Published : 22 Jun 2026, 11:39 AM
আদালতের নির্দেশের পর তদন্তে নেমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের’ অস্তিত্ব পেয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রোববার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। পরে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলাও করা হয়।
মামলায় চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেড ও অ্যাম্বুলেন্স চালকদের মধ্যে অজ্ঞাতনামা ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে প্রতিবাদ করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মারধর, হাসপাতালে মৃত ব্যক্তির লাশ ও রোগী পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, বাইরের কোন বৈধ গাড়ি হাসপাতাল চত্বরে ঢুকতে বাধা ও হুমকি দেওয়া এবং ফিটনেস ও রুট পারমিট ছাড়া গাড়ি অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়।
চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “৯ জুন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়ের দেওয়া আদেশের ভিত্তিকে তদন্ত করে গতকাল প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। একই সাথে এই ঘটনায় একটি মামলাও করা হয়েছে থানায়।”
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার একজন ‘জাস্টিস অব দ্যা পিস’হিসেবে ৯ জুন চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনারকে (উত্তর) তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ৯ জুন নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এর প্রেক্ষিতে সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) সোহেল পারভেজ রোববার আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, “পর্যবেক্ষণকালে অ্যাম্বুলেন্সের অবৈধ সিন্ডিকেট, রোগী পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, সিন্ডিকেটের বাইরের অ্যাম্বুলেন্স ও লাশ বহনকারী ফ্রিজার প্রবেশে বাধা প্রদান, ফিটনেস ও রুট পারমিট বিহীন মাইক্রোবাসকে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে চালানোর বিষয়টি গোচরিভূত হয়।”
এসব ‘গণবিরোধী কার্যকলাপ’ পরিচালনার সত্যতা যাচাই করতে সোর্স নিয়োগ, এলাকাবাসীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং নিজে গোপনে ও প্রকাশ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বলেও প্রতিবেদনে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
পরে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পাঁচলাইশ থানার ওসিকে এ বিষয়ে মামলা করার জন্য নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরেচেন পুলিশ কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ।
এরপর পাঁচলাইশ থানার এসআই আশরাফ উদ্দিন সরদার বাদী হয়ে দণ্ডবিধির কয়েকটি ধারায় এবং ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৪০/ ৯২ (১) ধারায় মামলাটি করেন।
এসআই আশরাফ উদ্দিন সরদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক তদন্ত শেষে মামলা করা হয়েছে।”
গেল ৭ জুন বিকালে অ্যাম্বুলেন্সের বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে হাসপাতালের পূর্ব গেইট এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির লোকজনের সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীদের হাতাহাতি হয়।
এ ঘটনার পর সেদিন সংবাদ সম্মেলন করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় ‘সিন্ডিকেট’বন্ধের দাবি তোলেন এনসিপির নেতারা।
এছাড়া হাসপাতালে এসব অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার ক্ষেত্রে ‘সিন্ডিকেট করে’ বাড়তি টাকা আদায়, সমিতির বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করতে না দেওয়া, ফিটনেসবিহীন অ্যাম্বুলেন্সে রোগী ও মরদেহ পরিবহন এবং মাইক্রোবাস হিসেবে নিবন্ধন নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
হাতাহাতির ঘটনার একদিন পর ৮ জুন হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে এক বৈঠকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া গত বছর জুনে নির্ধারিত হারের ৩০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।
পরে ৯ জুন হাসপাতালের খেলার মাঠে চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির অধীনে রোগী ও মরদেহ পরিবহনে ভাড়া দেওয়া অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ফিটনেস পরীক্ষার কার্যক্রমও শুরু হয়।
সেদিনই হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ‘সিন্ডিকেট’বিষয়ে তদন্ত করতে আদালতের নির্দেশ দিয়েছিল।
রিলেটেড লিংক-
চমেক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স 'সিন্ডিকেট' তদন্তের নির্দেশ আদালতের
চট্টগ্রামে এনসিপির সঙ্গে হাতাহাতির পরদিন বাড়ল অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া
চট্টগ্রামে ভাড়া নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সঙ্গে এনসিপির হাতাহাতি
চট্টগ্রাম মেডিকেল ভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেস পরীক্ষা শুরু
চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় শৃঙ্খলা মানতে হবে: মেয়র শাহাদাত