১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আমাদের এইচএসসি সিঙ্গাপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির সমান ধরা হয়: ববি হাজ্জাজ

“আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক জায়গায় শিক্ষার্থীরা পাস করতে পারে না।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jun 2026, 08:42 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:24 PM

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, গত দুই দশকের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, বাংলাদেশের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরকে সিঙ্গাপুরে ‘ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান’ বিবেচনা করা হয়।

তিনি বলেছেন, “বিগত ২০ বছর ধরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় আমরা যে লেভেলের অরাজকতা দেখেছি, সেটা এখন স্পষ্ট। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক জায়গায় শিক্ষার্থীরা পাস করতে পারে না। 

রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। 

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে ববি হাজ্জাজ বলেন, “আমাদের পার্শ্ববর্তী সিঙ্গাপুরে আমাদের এইচএসসি লেভেলকে তাদের ক্লাস সিক্সের লেভেলের সঙ্গে তুলনা করা হয়।”

বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে দেশের ‘সবচেয়ে বড় দীর্ঘমেয়াদি’ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছে বলে দাবি করেন ববি হাজ্জাজ। 

তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংসদ নেতা শুরু থেকেই এটা স্পষ্ট করেছেন।”

অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, “লং টার্ম জাতীয় বিনিয়োগের বাজেট আমরা প্রথমবারের মত জাতির সামনে উপস্থাপন করেছি। সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে শিক্ষা খাতের জন্য।”

প্রাথমিক শিক্ষাকে ‘ফাউন্ডেশনাল নলেজ তৈরির জায়গা’ হিসেবে তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে পাঠ্যক্রম, শিক্ষক, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সংস্কার শুরু হয়েছে।

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম, শিক্ষকদের অবস্থান, অবকাঠামো এবং প্রশাসন—সবকিছু বড়ভাবে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছি।”

সরকারের শিক্ষা সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলেন ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, “প্রাথমিকের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকেই পুরোপুরি কালচার শিক্ষার অংশ হবে। স্পোর্টস শিক্ষার অংশ হবে।”

আটটি খেলাকে বাধ্যতামূলক শিক্ষার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুরুতে দুই বা তিনটি খেলা দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হবে।

“পারফরমেটিভ আর্টস, এক্সপ্রেসিভ আর্টস, ফাইন আর্টস—সংস্কৃতির যত উপাদান আছে, সেগুলোও আমরা প্রাথমিক স্তর থেকেই অন্তর্ভুক্ত করতে চাই।”

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোরও সমালোচনা করেন ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, “অনেক সময় আমরা দেখি, আমাদের পার্লামেন্টে বা রাজনৈতিক বিরোধীদের কাছ থেকে এমন আলোচনা আসে, যেগুলো গঠনমূলক না।”

তার ভাষায়, “অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার পর আমরা এই সংসদে এসেছি, যাতে সুন্দর আলোচনার মাধ্যমে জনগণের জন্য সবচেয়ে ভালো ফলাফল বের করে আনা যায়।”

সাংস্কৃতিক শিক্ষাকে ঘিরে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমাদের কালচারাল কারিকুলামে কী আসতে পারে, সেটা নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

তিনি বলেন, “কালচারাল এডুকেশন নাকি আমাদের সন্তানদের ভুল পথে নিয়ে যাবে—এ ধরনের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আমরা এমন একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ও সৃজনশীল চিন্তার জায়গা তৈরি হবে।”

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়েও কথা বলেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, এর আগে জিডিপির ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ শতাংশের মতো শিক্ষা বাজেট ছিল। এবার তা ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে এ হার আরও বাড়ানোর আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এটা বাড়তে বাড়তে ৫ শতাংশে নিয়ে যেতে পারব ইনশাআল্লাহ।”

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে হবি হাজ্জাজ বলেন, “আমরা এমন জায়গায় পৌঁছাতে চাই, যেখানে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পুরো বিশ্বের কাছে ঈর্ষণীয় হবে।”

গত দুই দশকের শিক্ষা নীতির সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আজকে যেভাবে আমরা শিক্ষার দিকে তাকাচ্ছি, যদি ২০ বছর আগে এভাবে তাকানো হত, তাহলে এই দেশের মানচিত্র, এই দেশের পুরো চেহারা বদলে যেত।”

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা নিজেদের এলাকায় যে রাস্তা, দোকান, অফিস, বাসা বা স্কুল-কলেজ দেখেন, সেগুলো আরও উন্নত মানের হত, যদি ২০ বছর আগে শিক্ষা ব্যবস্থায় এভাবে বিনিয়োগ করা হত।”

বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ক্রিটিসাইজ করেন, সমালোচনা করেন; কিন্তু দেশের মূল লক্ষ্য অর্জনের পথে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।”