১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চমেক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ‘সিন্ডিকেট’ তদন্তের নির্দেশ আদালতের

আদেশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি এবং গৃহীত আইনগত ব্যবস্থার বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করতে সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনারকে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jun 2026, 11:35 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:22 PM

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগী ও মরদেহ পরিবহনে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়ার ক্ষেত্রে ‘সিন্ডিকেট’ করার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার এই নির্দেশ দেন। 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনারকে (উত্তর) তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এই আদেশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি এবং গৃহীত আইনগত ব্যবস্থার বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছে আদালত। 

চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫ ধারার বিধান মতে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পদাধিকারবলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার একজন ‘জাস্টিস অব দ্যা পিস’। 

“তাই জনস্বার্থে এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও চিকিৎসা সেবার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তিনি এই নির্দেশ দিয়েছেন।” 

এর আগে রোববার বিকালে অ্যাম্বুলেন্সের বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে হাসপাতালের পূর্ব গেইট এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির লোকজনের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতাকর্মীদের হাতাহাতি হয়। 

এ ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলন করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় ‘সিন্ডিকেট’ বন্ধের দাবি তোলেন এনসিপির নেতারা।

এছাড়া হাসপাতালে এসব অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার ক্ষেত্রে ‘সিন্ডিকেট করে’ বাড়তি টাকা আদায়, সমিতির বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করতে না দেওয়া, ফিটনেসবিহীন অ্যাম্বুলেন্সে রোগী ও মরদেহ পরিবহন এবং মাইক্রোবাস হিসেবে নিবন্ধন নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। 

রোবারের হাতাহাতির ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমবার হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে এক বৈঠকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া গত বছর জুনে নির্ধারিত হারের ৩০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। 

সবশেষ মঙ্গলবার হাসপাতালের খেলার মাঠে চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির অধীনে রোগী ও মরদেহ পরিবহনে ভাড়া দেওয়া অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ফিটনেস পরীক্ষার কার্যক্রমও শুরু হয়। 

এরপর রাতে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ‘সিন্ডিকেট’ বিষয়ে তদন্ত করতে আদালতের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়।  

আদালতের ওই আদেশে বলা হয়, “সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে চমেক হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় একটি চক্রের চরম অমানবিক, সহিংস ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

“এসব সংবাদ ও ভিডিও থেকে দেখা যায়, এই সিন্ডিকেট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ এলাকাকে সম্পূর্ণ জিম্মি করে রেখেছে। তারা অসহায় স্বজনদের কাছ থেকে লাশ ও রোগী পরিবহনে কয়েকগুণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। বাইরের অন্য কোনো বৈধ গাড়ি হাসপাতালে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে এবং সাধারণ মাইক্রোবাসে ফিটনেস ও রুট পারমিট ছাড়া অবৈধভাবে নীল বাতি ও সাইরেন লাগিয়ে গণপ্রতারণা করছে।

“হাসপাতাল চত্বরের মতো একটি অতি সংবেদনশীল স্থানে এবং জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করা এবং প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে হামলা চালানো জননিরাপত্তা, আইনের শাসন ও সামাজিক শৃঙ্খলার ওপর চরম আঘাত।” 

তাই এ বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে সংবাদের সত্যতা পাওয়া সাপেক্ষে ‘সিন্ডিকেটের মূল হোতা, চাঁদাবাজ, হামলাকারী ও জালিয়াতির মাধ্যমে চালিত ভুয়া অ্যাম্বুলেন্সের মালিকদের চিহ্নিত’ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেয় আদালত। 

আগের খবর:

চট্টগ্রামে এনসিপির সঙ্গে হাতাহাতির পরদিন বাড়ল অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া

চট্টগ্রামে ভাড়া নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সঙ্গে এনসিপির