Published : 01 Nov 2022, 09:00 PM
চট্টগ্রামের সেন্ট্রেল রেলওয়ে বিল্ডিং (সিআরবি) এলাকায় হাসপাতাল হচ্ছে না বলে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন এই এলাকা সংরক্ষণে দাবিতে আন্দোলনরত কর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণায় মহাসমাবেশ আয়োজন করছেন তারা।
মঙ্গলবার আন্দোলনকারীরা জানান, ৫ নভেম্বর সিআরবিতে অনুষ্ঠেয় এই মহাসমাবেশে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন।
মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী।
সিআরবিতে হাসপাতাল প্রকল্প না হওয়ায় সেখানে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতীয় উদ্যান’ বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছে নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রাম।
নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রামের সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছিলেন, চট্টগ্রামের মন্ত্রী-এমপিরা না চাইলে সিআরবিতে হাসপাতাল হবে না।
“এরপর সিআরবি থেকে হাসপাতাল সরিয়ে নিতে গত ১৬ অগাস্ট সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল চট্টগ্রামের মন্ত্রী-এমপিদের সাক্ষরিত একটি চিঠি রেলমন্ত্রীকে দেন।”
ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, “এর দুয়েকদিনের মধ্যেই রেলমন্ত্রীর সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেখা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তখন জানিয়ে দেন, পাবলিক সেন্টিমেন্টের বাইরে গিয়ে সিআরবিতে কিছু করা হবে না। বিষয়টি রেলমন্ত্রী তথমন্ত্রীকে অবহিত করেন বলে তথ্যমন্ত্রী আমাদের নিশ্চিত করেছেন।
“মহাসমাবেশে তথ্যমন্ত্রীসহ দলের সিনিয়র নেতারা থাকবেন। সেদিনই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মতামতটি উনারা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন।”
এ বিষয়ে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো চিঠি এখনো আমরা পাইনি। তবে হাসপাতালটি কুমিরায় করা যায় কিনা সে বিষয়ে সংসদীয় কমিটিতে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।”
এ বিষয়ে জানতে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, “সিআরবিতে ইউনাইটেডের হাসপাতাল হচ্ছে না এটা মোটামুটি সবাই এখন নিশ্চিত। পরবর্তীতে তাদের ভিন্ন কোনো স্থানে হাসপাতাল করার প্রস্তাব দেওয়া হবে। কুমিরায় রেলওয়ের জমি রয়েছে। তারা রাজি হলে সেখানে হতে পারে।”
কুমিরায় রেলওয়ের জমিতে হাসপাতাল প্রকল্প বিষয়ে জানতে চাইলে নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রামের সদস্য সচিব ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, “হাসপাতাল অন্য কোথায় হবে সেটা রেলওয়ে ঠিক করবে। এ বিষয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।
“আমরা শুধু চাই ২০০৯ সালে রাষ্ট্রপতি সাক্ষরিত গেজেটের মধ্যে সিআরবিকে যে ‘হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, সে হিসেবে সিআরবিকে রক্ষা করতে। ওই গেজেটে সিআরবিকে সংরক্ষণে আটটি শর্তও দেওয়া হয়েছিল। সে মোতাবেক এখানে প্রজাপতি পার্ক, পাখির অভয়ারণ্য, জাদুঘর, পর্যটক আকর্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। গেজেট অনুসারে, সিআরবির কোনো বাণিজ্যিক ব্যবহার বা বহুতল ভবন হতে পারবে না।”
৫ নভেম্বরের মহাসমাবেশ থেকে সিআরবিতে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতীয় উদ্যান’ করার দাবি জানানো হবে জানিয়ে বাবুল বলেন, “এখানে একাত্তরের বীর শহীদদের কবর আছে। অবশ্যই এসব কবর সংরক্ষণ করতে হবে এবং শহীদদের তথ্য থাকতে হবে, যাতে নতুন প্রজন্ম জানতে পারে।”
সিআরবি রক্ষায় টানা ৪৮০ দিনের দৈনিক কর্মসূচি মহাসমাবেশের মধ্যে দিয়ে শনিবার শেষ হবে বলেও জানান তিনি।
এরপর প্রতি মাসে একটি করে কর্মসূচি পালন করা হবে জানিয়ে সদস্য সচিব বলেন, “বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারি, ৭ মার্চ, ২৬ মার্চ, মুজিবনগর দিবসসহ বাঙালি জাতির গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো এখানে পালন করা হবে নাগরিকদের উদ্যোগে।”
চট্টগ্রাম নগরীর ‘ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ঐতিহ্যবাহী সিআরবিতে পিপিপি প্রকল্পের আওতায় ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ও ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য ২০২০ সালের ১৮ মার্চ ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের সাথে চুক্তি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
গত বছরের জুলাই মাসে প্রকল্প এলাকার জমি হাসপাতাল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু হয়। টানা ১৫ মাস ধরে সেই আন্দোলন চলছে।
সিআরবিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) এই হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ১২ বছর। প্রকল্পের আওতায় ৫০ আসনের একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট নির্মাণেরও প্রস্তাব করা হয়েছিল। প্রস্তাবনা অনুসারে, এতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়। ৫০ বছর পর প্রকল্পের মালিকানা রেলওয়ের হবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
আরও খবর
সিআরবির বাইরে হাসপাতাল করতে চট্টগ্রামের জনপ্রতিনিধিদের চিঠি
সিআরবিতে হাসপাতাল নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী: রেলমন্ত্রী
সিআরবিতে না হলে হাসপাতাল কোথায়? সংসদীয় কমিটিতে বিকল্প নিয়ে আলোচনা
সিআরবিতে হাসপাতাল হতে দেবেন না বঙ্গবন্ধুকন্যা, আশা অনুপম সেনের
সিআরবি ‘সংরক্ষিত এলাকা’, হাসপাতালের অনুমোদন ‘দেবে না’ সিডিএ