ত অর্থ জমা হতে পারবে বলে সার্কুলারে জানানো হয়েছে।