Published : 09 Jun 2026, 09:46 PM
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে রোগী ও মৃতদেহ পরিবহনে ব্যবহৃত চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির অধীন অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ফিটনেস পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের খেলার মাঠে এই ফিটনেস পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে বিশেষ স্টিকার দেওযা হবে। এই স্টিকারধারী অ্যাম্বুলেন্সগুলোই কেবল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় সেবা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পাবে।
স্টিকারবিহীন কোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অবস্থান করতে পারবে না।
সোমবার এক সভায় এসব অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া আগের তুলনায় ৩০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল এলাকায় এসব অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার ক্ষেত্রে ‘সিন্ডিকেট করে’ বাড়তি ভাড়া আদায়, সমিতির বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করতে না দেওয়া, ফিটনেসবিহীন অ্যাম্বুলেন্সে রোগী ও মরদেহ পরিবহন এবং মাইক্রোবাস হিসেবে নিবন্ধন নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
অ্যাম্বুলেন্সের বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পূর্ব গেট এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের হাতাহাতিও হয়েছিল।
মঙ্গলবার সকালে অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেস পরীক্ষার শুরুতে সিটি মেয়র ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন আহমেদ, বিআরটিএ এর সহকারী পরিচালক উথোয়াইনু চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফসহ অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ফিটনেস পরীক্ষার এই কার্যক্রম চলে। এরপর সন্ধ্যায় ফিটনেস পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ এর সহকারী পরিচালক উথোয়াইনু চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ফিটনেস পরীক্ষার প্রস্তাব আমরাই দিয়েছিলাম। আজক ৭৪টি অ্যাম্বুলেন্স পরীক্ষা করা হয়েছে। তারমধ্যে শুধু দুটির কাগজের সাথে চেসিস নম্বর মিল পাইনি। সেগুলো যাচাই চলছে। বাকিগুলোর ফিটনেস ঠিক আছে।”
মাইক্রোবাস হিসেবে নিবন্ধন নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে চালানোর অভিযোগ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উথোয়াইনু চৌধুরী বলেন, “মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছে, তাদের আরো ২৫টি অ্যাম্বুলেন্স আজ ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে গিয়েছে। তাই সব অ্যাম্বুলেন্স যাচাই করা আজ সম্ভব হয়নি। এই ফিটনেস পরীক্ষা চলমান থাকবে। সব গাড়ি আমরা চেক করব।”
এরআগে সকালে ফিটনেস পরীক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “অ্যাম্বুলেন্স সেবায় শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ফিটনেস পরীক্ষা করা হচ্ছে।
“রোগী ও স্বজনদের নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হচ্ছে। যেসব অ্যাম্বুলেন্স ফিটনেস পরীক্ষায় নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ৩০ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ‘যৌক্তিক’ মন্তব্য করে শাহাদাত হোসেন বলেন, “গত বছর জুনে আমি অনেকটা জোর করেই তাদের কম ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম। এরপর জ্বালানি তেল, টায়ার ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়েছে।
“অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি ৫০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেও আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে তা ৩০ শতাংশে সীমিত রাখা হয়েছে।”
মেয়র বলেন, “একটি অ্যাম্বুলেন্স রোগী বা মরদেহ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পর ফেরার পথে খালি অবস্থায় ফিরে আসে। ফলে ভাড়া নির্ধারণে যাওয়া-আসা উভয় দিকের ব্যয় বিবেচনায় নিতে হয়। নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর হলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে বিরোধ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি হ্রাস পাবে।
“কোনো ব্যক্তি নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে চাইলে কিংবা মারকাযুল ইসলাম ও আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে সেবা প্রদান করলে তাদের কাজে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ প্রদর্শন এবং প্রয়োজনে বিশেষ ছাড় বা বিনামূল্যে যেন সেবা পায়।”
এর আগে গত বছরের ১৮ জুন একবার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/সিএম/এমসি/জেকে
পুরনো খবর-
চট্টগ্রামে এনসিপির সঙ্গে হাতাহাতির পরদিন বাড়ল অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া
চট্টগ্রামে ভাড়া নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সঙ্গে এনসিপির হাত