Published : 03 Sep 2025, 08:01 PM
সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে টেকনাফের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা পুরনো এক মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন আটজন।
বুধবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা হয়। শুনানিতে আবদুর রহমান বদিও ছিলেন।
দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বদির বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে হওয়া মামলায় আজ (বুধবার) আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। এই মামলায় আগে সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছিল। মাঝে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি।”
বুধবার সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন চারজন ব্যাংক কর্মকর্তা, দুজন রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মী এবং অন্য দুজন আয়কর কর্মকর্তা। এখন পর্যন্ত মামলাটিতে মোট ২২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে আইনজীবী রনি জানিয়েছেন।
এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে আদালত।
সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় মামলাটি করা হয়েছিল। পরের বছর ২০০৮ সালের ২৪ জুন অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলাটিতে আওয়ামী লীগ নেতা বদির বিরুদ্ধে ৫৬ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের বাইরে ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯৭ টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
বদির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও ২০১৭ সালে উচ্চ আদালত সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেয়। ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ ইসমাইল হোসেনের আদালতে আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে।
২০০৮ সালে প্রথমবারের মত আওয়ামী লীগের টিকেটে কক্সবাজার-৪ আসনের এমপি হন বদি। এরপর ‘ইয়াবা পাচারের হোতা’ হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় তার নাম আসে। ২০১৪ সালেও তিনি নৌকার প্রার্থী হয়ে জয় পান।
এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে বদির বদলে তার আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান স্ত্রী শাহীনা আক্তার চৌধুরী।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের অগাস্টে চট্টগ্রাম নগরী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বদিকে।
আরও পড়ুন-
চট্টগ্রামে দুদকের মামলায় বদির বিচার শুরু