Published : 22 Sep 2025, 08:46 PM
চট্টগ্রামের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আরামিট পিএলসির দুই এজিএম মো. আব্দুল আজিজ এবং উৎপল পাল।
সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের আদালতে এই দুজন জবানবন্দি দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌঁসুলি মো. মোকাররম হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ আরামিট পিএলসির দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা বলেছেন, বিদেশে অর্থসম্পদ পাচারের বিষয়টি তারা জানতেন।
“এছাড়া দুদকের অভিযানে রোববার ভোরে কর্ণফুলী এলাকা থেকে যেসব নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়েও তারা জানতেন বলে স্বীকার করেছেন।”
অন্যদিকে রোববার চট্টগ্রামের একটি আদালত সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারির আদেশ দেয়।
দুদকের করা যে মামলায় জাবেদ ও রুকমীলা আসামি, সেই মামলায় এই দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয় গত বুধবার।
দুদকের কৌঁসুলি মো. মোকাররম হোসেন বলেন, “রেড নোটিস জারি সংক্রান্ত আদেশটি ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।”
রোববার চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ মহানগর বিশেষ হাকিম মো.আবদুর রহমানের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুদক আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করে।
রোববার ভোরে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এলাকায় জাবেদ ও তার স্ত্রীর গাড়ি চালকের বাড়িতে অভিযান চালায় দুদক।
সেখান থেকে '২০ বস্তা' নথি উদ্ধারের কথা জানিয়ে দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মশিউর রহমান জানান, এসব নথিতে ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সম্পদের তথ্য আছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দুবাই ও সিঙ্গাপুরে তার সম্পদের তথ্য পেয়েছিল দুদক।
তার আগে ২৪ জুলাই ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তার স্ত্রী ও ভাইবোনসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক। সেই মামলাতেই ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আদেশ আসে।
দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মশিউর রহমান বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেছিলেন।
মামলায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী ও ইউসিবিএল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান (৪৬), ব্যাংকের পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী (৪৬) ও বোন রোকসানা জামান চৌধুরী (৫৬) ছাড়াও ইউসিবিএল ব্যাংক ও আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়।
ওই মামলার আসামিদের মধ্যে আরামিট পিএলসির এজিএম মো. আব্দুল আজিজ এবং তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়ায় আরামিট পিএলসির আরেক এজিএম উৎপল পালকে গত বুধবার রাতে নগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান।
গ্রেপ্তার দুই আসামি আব্দুল আজিজ ও উৎপল করকে ৫ দিনের রিমান্ডে পায় দুদক। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার ভোরের অভিযান চালানো হয়।
২৪ জুলাই দুদকের করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপভূক্ত প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীকে মালিক সাজিয়ে নাম সর্বস্ব ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি কোম্পানির কাগজ তৈরি করে গম, মটর, হলুদ, ছোলা আমদানির নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয় ইউসিবিএল ব্যাংক চট্টগ্রামের পোর্ট শাখা থেকে।
সে টাকা আরামিট গ্রুপের অন্য কর্মচারীদের নামে সৃষ্ট আলফা ট্রেডার্স, ক্ল্যাসিক ট্রেডিং, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামে আলাদা চারটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসেবে স্থানান্তর করা হয়। পরে ওই টাকা পাচার করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ইউসিবিএল ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ (৫৫), আফরোজা জামান (৪৮), সৈয়দ কামরুজ্জামান (৬১), মো. শাহ আলম (৬২), মো. জোনাইদ শফিক (৬৪), অপরূপ চৌধুরী (৬৫), তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান (৬৬), ইউনুছ আহমদ (৭৯), হাজী আবু কালাম (৭৯), নুরুল ইসলাম চৌধুরী (৬২) এবং সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর (৭৭) ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরী (৬৪)।
ব্যাংকটির সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন- মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ (৫১), আবদুল হামিদ চৌধুরী (৫০), আবদুর রউফ চৌধুরী, জিয়াউল করিম খান (৪৬), মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল (৫৮), মীর মেসবাহ উদ্দীন হোসাইন (৬২) ও বজল আহমেদ বাবুল (৫৬)।
জাবেদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন- মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরী (৫১), কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম (৬৬), মোহাম্মদ মিছাবাহুল আলম (৫০), আব্দুল আজিজ (৩৯), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (৫৪), মেহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী (৪৮), ইয়াছিনুর রহমান (৪৩), ইউছুফ চৌধুরী (৪৫) ও সাইফুল ইসলাম (৪৫)।
চট্টগ্রামের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি প্রথম মেয়াদে ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং পরের মেয়াদে এক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক।