Published : 30 Jul 2025, 09:09 PM
বর্ষা মৌসুমের তিন মাস চট্টগ্রাম নগরীতে রাস্তা না কাটতে ওয়াসাকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
বুধবার নগরীতে বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
পরিদর্শনের সময় মেয়র বলেন, “ইতোমধ্যে মঙ্গলবার নগরীর জলাবদ্ধতা বিষয়ে সমস্ত সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে আমরা একসাথে বসেছি। আমরা কাজ করছি সমন্বিতভাবে।
“আমরা একটা কন্টিনিউয়াস মনিটরিং এর মধ্যে আছি। রাস্তা যেগুলো ভারি বর্ষণের কারণে খানাখন্দ হয়ে গেছে, সেগুলো আমরা মেরামত চালিয়ে যাব।”
তিনি বলেন, “এখানে জোয়ারের পানির একটা ফ্যাক্টর আছে। সেজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে আমরা বলেছি তারা যাতে স্লুইস গেটগুলো সেভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আর পাম্পিং হাউজের ব্যবস্থা করে।
“আরেকটা হচ্ছে আমাদের ওয়াসাকে বিভিন্ন জায়গায় না কাটার জন্য আমি নির্দেশনা দিয়েছি। তিন মাস বর্ষার সময় তারা যাতে এ ধরনের সড়ক কাটাকুটি না করে।”
‘চট্টগ্রাম মহানগরের পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন’ নামের প্রকল্পের কাজে ওয়াসা নগরীর হালিশহর এলাকায় ১৮ কিলোমিটার রাস্তা কাটছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার দাবি, সিটি করপোরেশনকে জানিয়েই তারা এই রাস্তা কাটছে। কাটার পর মেরামত করা হলেও ভারি বৃষ্টির কারণে তা টিকছে না।
এর আগে রোববার নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসার এই কাজের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
বুধবার নগরীর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও নালা পরিদর্শনে বেরিয়ে মেয়র বাটালি হিল, টাইগারপাস, বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাপাসগোলা, ফরিদার পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।
তিনি বলেন, “বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত নগরীর বিভিন্ন সড়ক সিটি করপোরেশনের ইঞ্জিনিয়ারদেরসহ সরেজমিনে দেখেছি। দেখে মনে হয়েছে, নগরীর বেশ কিছু নালা অনেক অপরিকল্পিতভাবেকরা হয়েছিল অতীতে।
“যার কারণে বৃষ্টির পানি ঠিকমত নিষ্কাশন হচ্ছে না। বর্ষাকালে আমাদের প্ল্যান নালাগুলোকে আমরা কন্টিনিউয়াস ক্লিন রাখব। এইজন্য এই তিন মাস নালা সংস্কারের কাজ চলবে। আর খাল সংস্কারের কাজ তো চলমান আছেই।”
পরিদর্শনের সময় ফরিদার পাড়ার একটি পাঁচতলা ভবনের জানালা থেকে একজন বাসিন্দা নালায় ময়লা ফেললে তাৎক্ষণিকভাবে মেয়র নিজেই মোবাইল ফোনে ভবন মালিককে কল করে সতর্ক করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করলে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।
মেয়র বলেন, “বৃষ্টির সময় শহরের কিছু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, তার অন্যতম কারণ হচ্ছে নালায় ময়লা ফেলা ও ড্রেনেজ লাইনের প্রতিবন্ধকতা। এ সমস্যা সমাধানে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি। নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে অভিযান ও প্রচারণা আরও জোরদার করা হবে।
“নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে শুধু সিটি করপোরেশনের নয়, নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। আমরা উন্নয়ন কাজ করছি, কিন্তু নাগরিকদের যদি সচেতন না করি, তাহলে এই কাজগুলোর ফল ভোগ করা যাবে না। এজন্য সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে।”
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফরহাদুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাতুল করিম, শাফকাত আমিনসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা পরিদর্শনের সময় মেয়রের সঙ্গে ছিলেন।