চট্টগ্রামের ৫ আসনে নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারাই

দুটি আসনে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী থাকতে পারেন।

মিঠুন চৌধুরীমিঠুন চৌধুরীচট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 Nov 2023, 06:44 PM
Updated : 26 Nov 2023, 06:44 PM

দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই চট্টগ্রামের অন্তত পাঁচটি আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলের টিকেট না পাওয়া আওয়ামী লীগের নেতারা।

চট্টগ্রামের মীরসরাই, বাঁশখালী, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া, বন্দর-পতেঙ্গা ও পটিয়া আসনে দলের মনোনীত প্রার্থীর বাইরে তারা প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে বর্তমান একজন সংসদ সদস্যও আছেন।

এছাড়া চট্টগ্রামের আরও দুটি আসনে বর্তমানে জাতীয় পার্টি (হাটহাজারী) ও তরিকত ফেডারেশনের (ফটিকছড়ি) সংসদ সদস্য আছেন। এ দুটি আসনেও শেষ পর্যন্ত কারা দল বা জোটের প্রার্থী হবেন, সেজন্য আরও অপেক্ষা করতে হতে পারে।

সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে সাতটিতেই আওয়ামী লীগ ও জোট সঙ্গীদের একাধিক প্রার্থী থাকার আলোচনা শুরু হয়েছে।

রোববার পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের বিপরীতে প্রার্থী হতে ৫২ জন নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তাদের মধ্যে ১৫ জন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত।

পাশাপাশি বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ৮ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির ৩ জন এবং জাতীয় পার্টির ২ জন ফরম নিয়েছেন।

এছাড়া বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বিএসএম, জাসদ, কল্যাণ পার্টি, বিএনএফ, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ফোরাম, তৃণমূল বিএনপি থেকে একজন করে ফরম নিয়েছেন। বাকিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী।

রোববার চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়াদের মধ্যে পাঁচজনই নতুন মুখ।

রোববার বিকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ২৯৮ আসনে নৌকার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। তিনি দলের মনোনয়ন বোর্ডেরও সদস্য।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মোশাররফ দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেননি। নিজের আসনে ছেলে মাহবুব রহমান রুহেলের জন্য মনোননয়পত্র সংগ্রহ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত রুহেলই পেয়েছেন নৌকার টিকেট।

এ আসনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মীরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন। এর আগেও তিনি দলের মনোনয়ন চেয়ে পাননি।

জানতে চাইলে মো. গিয়াস উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ইনশাল্লাহ আমি নির্বাচন করব। মীরসরাইয়ের মানুষ ভীষণভাবে চায়- আমি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। নৌকা যেহেতু দেয়নি- আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করব। মীরসরাইয়ের মানুষ আমার সাথে আছে।”

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে এবার দলের মনোনয়ন পেয়েছেন খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। বর্তমানে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য। প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে সনি এবার নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হচ্ছেন।

তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি বর্তমানে এ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড আসনে এবার দলের মনোনয়ন পেয়েছেন এস এম আল মামুন। তিনি উত্তর জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এবং সীতাকুণ্ড উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান। সংসদ সদস্য পদে দলের মনোনয়ন পেতে ৩০ অক্টোবর উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন মামুন।

এস এম আল মামুনের বাবা এ বি এম আবুল কাশেম মাস্টার সীতাকুণ্ড আসন থেকে একাধিকার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।

সীতাকুণ্ড আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলম গত দুই নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন। তিনি উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। চট্টগ্রাম সিটির সাবেক মেয়র মনজুর আলম তার চাচা।

জানতে চাইলে দিদারুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি গত দুবার নির্বাচন করেছি। দল কখনো আবার আমাকে মনোনয়ন দিলে তখন নির্বাচন করব। এবার দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তার জন্য কাজ করব।”

চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসনে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। ২০০৮ সাল থেকে টানা তিনবার তিনি এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন।

এই আসনে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, যিনি যুক্তফ্রন্ট গড়ার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনে আসার ঘোষণা দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম-১১ বন্দর-পতেঙ্গা আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন এম এ লতিফ। ২০০৮ সাল থেকে তিনি এই আসনের সংসদ সদস্য। ২০০৮ সালে মনোনয়ন পাওয়ার আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না লতিফ। পরে ২০১৩ সালে নগর আওয়ামী লীগের কমিটির সদস্য পদ পান লতিফ।

এবার ওই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিল নগর আওয়ামী লীগের দুই সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু।

জানতে চাইলে খোরশেদ আলম সুজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি দল করি। তাই দলের মনোনয়নের বাইরে আমি নির্বাচন করব না। এটা নৈতিক বিষয়।

“তবে দলীয় মনোনয়ন যিনি পেয়েছেন, তিনি দলের কেউ না। আমি না করলেও হয়তো দলের অন্য কেউ প্রার্থী হবে। যিনি প্রার্থী হবেন তাকে দেখব।”

আরেক সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কর্মীদের সাথে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিব।”

চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনে আওয়ামী লীগ এবার প্রার্থী করেছে পটিয়া উপজেলার সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। দলের প্রার্থী হতে তিনি পদ ছাড়েন গত সপ্তাহে। তিনি দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী। তিনি টানা তিনবার এই আসনের সংসদ সদস্য। এবারও তিনি দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

জানতে চাইলে সামশুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নির্বাচন অংশগ্রহণমুলক হতে হবে। যারা মনোনয়ন পাননি তাদেরও নির্বাচন করার সুযোগ আছে।

“আমি কালকে এলাকায় আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। চট্টগ্রামে এসে এ বিষয়ে জানাব।”

চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী। এই আসনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।

Also Read: চট্টগ্রামের ১৬ আসনের পাঁচটিতে নতুন মুখ

Also Read: ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে কাজ করার নির্দেশ মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সভায়

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি দলের মনোনয়ন চেয়েছিলাম। দল বর্তমান সংসদ সদস্যকে মনোনয়ন দিয়েছে। যেহেতু আমি সাধারণ সম্পাদক তাই নৌকার পক্ষে ভোটের আয়োজনে দায়িত্ব পালন করব।

“ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য হয়ত কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাইলে তাদের প্রার্থী হতে বাধা নেই। আমি দলীয় দায়িত্ব পালন করব। ভোট করব না।”

চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। এই আসনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোতালেব।

সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মোতালেব প্রার্থী হতে গত সপ্তাহে চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি বনফুল ও কিষোয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান।

মোতালেব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগ্রহীদের ভোটে অংশগ্রহণ করতে বলেছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সিনিয়র নেতাদের কাছ থেকে আমি মৌখিক সম্মতি নিয়েছি।

“আমি নির্বাচন করব। আগামীকাল নির্বাচন কমিশন থেকে ফরম সংগ্রহ করব।”

চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। এই আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সহ- সভাপতি মুজিবুর রহমান।

স্মার্ট গ্রুপ ও দৈনিক পূর্বদেশ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর। স্মার্ট গ্রুপের অধীনে ১৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে।

মুজিবুর রোববার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়ন ফরমও নিয়েছি।”