Published : 05 Feb 2026, 03:28 PM
চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারে বাধা ও হামলার অভিযোগ তুলেছেন দলটির নেতারা।
বৃহস্পতিবার নগরীর মোমিন রোডে দলের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি আব্দুর নবী আল কাদেরী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে এক স্বার্থান্বেষী মহলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে বৃহত্তর সুন্নী জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থীদের গণ সমর্থনে ভীত হয়ে পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা সন্ত্রাস বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা করছে।”
চট্টগ্রামের সাতটি আসনে সুন্নী জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করছে মন্তব্য করে করে আল কাদেরী বলেন, “আসনগুলোতে মোমবাতি প্রতীকের পক্ষে অভূতপূর্ব জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ জনজোয়ারে ভীত হয়ে একটি গোষ্ঠী পেশি শক্তি, তথ্য সন্ত্রাস ও পরিকল্পিত সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে।”
আব্দুর নবী আল কাদেরীর অভিযোগ, চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসনে নিয়মিতভাবে মোমবাতির ব্যানার ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। গত ৩১ জানুয়ারি কাগতিয়া বাজারে মোমবাতির প্রার্থী ইলিয়াছ নূরীর প্রচারণায় সরাসরি হামলা হয়েছে।
“মাইক ছিনিয়ে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।”
তিনি বলেন, একইভাবে চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে মোমবাতি প্রার্থী ইকবাল হাসানের গণসংযোগে বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, এছাড়া চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়ারা কর্ণফুলী আসনে গত ১ ফেব্রুয়ারি মোমবাতির প্রার্থীর নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়েছে। চট্টগ্রাম- ১৪ আসনের প্রার্থী সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সোলায়মান ফারুকীকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের হুমকি দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম-১২ ও চট্টগ্রাম- ৮ আসনে গণসংযোগে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
আব্দুর নবী আল কাদেরী বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে-
• বিভিন্ন এলাকায় তাদের প্রার্থীদের হামলা, প্রচারণায় বাধাপ্রদানকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
• ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে। পেশী শক্তি ব্যবহারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।
• সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সেনা, বিজিবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
• আচরণবিধি লঙ্ঘন সহিংসতার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তে নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিশেষ তদন্ত সেল গঠন করতে হবে।
যেসব অনিয়মের অভিযোগ করা হচ্ছে, তার সঙ্গে কারা জড়িতে—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসলামী ফ্রন্টের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি আবদুর রহিম মুনিরী বলেন, “কারা করেছে, তাদের সবার ছবি আছে। যেহেতু কোনো ব্যানারে কেউ এসব করেনি, তাই আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনে দলীয় এজেন্ট হিসেবে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে, তাদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইউনুস তৈয়বী যুক্তিবাদী, সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন।