Published : 10 Jun 2026, 03:48 PM
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী ও মরদেহ পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আদালতের নির্দেশ অবশ্যই মানতে হবে বলেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের শাহাদাত হোসেন।
সবাইকে শৃঙ্খলার মধ্যে আসার বিষয়েও জোর দেন তিনি।
বুধবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে ‘বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন।
মঙ্গলবার হাসপাতালের রোগী ও মরদেহ পরিবহনে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়ার ক্ষেত্রে ‘সিন্ডিকেট’ করার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে নির্দেশ দেন চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনারকে (উত্তর) তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি এবং গৃহীত আইনগত ব্যবস্থার বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছে আদালত।
এর একদিন পরই বুধবার সকালে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মেয়র শাহাদাতের কাছে আদালতের আদেশের বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকরা।
জবাবে তিনি বলেন, “আদালতের যে নির্দেশনা আছে সেটাও মানতে হবে। শৃঙ্খলার মধ্যে সবাইকে আসতে হবে। শৃঙ্খলার মধ্যে না আসলে কখনো রোগীরা ভালো সেবা পাবে না। রোগীদের সেবা দেওয়াই এখানে আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
“আদালতের নির্দেশনা, এখানে যারা অ্যাম্বুলেন্সের মালিক সমিতি আছে তাদের অবশ্যই মানতে হবে। এটা জুডিসিয়াল অর্ডার, অমান্য করার কোনো ধরনের এখতিয়ার কারো নেই।”
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আমরা একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও মানবিক হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এখানে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতেই হবে।”
হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য রোধ করতে নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা বাস্তবায়ন করতে হবে তুলে ধরে তিনি বলেন, “অতীতে রোগীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ ছিল, যা আর চলবে না।
“এখানে নতুন ভাড়ার পাঁচটি তালিকা হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন অংশে টানানো হয়েছে। এই ভাড়ার চেয়ে বেশি কেউ নিলে হাসপাতালের পরিচালক তাৎক্ষণিক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।”
সোমবার হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে নতুন হারে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে নানা সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি মেয়র বলেন, “গভর্নিং বডি ও এখানকার চিকিৎসকরা আছেন। কাউকে না কাউকে দায়িত্ব নিতে হবে। এভাবে অরাজক অবস্থা চলতে পারে না।”
নির্ধারিত ভাড়ারের হারের যৌক্তিকতাও তুলে ধরে তিনি বলেন, “ভাড়ার তালিকা দেওয়ার কারণে রোগীর স্বজনদের জন্য ভালো হয়েছে না খারাপ হয়েছে, সেটা জনগণ ও আপনারা যাচাই করে দেখেন। রেট চার্ট থাকার কারণে কেউ বেশি ভাড়া নিতে পারবে না।”
এ সময় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও কেউ ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স আনলে তারা বাধা দিতে পারবে না। তারা কথা দিয়েছে, বাধা দিবে না।”
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকাকে ‘নিরাপদ এলাকা’ করার কথা তুলে ধরে শাহাদাত হোসেন দাবি করেন, অতীতে হাসপাতাল এলাকা নিরাপদ ছিল না। এই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হল। অলি বেগ খাঁ মসজিদ থেকে প্রবর্তক পর্যন্ত ‘নিরাপদ এলাকা’ করা হবে।
হাসপাতালের অভ্যন্তরে দালালচক্র, রোগী ভাগিয়ে নেওয়া সিন্ডিকেট এবং ওষুধ ব্যবসায়ীদের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন মেয়র।
হাসপাতাল এলাকার বিভিন্ন দোকান পরিদর্শন করে প্রত্যেক দোকানে ডাস্টবিন সংরক্ষণ ও যথাযথভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা দেন তিনি। এ সময় হাসপাতাল এলাকার নালা-নর্দমায় মশার লার্ভা নিধনের ওষুধ ছিটানো হয়।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে স্থায়ী রূপ দিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ১০ জন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ১০ জনসহ মোট ২০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করার কথাও বলেন শাহাদাত হোসেন।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন।
আগের খবর:
চমেক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স 'সিন্ডিকেট' তদন্তের নির্দেশ আদালতের
চট্টগ্রাম মেডিকেল ভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেস পরীক্ষা শুরু
চট্টগ্রামে এনসিপির সঙ্গে হাতাহাতির পরদিন বাড়ল অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া
চট্টগ্রামে ভাড়া নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সঙ্গে এনসিপির হাত