ভোটে অংশগ্রহণকে ‘এক প্রকার আন্দোলন’ হিসেবে দেখাতে চান মনজুর আলম।
Published : 27 Nov 2023, 07:31 PM
রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার ৮ বছর পর আবার ভোটের লড়াইয়ে নামছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম।
এক সময় আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হওয়া মনজুর আলম চট্টগ্রাম-১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন। ১৫ বছর আগেও তিনি এ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন।
রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে আবার কেন ভোটের মাঠে– এ প্রশ্নে মনজুর আলম সোমবার সন্ধ্যার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জাতীয় প্রয়োজন। নির্বাচিত হয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চাই।
“আমাদের সংসদীয় আসনে ৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে অনেক এলাকা অবহেলিত। যখন মেয়র হিসেবে দায়িত্বে ছিলাম, তখন যতটুকু পেরেছি করেছি। আল্লাহ কামিয়াব করলে অবশিষ্ট কাজ ভবিষ্যতে শেষ করতে চাই।”
ভোটে অংশগ্রহণকে ‘এক প্রকার আন্দোলন’ হিসেবে দেখাতে চান মনজুর আলম।
তিনি বলেন, “আমার লক্ষ্য এলাকার সার্বিক উন্নয়ন। আমি এই এলাকার সন্তান। কারো ভাই, কারো নাতি, কারো আত্মীয়। তাদের জন্য কিছু করতে চাই। সবার দোয়া চাই।”
এম মনজুর আলম শিল্প গোষ্ঠী মোস্তফা হাকিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এই গ্রুপের চেয়ারম্যান আবু তাহের তার বড় ভাই।
আবু তাহেরের ছেলে দিদারুল আলম গত দুই মেয়াদে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। এবার তিনি দলের মনোনয়ন পাননি।
রোববার আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা করা হয় ২৯৮ আসনে। প্রার্থী ঘোষণার পর দিদারুল জানান, তিনি এবার আর নির্বাচনে লড়বেন না। তার পরদিনই তার চাচা মনজুর আলম চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলি) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন।
মনজুর আলমের বাবা আবদুল হাকিম কন্ট্রাকটর ছিলেন পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি নগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্যও ছিলেন।
নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৯৯৪ সাল থেকে টানা তিনবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৬ বছর চট্টগ্রামের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় মনজুর ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর।
সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হলে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পান মনজুর।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তখনকার চট্টগ্রাম-৮ আসনে (বর্তমান ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন চেয়েও পাননি মনজুর। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।
এরপর ২০১০ সালের সিটি নির্বাচনে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নিজের গুরু মহিউদ্দিনের বিপক্ষে বিএনপির সমর্থনে মেয়র প্রার্থী হন মনজুর আলম। ওই বছরের ১৭ জুন প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে মহিউদ্দিনকে হারিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি সমর্থিত মনজুর।
মেয়র নির্বাচিত হয়ে মহিউদ্দিনের বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখাও করেছিলেন মনজুর আলম। আবার ঢাকায় গিয়ে খালেদা জিয়ার হাতে ফুল দিয়ে কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছিলেন। সে সময় তাকে উপদেষ্টা করে নেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
মেয়র থাকাকালে মনজুরের ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা হলেও তাতে কখনো যোগ দেননি মহিউদ্দিন। আর ‘গুরু’ মহিউদ্দিন প্রসঙ্গে মনজুরের কণ্ঠও সব সময় ছিল শ্রদ্ধা-ভালবাসায় আপ্লুত।
তাদের দুজনের পারিবারিক সখ্যের কথাও চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবার জানা। মেয়র থাকাকালে মহিউদ্দিনের নামে নগরীর একটি সড়কের নামকরণের ঘোষণা দেন মনজুর।
২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল দ্বিতীয় বার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিলেও মনজুর আলম ভোট শুরুর তিন ঘণ্টার মাথায় ‘কারচুপির’ অভিযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। সেইসঙ্গে রাজনীতি ছাড়ারও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। ২০২১ সালে নগর বিএনপির নতুন কমিটিতেও তার নাম আসেনি।
ওই নির্বাচনে জয়ী মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মহিউদ্দিনবিরোধী শিবিরের নেতা হিসেবে পরিচিত।
২০১৬ সালের ১ অক্টোবর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে এক মঞ্চে পাশাপাশি বসেছিলেন মহিউদ্দিন ও মনজুর আলম। চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে তখন জোর গুঞ্জন শুরু হয়, মনজুরকে দলে ফেরাতে আগ্রহী মহিউদ্দিন।
ওই বছরের ১৭ অগাস্ট আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার আগ্রহের কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন মনজুর আলম।
এরপর ২০১৭ সালের ১৮ মে এই সাবেক মেয়র জানান, ‘উপযুক্ত’ সময়ের অপেক্ষায় আছেন তিনি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী ছিলেন মনজুর। সবশেষ গত সিটি নির্বাচনে আবার মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনোবারই তার ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি।
এবার চট্টগ্রাম-১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়ে মনজুর আলম বলেন, “বুধবার আমি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করব।”
এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন নগর যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু। নগর আওয়ামী লীগ নেতা ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য আফছারুল আমীনের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ওই আসনের উপ-নির্বাচনে মাত্র কয়েক মাস আগে নির্বাচিত হন তিনি।
নগরের রাজনীতিতে মহিউদ্দিন বাচ্চু প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
পুরনো খবর
‘উপযুক্ত’ সময়ের অপেক্ষায় মনজুর
চট্টগ্রামে নৌকার প্রার্থী হওয়ার সারিতে দাঁড়ালেন মনজুরও