Published : 21 Oct 2025, 03:59 PM
চট্টগ্রামের হালিশহরে রেলের জমিতে বেসরকারি কনটেইনার ডিপো নির্মাণের প্রতিবাদে ওই ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন রেলের শ্রমিক-কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার নগরীর কেন্দ্রীয় রেলওয়ে ভবন (সিআরবি) এলাকায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের (জিএম) কার্যালয় ঘেরাও করে তারা এ দাবি জানান।
পরে আলোচনা শেষে মহাব্যবস্থাপকের আশ্বাসে দুপুর ১টার দিকে আন্দোলন স্থগিত করে শ্রমিকরা স্থান ত্যাগ করেন।
রেলের চুক্তি অনুযায়ী, হালিশহরের চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) এলাকায় ২১ দশমিক ২৯ একর জমি কনটেইনার টার্মিনালের জন্য কনটেইনার কোম্পানি লিমিটেড অব বাংলাদেশকে (সিসিবিএল) বাণিজ্যিকভাবে ইজারা দেওয়া হয় ২০২১ সালে।
পরে আইসিডি নির্মাণের জন্য সিসিবিএল আরেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে। সম্প্রতি সেখানে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে।
রেলওয়ে কর্মীদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন এলাকায় রেলের বিপুল পরিমাণ খালি জমি থাকলেও কবরস্থান ও মসজিদের সংলগ্ন জমিতেই আইসিডি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে মাজার ও জলাশয় রয়েছে।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, প্রকল্পাধীন ২১ দশমিক ২৯ একর জমির মধ্যে নাল, মসজিদ, ভিটা, খিলা, পুকুর, কৃষি, কবরস্থান ও রাস্তা শ্রেণির ভূমি রয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কয়েক’শ রেলকর্মী, তাদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা মিছিলসহ সিআরবিতে পৌঁছালে রেলের নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ তাদের রেল ভবনে প্রবেশে বাধা দেয়।
পরে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা বাধা উপেক্ষা করে রেল ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে ‘লিজ বাতিল কর’ এবং ‘কবরস্থান–মসজিদ–মাজার বাঁচাও’ এমন স্লোগান দিতে থাকে।

ওই সময় পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা পূর্ব রেলের জিএম মো. সুবক্তগীনের অফিসের মূল ফটক বন্ধ করে দেন। পরে বাইরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে বাংলাদেশ রেলওয়ে জাতীয়তাবাদী রেল শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এম. আর. মঞ্জু বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে গিয়ে কবরস্থান, ধর্মীয় স্থাপনা ও জলাশয়ের জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে জালিয়াতি করেছে। কবরস্থানটিতে প্রায় ৪৫০টি কবর রয়েছে। সব জেনেও ইজারা দেওয়া হয়েছে।
“রেলওয়ের ইতিহাসে কখনো ধর্মীয় স্থাপনা ও কবরস্থান দখল করে প্রকল্প নেওয়া হয়নি। এবার রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ নিজেই আইন ভঙ্গ করছে।”
রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমানের অভিযোগ, আন্দোলনের মধ্যেই কৌশলে মসজিদ-মাজার ও কবরস্থান উচ্ছেদের চক্রান্ত চলছে। রেল সচিব ও উপদেষ্টার মৌখিক নির্দেশনা থাকার পরও এখনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণের লিখিত আদেশ আসেনি, যা প্রতারণার শামিল।
“যৌক্তিক দাবি আদায় না হলে সারাদেশে রেল ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হবে। তবুও কবরস্থান–মসজিদে স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না।”
এরপর বেলা ১২টার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার বসার বার্তা পাঠান রেলের মহাব্যবস্থাপক সুবক্তগীন।
রেলওয়ে রানিং স্টাফ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল জিএম কার্যালয়ে প্রায় আধাঘণ্টা বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে কার্যালয়ের নিচে পূর্ব রেলের জিএম বলেন, “বিষয়টি আমরা অবগত আছি। রেলের মহাপরিচালক ও সচিবসহ সবাই বিষয়টি জানেন এবং পরিদর্শনও করেছেন। আপনাদের স্বার্থ অক্ষুণ থাকবে। কবরস্থান, মসজিদ ও মাজার থাকবে। আগামীকাল (বুধবার) গঠিত কমিটি গিয়ে স্থানগুলো ডিমার্কেশন করবে।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন রেলওয়ে কারিগরি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস. কে. বাড়ি, সিজিপিওয়াই সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হোসেন শহীদ, সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান শিশির।