Published : 23 Jul 2026, 09:41 PM
খুলনার লবণচরায় ডাকাতির সময় বাবাকে খুনের পর মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যায় দায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পাঁচ আসামির সাজা হত্যা মামলায় বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।
তবে ধর্ষণ মামলায় আগের মৃত্যুদণ্ডের রায় আংশিক সংশোধন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- লিটন, আজিজুর রহমান ওরফে পলাশ, আবু সাঈদ, সাইফুল ইসলাম ওরফে পিটিল ও শরিফুল ইসলাম। দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই এখন কনডেম সেলে অবস্থান করছেন।
২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনার লবণচরায় ডাকাতিকালে জোড়া খুনের এ ঘটনা ঘটে। বাবা ও মেয়েকে হত্যার পর আসামিরা দুইজনের লাশ সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে ফেলে দেয় বলে মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়।
ওই ঘটনার চার দিন পর নিহতের ছেলে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
খুনের চার বছর পর ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মোহা. মহিদুজ্জামান এ মামলার রায় দেন। এতে ডাকাতি ও হত্যা এবং ধর্ষণের পৃথক দুই মামলায় আসামিদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
হাই কোর্টে এ মামলার আপিলের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক, অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমীন সিদ্দিকী ও মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল।
রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তারেক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারায় দায়ের করা মূল মামলায় ডাকাতি, হত্যা ও ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় পাঁচ আসামির সবাইকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”
ধর্ষণ মামলায় সাজা কমার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ধর্ষণ মামলায় সাজা কমার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আদালত রায়ে বলেছেন যে, এখানে আসামিরা ধর্ষণ ও খুন করেছে তা নিঃসন্দেহে প্রমাণিত। তবে আইনে ৯(৩) ধারায় শুধু ধর্ষণের ফলে মৃত্যু হলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু এখানে ধর্ষণের ফলে মৃত্যু হয়নি, বরং ধর্ষণ ও হত্যা দুটি আলাদা অপরাধ হিসেবে ঘটেছে। তাই আদালত ৫ জন আসামির সবাইকে ধর্ষণের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।”
এর আগে গত সপ্তাহে দুই মামলার মধ্যে দণ্ডবিধির মামলাটি এই বেঞ্চের এখতিয়ার বহির্ভূত হওয়ায় সেটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে শুধু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাটির শুনানি করার কথা বলেছিল আদালত।
মামলার বাদী তখন দুটি মামলা একই ঘটনার উদ্ভব দেখিয়ে একসঙ্গে শুনানির আবেদন করেন। পরে প্রধান বিচারপতির বিশেষ সিদ্ধান্তে দুটি ডেথ রেফারেন্সের একসঙ্গে শুনানি শেষে এই পৃথক রায় আসে।
মামলা দুটি একত্রকরণ ও শুনানি প্রসঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তারেক বলেন, “আমাদের এখানে স্পেশালি ২০টি মামলা পাঠানো হয়েছিল, তার মধ্যে এই দুইটি মামলা ছিল। একটি ছিল দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারায় পিতার হত্যা মামলা (ডেথ রেফারেন্স ৭৭) এবং অন্যটি ছিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মেয়ের ধর্ষণ ও হত্যা মামলা (ডেথ রেফারেন্স ৭৬)।
“যেহেতু আমাদের বেঞ্চের এখতিয়ার ছিল শুধু নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা শোনার, তাই প্রথমে দণ্ডবিধির মামলাটি আউট অব লিস্ট করে দেওয়ার কথা হয়। পরবর্তীতে মামলার বাদী প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করি যে, দুটি মামলা একই ঘটনার, একই সাক্ষী এবং একই এভিডেন্স। আলাদা রায় হলে বৈপরীত্য দেখা দিতে পারে। প্রধান বিচারপতি আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি আবার এই বেঞ্চে পাঠান।”