Published : 15 Jun 2026, 09:24 AM
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ সামনে রেখে ঘুরেফিরে আসছে ২০১৮ আসর। সেবার ইংল্যান্ডকে সেমি-ফাইনালে ছিটকে দিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ক্রোয়াটরা। সেই স্মৃতি আওড়ে, এবারের দ্বৈরথ সামনে রেখে নিকো ও’রাইলি হুঙ্কার দিয়ে বললেন, তারা কী করতে পারেন, সেটাই ক্রোয়েশিয়াকে দেখাতে চান তারা।
‘এল’ গ্রুপের ম্যাচে ডালাসে বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া ও ইংল্যান্ড। আট বছর আগে, রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের সেই ২-১ গোলের হারের কারণে এবারের ম্যাচ ছড়াচ্ছে বাড়তি উত্তাপ।
১৯৬৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড অনুমিতভাবেই গ্রুপের ফেভারিট। ক্লাব ফুটবলে সাফল্য পাওয়া টমাস টুখেলের কোচিংয়ে দলটি ফ্লোরিডার উষ্ণ আবহাওয়ায় প্রস্তুতি শেষ করে, ক্যানসাস সিটিতে তাঁবু গেড়েছে। এখন মাঠে নামার অপেক্ষা।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে লড়াই সামনে রেখে নিকো ও’রাইলি বললেন, প্রতিকূল কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে, প্রস্তুতি সেরেছেন তারা। এখন লক্ষ্য, নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়ে দেওয়ার।
“আমরা গরমের সাথে মানিয়ে নিচ্ছি, প্রচুর অনুশীলন করেছি এবং দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে সবাই খেলার সুযোগ পেয়েছে। এখন মাঠে নেমে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে আমাদের এবং নিজেদের সামর্থ্যেরে প্রমাণ দিতে।”
“এক দিক থেকে (এটা প্রাক মৌসুমের প্রস্তুতির মতো ছিল), কিন্তু এটা ভীষণ তীব্র ছিল। স্বাভাবিকভাবেই, আমাদের এই প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। আমাদের প্রস্তুতি ভালোভাবেই হয়েছে।”
ধারণা করা হচ্ছে, ও’রাইলি ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে লেফট-ব্যাক পজিশনে খেলবেন। সেটা হলে, প্রিমিয়ার লিগে অভিষেকের ১৭ মাসের মধ্যে ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলার বিশ্বকাপে পা রাখতে যাচ্ছেন। বিষয়টি ভাবতেই অন্যরকম রোমাঞ্চের দোলা অনুভব করছেন ও’রাইলি।
“অবিশ্বাস্য, স্বপ্ন সত্য হতে চলেছে। এটা এমন একটা স্বপ্ন, যেটা আমি ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি এবং সেটা সত্যি হওয়ার পথে। অবশ্যই, আমি এখনও তরুণ। আমার তর সইছে না।”
“বিষয়টি সত্যি কিনা, এটা বুঝতে মাঝে মাঝে চিমটি কেঁটে দেখতে হয়। সব কিছু খুব দ্রুত ঘটছে। গত জানুয়ারিতে প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক হয়েছে আমার। এরপর আমি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে একের পর এক সাফল্য পেয়েছি এবং সেটাই এখানে নিয়ে এসেছে আমাকে।”
টুখেলের কোচিংয়ে ইংল্যান্ডের একটি দল হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া চলছে। অভিজ্ঞ অধিনায়ক হ্যারি কেইনও তরুণ সতীর্থ ও’নাইলিকে পরামর্শ দিয়েছেন, এই গ্রীষ্ম এবং বিশ্বকাপ উপভোগ করতে। ও’রাইলিও অনুভব করছেন, এই ইংল্যান্ড দল এক সুঁতোয় গাথা।
“আমাদের মধ্যে যে একতা রয়েছে, তাতে অনুভব করতে পারছি যে আমরা আসলেই ঘণিষ্ঠ একটি দল। সবাই ঐক্যবদ্ধ এবং আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া খুব ভালো, যেটা মাঠে প্রতিফলিত হতে পারে।”
“সবশেষ কোস্টা রিকার বিপক্ষে (৩-০ গোলের জয়) ম্যাচে অনেক সুযোগ পেয়েছিলাম আমরা এবং এখন সময় সেই পরিশ্রম কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য করার।”