Published : 10 Apr 2026, 12:31 AM
আওয়ামী লীগ আমলে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর ও করপোরেট করের মত প্রত্যক্ষ কর খাতে ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা ছাড় দিয়েছে সরকার।
ছাড় দেওয়া এ কর অব্যাহতির পরিমাণ ওই অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর ও করপোরেট কর থেকে আদায় করা রাজস্বের ৯৯ শতাংশের সমান।
২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রত্যক্ষ কর থেকে এনবিআর কর বা রাজস্ব বাবদে ১ লাখ ৮ হাজার ২০৪ কোটি টাকা আহরণ করেছিল।
মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বিবেচনায় কর ছাড়ের ওই পরিমাণ ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ এ পরিমাণ কর ছাড় না দিলে কর-জিডিপি অনুপাত আরও ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ বাড়ত।
বৃহস্পতিবার প্রকাশ পাওয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক প্রতিবেদনে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রত্যক্ষ করের ছাড়ের এ চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, করপোরেট করে ছাড় দেওয়া হয়েছে ৭৩ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা, যা সাকুল্যে দেওয়া প্রত্যক্ষ কর ছাড়ের ৬৯ শতাংশ।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা কর ছাড় দেওয়া হয়েছে ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক কল্যাণ খাতে; যা করপোরেট কর ছাড়ের ১৭ দশমিক ০১ শতাংশ।
এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কর ছাড়ের পরিমাণ ৭ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। মূলধনি আয় খাতে ছাড় ৭ হাজার ৭১ কোটি টাকা। আর ৫ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে তৈরি পোশাক খাতে।
এর বিপরীতে ব্যক্তিশ্রেণির আয়করে ছাড় দেওয়া হয়েছে ৩৩ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা, যা মোট প্রত্যক্ষ করছাড়ের ৩১ শতাংশ। এর বড় অংশই ছাড় হয়েছে বেতন খাতে।
সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের বাইরে কর ছাড় এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের বাইরে এক তৃতীয়াংশ বা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় দেওয়ায় এ খাতের অংশ বেড়েছে।
ব্যক্তিশ্রেণির আয়করের ক্ষেত্রে বেতন আয় খাতে ৫ হাজার ৩২৫ কোটি টাকার কর ছাড় দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পোলট্রি ও মাছ চাষের আয়ে ছাড় দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে ৮১৭ কোটি টাকার কর ছাড় দেওয়ার তথ্য দিয়েছে এনবিআর।
কর ছাড়কে এনবিআর ‘কর ব্যয়’ বলছে। এতে ‘প্রত্যক্ষ কর ব্যয়’ বলতে রেয়াত, ছাড়, অব্যাহতি, হ্রাসকৃত হারে করারোপ এবং মোট করযোগ্য আয় পরিগণনা হতে আয় বাদ দেওয়াকে এবং মোট করযোগ্য আয় পরিগণনা থেকে বাদ দেওয়াকে বোঝায়।
ডলার সংকটে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে যে ঋণ নিয়েছে, তার বিপরীতে কর ছাড়ের বিশ্লেষণ এবং তা কমিয়ে আনার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়।
এরপর পুরো এক অর্থবছরের সব তথ্য থাকা সাপেক্ষে এনবিআর ২০২১-২২ অর্থবছরকে ‘বেঞ্চমার্ক’ ধরে এ বিশ্লেষণ শুরু করে। তখন ২০২০-২১ অর্থবছরেরও কর ছাড়ের তথ্য দেয় কর আদায়কারী এ সংস্থা। যে তথ্য বাজেটের তথ্য-উপাত্তেও জুড়ে দেওয়া হয়।
পৃথকভাবে আয়কর, মূল্য সংযোজন কর-ভ্যাট এবং শুল্ক অনুবিভাগ পৃথক পৃথক কর ব্যয়ের প্রতিবেদনও এনবিআর প্রকাশ করেছিল। এবার আয়করের ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রত্যক্ষ করের প্রতিবেদন প্রকাশ পেল।
এর আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে কর ছাড় ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। পরের অর্থবছরে তা দাঁড়ায় এক লাখ ১৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা।
এ হিসেবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রত্যক্ষ কর ছাড় কমেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরো কমিয়ে আনার পদক্ষেপও গত কয়েক অর্থবছর ধরে দেখা যাচ্ছে।