Published : 29 Nov 2025, 02:02 PM
দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণের ৩৫ শতাংশ টাকা ‘কোথায় গেল’? এমন প্রশ্ন রেখেছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ।
শনিবার ঢাকায় একটি হোটেলে চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে তিনি ঋণখেলাপিদের ধরতে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।
এই ব্যবসায়ী বলেন, “না হলে এই ৩৫ শতাংশ টাকা যদি বাইরে থাকে, তাহলে কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনা করা সহজ হবে না।
“জিডিপি ৩.৯৭ এর থেকে কিন্তু আরও কমে যাবে।”
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ এক প্রতিবেদনের বরাতে সংবাদমাধ্যমে খেলাপি ঋণ বেড়ে সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকার খবর দিয়েছে।
ত্রৈমাসিক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ মোট ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ টাকা, যার ৩৫.৭৩ শতাংশ এখন খেলাপি।
তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৬ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা, গেল জুনে ছিল মোট ৬ লাখ ৮ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা।
বর্তমান সরকারের সময়ে অর্থনীতির সমস্যার ফিরিস্তি তুলে ধরে আজাদ বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ‘ক্লাসিফাইড লোন’, তাদের হার ২৪ শতাংশ। এটা তার থেকেও বেশি কারণ ব্যাংকগুলো প্রকৃত খেলাপি, আমরা প্রদর্শন করি না।
“আমি একটা ব্যাংকের সাথে যুক্ত আছি... আমরা বিভিন্ন ‘উইন্ডো ড্রেসিং’ বলি এটাকে।... এটা করি আমরা যাতে ‘ডিভিডেন্ড’ সাধারণ মানুষকে দিতে পারি, সেই কারণে আমরা ‘ক্লাসিফাইড’টা কমিয়ে রাখি।”
তার ভাষ্য, “‘ক্লাসিফাইড’ করলেই টাকাটা প্রভিশনে রাখতে হয়। আর প্রভিশন করলে ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়া যাবে না। আর সেই কারণেই এটা করি।
“যদি আমি গড়ে ৩৫ শতাংশ ধরি, তাহলে এই ৩৫ শতাংশ টাকা গেল কোথায়?"
পরবর্তী সরকারে যারা আসবেন তাদেরকে এই অর্থ যারা নিয়েছেন তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করার অনুরোধ করেন তিনি।
আজাদ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “জিডিপির বর্তমান অবস্থা... গত অর্থবছর ছিল ৪ দশমিক ২২ শতাংশ।
“এ অর্থবছর সেখানে দাঁড়াবে, কমে দাঁড়াবে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশে। অর্থাৎ আমাদের জিডিপি আগের জিডিপির থেকে কোথায়? আস্তে আস্তে আমরা কমে যাচ্ছি।”
এ সময় তিনি অর্থনীতিতে রপ্তানি ছাড়া সব খাতেই সংকট চলার তথ্য তুলে ধরেন।
তার ভাষ্য, “উচ্চ সুদের হারের কারণে কিন্তু বেসরকারি খাত বড় করতে পারে নাই। বেসরকারি খাত আমরা ঋণ পেয়েছি মাত্র ৬ শতাংশ। আমরা যেগুলো ট্রেডিং... ট্রেডিংয়ের জন্যে শিল্পায়ন হচ্ছে না দেশে। শিল্পায়নের অবস্থা খুবই খারাপ।
“এখানে গত বছর তো কম হয়েছে, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি, এ বছর কিন্তু ২৬ শতাংশ কম আমদানি হয়েছে আরো, গত বছরের তুলনায়। অর্থাৎ মূলধনী যন্ত্রপাতি কিন্তু আমদানি হচ্ছে না।”
তিনি বলেন, “এখন, যারা চাকরিতে ছিল, চাকরি হারিয়েছে তাদের সংখ্যা ১৪ লক্ষ। যারা রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের কোনো চাকরি নাই। তাদের একসময় চাকরি ছিল। আর প্রতি বছর ৩০ লক্ষ লোক চাকরিতে আসে নতুন করে। ১ লক্ষ ২০ হাজার লোক সরকার, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সরকারিতে নিয়োগ করে। ৮ লক্ষ লোক বিদেশে যায়। আর ১০ লক্ষ লোক বেসরকারি খাতে, আর বাকিটা বেকার থাকে।”
বেসরকারি খাতে নতুন করে কোনো বিনিয়োগ হচ্ছে না তুলে ধরে এফবিসিসিআইয়ের এই সাবেক সভাপতি বলেন, যে করণে কর্মসংস্থান হচ্ছে না, বেকারত্বের হার বেড়ে যাচ্ছে।
ভারতেও নানাভাবে প্রণোদনা দিয়ে শিল্পায়নের বিকাশ ঘটানোর বিষয়টি তুলে ধরে আজাদ।
তিনি বলেন, “সরকার কিন্তু রাজস্ব থেকে সব কিছু করতে পারছেন না। সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ করছেন। সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বলেন, যাই কিছুই বলেন। ২৭ শতাংশ ঋণ করেছে সরকার ব্যাংক থেকে। তার পরিমাণ ২৭ শতাংশ।
“আমাদের একটু ভালো দিক হচ্ছে, রপ্তানি। রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ এবং প্রবাসী আয় একটু ভালো অবস্থায় আছে। ২৬ শতাংশ দেখা যাচ্ছে, গত বছর। প্রবাসী আয়টা ভালো করেছে, আর রপ্তানি। আর সমস্ত সূচক কিন্তু নেতিবাচক।”