Published : 19 Apr 2026, 10:58 PM
‘চট্টগ্রামের ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত সিআরবিতে পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো প্রকল্প হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি সাত রাস্তার মোড় এলাকায় প্রস্তাবিত হাসপাতাল এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
শেখ রবিউল বলেন, “পরিবেশের ক্ষতি করে, চট্টগ্রামবাসীকে অস্থিরতার মধ্যে রেখে, ঝুঁকির মধ্যে রেখে কোনো প্রকল্প হবে না। তারচেয়ে আরও বেশি জনবান্ধব, আরও বেশি চট্টগ্রামের জন্য প্রয়োজন, সেগুলো (প্রকল্প) বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে।
“আবারও বলি, এ জায়গায় (সিআরবি) হসপিটাল করতে যাচ্ছে বা বাধ্য করবে, এ রকম কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।”
তিনি বলেন, “আমাদের সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। ওই সরকারের (আওয়ামী লীগ) আমলে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছিল, আমরা ওইটা নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছি, ওই রকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাদের সাথে পিপিপি (চুক্তি) করতে অগ্রসর হয়েছিল, সেটা করতে যাচ্ছি এরকম বিষয় না।”
সিআরবির সাত রাস্তার মোড়ের সড়কের বাম পাশের বর্তমান রেলওয়ে হাসপাতাল, পাশের খালি জমি, হাসপাতাল কলোনি, রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনি রোড এবং রাস্তাটির দুপাশে থাকা জমি নিয়ে মোট ছয় একর জমিতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একটি হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়।
২০১৩ সালের ১৪ অগাস্ট অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) সভায় প্রকল্পটি পিপিপিতে বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়ার পর ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। একই বছরের ১৮ মার্চ ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তির পর ২০২১ সালের শুরুতে নির্ধারিত জমির সামনে প্রকল্পের একটি সাইনবোর্ডও লাগানো হয়।

পরে জুলাই মাসে এ প্রকল্পের জমি হাসপাতাল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু হয়। টানা ১৫ মাস ধরে সেই আন্দোলন চলে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, ‘সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ ঘোষিত সিআরবিতে নতুন কোনো স্থাপনা হতে পারে না। পাশাপাশি হাসপাতালের জন্য একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ হলে কাটা পড়বে অনেক গাছ। এতে ধ্বংস হবে সিআরবি এলাকার ‘প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র’।
এছাড়া বৃটিশবিরোধী আন্দোলন ও মুক্তিযু্দ্ধের শহীদদের স্মৃতি বিজড়িত সিআরবি এলাকা। হাসপাতাল হলে এর ঐতিহাসিক ‘গুরুত্ব ও স্মৃতি’ নষ্ট হবে।
টানা ৪৮০ দিন ধরে চলা সেই আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার সিআরবিতে হাসপাতাল প্রকল্প বাস্তবায়ন না করার ঘোষণা দিয়েছিল।
বর্তমান রেলমন্ত্রী ওই এলাকা পরিদর্শনে আসার ঘোষণার প্রায় তিন বছর চার মাস পর সিআরবিতে হাসপাতাল প্রকল্পের বিষয়টি আবারও সামনে আসে।
এর প্রেক্ষিতে রোববার সকাল থেকেই বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন সিআরবিতে হাসপাতাল না করার দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। এতে চট্টগ্রামের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল বা নতুন কোনো স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপের কথাও বলেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী বলেন, “চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আমাকে বলেছেন, আপনি আজকে যে জায়গাটা দেখতে যাবেন, ওই রেলের জায়গাটা নিয়ে একসময় কিছু মানুষ আন্দোলন করেছিল। তারা হসপিটালটা ওরকমভাবে ওইখানে চায় না। হসপিটাল চায় না, মানুষের ইচ্ছা থাকতেই পারে। পরিবেশ নিয়ে কনর্সান থাকতেই পারে। কোনোকিছু যদি যৌক্তিক হয়, তাহলে সরকার অবশ্যই বিবেচনা করবে।”
সিআরবিতে হাসপাতাল করতে দেব না: মেয়র শাহাদাত
সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের 'উদ্যোগে' চট্টগ্রামে ক্ষোভ, নিন্দা
সিআরবিতে 'সেই হাসপাতাল প্রকল্প' পরিদর্শনে আসছেন মন্ত্রী, আন্দোলনের ডাক