Published : 15 Jun 2026, 09:46 PM
রাজধানী ঢাকার মত চট্টগ্রাম নগরীতে যানজট কমাতে ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক ‘স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
সোমবার বিকেলে নগর ভবনে এক সভায় এই কাজের লক্ষ্যে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হয়েছে বলে তথ্য দেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
এর আগে গত ৭ মে থেকে ঢাকার বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে পরীক্ষামূলকভাবে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। এআইভিত্তিক ক্যামেরাগুলোতে সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছে।
সভায় মেয়র বলেন, “চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের যানজট, ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা এবং সড়কে আইন অমান্যের প্রবণতা কমাতে এআইভিত্তিক এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
“প্রকল্পটির আওতায় নগরীর ৫৬টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশন ও ব্যস্ত ট্রাফিক জোনকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে। এসব স্থানে স্মার্ট সিগন্যাল, ট্রাফিক ফ্লো মনিটরিং ক্যামেরা, আইনলঙ্ঘন শনাক্তকারী ক্যামেরা, নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, রেড সিগন্যাল ডিটেক্টর এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হবে।
“এতে যানজট কমবে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং নাগরিকদের দুর্ভোগ হ্রাস পাবে। চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত ট্রাফিক করিডোর এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। ফলে পুরো শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।”
সভায় একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা চট্টগ্রাম নগরীর জন্য প্রস্তুতকৃত দুটি প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
এ সময় মেয়র চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় ১৩০ কিলোমিটার সড়কে সৌরবিদ্যুৎ চালিত এলইডি সড়কবাতি, ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪৫ কোটি টাকা।
সিটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম ও আবু সাদাত তৈয়ব সভায় উপস্থিত ছিলেন।