Published : 08 Sep 2025, 01:48 PM
চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম শুরু করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।
সোমবার নগরীর ষোলশহর কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় বিদ্যানন্দের এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মেয়র চিকিৎসক শাহাদাত হোসেন।
সকালে তিনি নিজে রোগী দেখে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের এ চিকিৎসা কেন্দ্রের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
সংগঠনটি এর আগে প্লাস্টিকের বিনিময়ে খাবার সরবরাহসহ বিভিন্ন ব্যতিক্রমী কাজ করে আসলেও, চিকিৎসা সেবার বিষয়টি এবারই প্রথম বলে জানিয়েছেন সংগঠনের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জামাল উদ্দিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “মানুষের মৌলিক অধিকার চিকিৎসা। কিন্তু সেটা আমরা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পারছি না। বিদ্যানন্দের এ ধরনের উদ্যোগ দেশে নজির স্থাপন করবে। অর্থের অভাবে যারা চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছে এ উদ্যোগের কারণে তারা চিকিৎসা সেবা পাবে।”

তিনি বলেন, প্লাস্টিক দ্রব্যগুলো পঁচনশীল না হওয়ায় পরিবেশে ক্ষতি করে এবং নগরীর জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ এ প্লাস্টিক বর্জ্য। বিদ্যানন্দের এ ধরনের উদ্যোগের কারণে প্লাস্টিকের দূষণ থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়।।
বিদ্যানন্দের এ উদ্যোগে এই চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন তিনি।
বিদ্যানন্দের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জামাল উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, নগীর আরও কয়েকটি স্থানে তাদের পরিচালিত চিকিৎসা কেন্দ্রে সেবা দেওয়া হয়।
“কসমোপলিটন এলাকায় এ চিকিৎসা কেন্দ্রে মানুষ প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।”
এ হাসপাতালে গাইনি, চক্ষু, মেডিসিনের চিকিৎসক নিয়মিত থাকবেন এবং পাশাপাশি সেখানে ল্যাব সুবিধা ও ফার্মেসিও আছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যানন্দের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জামাল উদ্দিন।

তিনি বলেন, “চিকিৎসকের পরামর্শ পত্রে যে ধরনের ওষুধ এবং রোগ নির্ণয়ের কথা উল্লেখ করা হবে সেগুলো প্লাস্টিক পণ্যের মূল্যের বিনিময়ে হাসপাতাল থেকে গ্রহণ করা যাবে। যার কারণে সাধারণ লোকজন টাকা ছাড়া শুধু প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে চিকিৎসা সেবা পাবেন।”
জামাল বলেন, চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে চিকিৎসা সেবা প্রদানের বিষয়টি তাদের ‘পাইলট প্রকল্প’। এখানে সাড়া পাওয়া গেলে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে এ সেবা কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। জামাল বলেন, “প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে দেশব্যাপী খাদ্যপণ্য বিতরণের যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে সেখানে গত দুই বছরে তারা ২০০ মেট্রিকটন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে রিসাইকেলিং করেছেন।”
উদ্বোধনী দিনে তুলাতলী এলাকা থেকে মেয়ের সাথে চিকিৎসা নিতে আসেন রমিজা বেগম নামে ষাটোর্দ্ধ এক নারী।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বাতের ব্যাথার পাশাপাশি তার ডায়াবেটিস এবং চোখের সমস্যা আছে। টাকার জন্য নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারেন না। এবার ঘরের বিভিন্ন প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন এই হাসপাতালে।