Published : 08 Jul 2026, 05:27 PM
টানা অতি ভারি বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের ঘটনার মধ্যে চট্টগ্রামের পাহাড় ও এর পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে নগরীর চশমা হিল এলাকায় পাহাড় ধসে শিশুর মৃত্যুর পর ওই এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন এ আহ্বান জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ষোলশহরের শমসের পাড়া এলাকায় রেললাইনে পানি জমে থাকার স্থান পরিদর্শনে গিয়েও একই কথা বলেছেন।
বন্দর নগরীতে টানা চতুর্থ দিনের মত অতি ভারি বর্ষণ চলছে। মঙ্গলবার বেলা ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার রেকর্ড বৃষ্টির পর নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা হয়েছে।
বুধবার বেলা ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে ১৭৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সে হিসেবে শেষ ৪৮ ঘণ্টায় ৫৯১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
এমন ভারি বর্ষণ চলার মধ্যে বুধবার দুপুরে চশমা হিল ২ নম্বর গলির বাবু কলোনিতে পাহাড় ধসে সামিয়া নামের ১২ বছরের এক শিশুর প্রাণ যায়।
ওই কলোনিতে পাহাড়ের পাদদেশে ছয়টি ঘর ছিল। তার মধ্যে ৩ ও ৪ নম্বর ঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। সামিয়া ৩ নম্বর ঘরে ছিলেন বলেন পুলিশ জানিয়েছে।
পাহাড় লাগোয়া টিনশেড সেমিপাকা সেই ঘরের ভেতর ধসে পড়া মাটি ঢুকে যায়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা টিনের চালা কেটে ভেতরে ঢুকে মাটি সরিয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।
কাছাকাছি সময়ে জঙ্গল ছলিমপুরে আশরাফুল ইসলাম নামে ১০ মাসের এক শিশুর প্রাণ যায়। সে ওই এলাকার মঈনউদ্দিনের ছেলে। আগের দিন মঙ্গলবার নগরীর রহমান নগর এলাকায় ঘরের ওপর দেয়াল চাপা পড়ে মারা যান শফিকুল ইসলাম নামে ৩২ বছরের এক যুবক।

চশমা হিলে শিশুর মৃত্যুর পর সেখানে গিয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বারবার মাইকিং, প্রচার-প্রচারণা ও সরাসরি অনুরোধ করে আসছে।
“এরপরও অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে অবস্থান করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সাময়িক কষ্ট হলেও সবাইকে নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা উচিত নয়।”
আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন সবসময় পাশে আছে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
“প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন, গুজবে কান দেবেন না এবং পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন। সচেতনতা ও সতর্কতাই পারে প্রাণহানি রোধ করতে।”
চশমা হিলে শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে মেয়র বলেন, “ইতোমধ্যে এখানে একটি শিশু মারা গেছে। সে আমাদের আহমদ হোসেন সিটি করপোরেশন বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পাশেই আরবান প্রাইমারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি খোলা রাখা হয়েছে। আপনারা দয়া করে সেখানে চলে যান।

“আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান কষ্ট করে। একটা দুর্ঘটনা হয়েছে আরো হতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় বসবাস করবেন না। চলে আসুন, অন্যথায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোর করে নিয়ে যাবে।”
এর আগে ষোলশহরের শমসের পাড়ায় রেল প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে রেললাইনে জমে থাকা পানি দেখতে যান সিটি মেয়র ও জেলা প্রশাসক।
সেখানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “আমরা মাইকিং করেছি এবং তাদের সতর্ক করেছি। প্রত্যেক জায়গায় আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
“তাদের বলছি আশ্রয় কেন্দ্রে আসুন। আমি নিজেও গিয়েছি। তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের পুরো টিম ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী কাজ করছে।”
২০০৭ সালে ভারি বর্ষণের ঘটনা তুলে ধরে সেখানে মেয়র বলেন, “ওই সময় এমন ৪০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে ১২৭ জন মারা গিয়েছিল। এই জায়গায় আমাদের অত্যন্ত সচেতন হতে হবে। জেলা প্রশাসন ১২টি ও আমরা ২০টি স্কুলে আশ্রয়কেন্দ্র করেছি।
“ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে লোকজনকে নিয়ে আসা হচ্ছে। গতকাল (মঙ্গলবার) ২০০ জনকে সরানো হয়েছে। ‘মামা ভাগিনা পাহাড়’ (টাইগার পাস) থেকেও লোকজনকে সরানো হয়েছে। মানবিক বিপর্যয় যাতে না হয় সেটাই দেখার বিষয়।”