২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামে কাতালগঞ্জে জলাবদ্ধতার কারণ জানলেন মেয়র, সমাধানের নির্দেশ

এবারের বর্ষায় নগরীর যেসব এলাকায় একাধিকবার জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে কাতালগঞ্জ, চকবাজার ও কাপাসগোলা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Aug 2025, 02:02 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:31 PM

চট্টগ্রাম নগরীর কাতালগঞ্জ এলাকায় জলাবদ্ধতার দুইটি কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন। 

বুধবার দুপুরে নগরীর কাপাসগোলা, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মুন্সিপুকুর পাড়, বাদুরতলা ও টুপিওয়ালা পাড়া এলাকার পানিপ্রবাহ পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন মেয়র। 

চলতি বর্ষা মৌসুমে নগরীর যেসব এলাকায় একাধিকবার জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে কাতালগঞ্জ, চকবাজার ও কাপাসগোলা। 

পরিদর্শনের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে মেয়রের কাছে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

পরিদর্শনে কাতালগঞ্জ-বৌদ্ধ মন্দির এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যার পেছনে দুটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। 

নগরীর হিজড়া খাল এবং বৌদ্ধ মন্দিরের পাশে হিজড়া খালের সাথে সংযুক্ত বড় নালাটিতে জলপ্রবাহ নিরবিচ্ছিন্ন না থাকাই জলাবদ্ধতার মূল করাণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় সেখানে। 

মেয়র শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (সিডিএ) হিজড়া খাল সংস্কার কার্যক্রম বেগবান করতে নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি খালের সাথে সংযুক্ত বড় নালাটি থেকে আরো মাটি তোলার জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) পরিচ্ছন্ন বিভাগকে নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শন শেষে শাহাদাত হোসেন বলেন, “নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হলে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ড্রেনেজ ব্যবস্থার পাশাপাশি ওয়াসা, সিডিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে খাল ও ড্রেনসমূহ যথাযথভাবে পরিষ্কার ও সংস্কার করতে হবে। 

“ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়। এ জন্য নগরবাসীর সহায়তা ও আন্তঃসংস্থাগত সমন্বয় জরুরি।”

তিনি বলেন, নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ড্রেন পরিষ্কার, পাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন এবং ভেঙে যাওয়া, ধসে পড়া ড্রেন মেরামত করা হচ্ছে। 

তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি ও মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

মেয়র বলেন, “শুধু সরকারের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না, নাগরিকদের নিজেদের দিক থেকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। ড্রেন ও খালে আবর্জনা না ফেলা এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। চসিক নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে, কিন্তু জনগণ সচেতন না হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।”

পরিদর্শনকালে মেয়রের একান্ত সচিব (সিনিয়র সহকারী সচিব) মো. জিল্লুর রহমান, বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম ও স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির নেতার মেয়র শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে ছিলেন। 

৬ ঘণ্টার বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরে তিন দিনের মাথায় ফের জলাবদ্ধতা

৩ ঘণ্টার বৃষ্টি: চট্টগ্রামে কোথাও কোমর, কোথাও হাঁটু পানি

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার পরের দিন সভা করে সমন্বয়ের তাগাদা

বর্ষায় ৩ মাস রাস্তা কাটতে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে মেয়রের মানা