‘তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক’ হতে মাঠে ফিরছেন নাঈম
“নাঈম বিকালের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। কাল ঢাকায় ‘এ’ দলের খেলা আছে,” বলেন তার ভাই সাব্বির।
শারীরিক ও মানসিকভাবে ‘তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক’ হয়ে উঠতে মাঠে ফিরছেন পুলিশের হাতে মারধর ও হেনস্থার শিকার হওয়া জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে নাঈম হাসান দ্রুত খেলায় ফিরছেন বলে জানিয়েছেন তার বড় ভাই কামরুল আলম সাব্বির।
রোববার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “নাঈম বিকাল সাড়ে ৪টার ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আগামীকাল ঢাকায় ‘এ’ দলের খেলা আছে। সেখানে সে অংশ নেবে।
“এরপর সিলেট যাবে। সেখানে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট খেলার সূচি রয়েছে।”
নাঈম হাসান বর্তমানে ‘মোটামুটি স্ট্যাবল’ আছেন জানিয়ে সাব্বির বলেন, “বিসিবির চিকিৎসকরা গতকাল এসে তাকে দেখে গেছেন। তাদের মতামত হল, খেলায় থাকলে নাঈম তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তাই মাঠে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। আর শরীরের যে আঘাতজনিত ব্যথা, সেটা ধীরে ধীরে সেরে যাবে বলে তারা জানিয়েছেন।”
“আমরা পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরাও মনে করছি, মাঠে থাকলেই সে ভালো থাকবে। তাই দ্রুত খেলায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।”
শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন নাঈম।
তার অভিযোগ, নগরীর লালখান বাজার মোড়ে অটোরিকশাটি থামিয়ে তাকে মারধর করেন পুলিশ সদস্যরা। এরপর তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে নিজের পরিচয় দেয়ার পরও খুলশী থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান 'চোখ নামিয়ে কথা বলার' নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ নাঈমের।
পরে বিসিবির শীর্ষ কর্তাদের টেলিফোন পেয়ে ওসি নাঈম হাসানকে 'আপনি' সম্বোধন করে বসতে বলেন।
এরপর শুক্রবার গভীর রাতে নাঈম হাসানের বাবা, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় যায়। তারপর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় আসেন।
এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা ফেইসবুকে সরব হন।
নাঈম হাসানের সঙ্গে ‘অপেশাদার’আচরণের অভিযোগ পাওয়ার পর শনিবার দুপুরে দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। দুপুরেই নগরীর বহদ্দারহাট ফরিদার পাড়ায় নাঈম হাসানের বাড়িতে যান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
সবশেষ শনিবার রাতে খুলশী থানার ওসি মো. আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
