Published : 28 Jul 2025, 02:10 PM
সকালের তিন ঘণ্টায় ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পর চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোনো সড়কে কোমর সমান পানি, আবার কোথাও হাঁটু পর্যন্ত পানি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও বাজারে দোকানের মধ্যে পানি ঢুকেছে।
ফলে ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী পথচারী, এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ ঘর থেকে পথে বের হওয়া ব্যক্তিরা।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস বলছে, সোমবার দিনভর বৃষ্টি ঝরবে এবং মঙ্গলবার থেকে পরের কয়েকদিনও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃষ্টিতে নগরীর কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, পাঁচলাইশ, প্রবর্তক মোড়, জিইসি, মুরাদপুর, একে খান গেইট, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, তিন পোলের মাথা, রিয়াজুদ্দিন বাজার, হেমসেন লেন, জুবিলী রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
এদিকে সকালে ভারি বৃষ্টির পর কয়েকটি এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় পরিদর্শন করেছেন মেয়র শাহাদাত হোসেন। পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
আবহাওয়া অফিসের আমবাগান কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সোমবার বেলা ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে ১০২ মিলিমিটার।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকে সারাদিন মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ চলতে থাকবে। আগামীকাল থেকে আরো দু-তিনদিন বৃষ্টি হবে। তবে তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে।”

কাতালগঞ্জ এলাকায় দেখা যায়, সড়কে প্রায় কোমর সমান পানি জমেছে। পথচারীরা ডিভাইডারের উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে চলেছেন। রিকশা ছাড়া ওই সড়কে তেমন যানবাহন নেই।
তিন পোলের মাথা এলাকায় সড়কের মাঝখানে প্রায় হাঁটুপানি জমেছে। পাশের গোলাম রসুল মার্কেটের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ে। অদূরে রিয়াজুদ্দিন বাজারের বেশ কিছু দোকানেও পানি ঢুকেছে সকালে।
কাপাসগোলার বাসিন্দা সামিউল হক বলেন, "প্রতি মাসে পানি উঠছে। ভারি বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকা ডুবে যায়। এত কাজ হচ্ছে তবু পানি কমে না।"
নগরীর কাপাসগোলা ও কাতালগঞ্জ এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “জলাবদ্ধতা ৫০ শতাংশ আমরা কমাতে পেরেছি। এটা সময়ের ব্যাপার। ৫৭টি খালের মধ্যে ৩৬টি খালের কাজ করছে সিডিএ। এরমধ্যে ২২টি খালের কাজ শেষ হয়েছে। ১৪টি খালের কাজ বাকি আছে। এর বাইরে আরো ২০টি খাল বাকি, সেগুলোও আমাদের সংস্কার করতে হবে।
“এই এলাকার মূল খাল হিজড়া খাল। এটা কাপাসগোলা থেকে নিয়ে কাতালগঞ্জ পর্যন্ত। এই খালের সংস্কার শেষ হলে এবং নালার কাজ শেষ হলে এই এলাকার সমস্যা সমাধান হবে।”
বর্ষাকাল শেষ হলে ওই এলাকার সড়ক উঁচু করার কাজ করা হবে বলে জানিয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, আগে বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, মির্জাপুল এলাকায় পানি উঠত। সেখানে নালার উপর মার্কেট ভেঙে দেয়ার পর অনেকটা কমেছে। আগ্রাবাদে বক্স কালভার্টের কাজ চলছে। সেটা শেষ হলে আগ্রাবাদ এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকটা কমবে বলে আশা করছেন মেয়র।
নগরীতে আগের মত সারাদিন পানি জমে থাকে না জানিয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “বৃষ্টি বন্ধের দেড়-দুই ঘণ্টা পর পানি চলে যাচ্ছে।”

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সোমবারের পূর্বাভাস বার্তায় বলা হয়, ভারতের মধ্য প্রদেশ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পশ্চিম উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হয়ে মৌসুমী বায়ুর অক্ষের সাথে মিলিত হয়েছে।
মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
এরআগে ৯ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৭০ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ডুবেছিল নগরীর বেশ কিছু এলাকা।
সেদিন সকালের অতি ভারি বৃষ্টিতে নগরীর জিইসি মোড়, তিন পোলের মাথা, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, হালিশহর, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, গোয়াল পাড়া ও ইপিজেড এলাকার কয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
তার আগে ১৮ জুন বেলা ১২টা সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিতেও ডুবেছিল নগরীর বিভিন্ন এলাকা।
নগরীর কয়েক দশকের পুরোনো জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর মেগা প্রকল্পটিসহ চারটি প্রকল্পের কাজ চলছে। এগুলো মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা।

এরমধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ৩৬টি খাল নিয়ে যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তার ব্যয় ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। আর মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের জুনে।
প্রকল্পের অগ্রগতি এখন পর্যন্ত ৮৪ শতাংশ। ৩৬টি খালের মধ্যে ২৫টি খালের কাজ শতভাগ শেষ। বাকিগুলোর মধ্যে ছয়টি খালের কাজ ৯০ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে। আর পাঁচটি খালের কাজ ৯০ শতাংশের নিচে।
নগরীর কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ ও মুরাদপুর এলাকা হিজড়া খাল ঘিরে। সিডিএ’র মেগা প্রকল্পের অধীনে খালটির খনন ও সংস্কার কাজ শেষ হয়নি এখনো।
অন্যদিকে আগ্রাবাদ এলাকায় জলাবদ্ধতার জন্য প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ বক্স কালভার্টটি আবর্জনা পূর্ণ থাকাকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। এখন সেটি পরিষ্কারের কাজ চলছে।